| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মৌলিক অধিকার নাগরিক…’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ২০২৬ – নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মৌলিক অধিকার নাগরিক জীবনের বিকাশ ও ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য। একমাত্র রাষ্ট্রঘোষিত জরুরি অবস্থার সময় কিংবা সংবিধান স্থগিত ও সংশোধন করা ব্যতীত কোনো সরকারই মৌলিক অধিকার খর্ব করতে পারে না। মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে প্রকৃতিগত পার্থক্য খুব কম। অনেক মৌলিক অধিকারই জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারে স্থান পেয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ প্রয়োজনবোধে নিজ সুরক্ষায় আগ্নেয় অস্ত্র রাখতে বা বহন করতে পারে।
আইনগত অধিকার বলতে সেসব সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায় যা রাষ্ট্র কর্তৃক অনুমোদিত এবং যার পেছনে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সমর্থন বিরাজ করে। যেমন- সম্পত্তির অধিকার। আইনগত অধিকার ভঙ্গ করলে শাস্তি পেতে হয়।
উদ্দীপকে মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার- এই দুটি অধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মৌলিক অধিকার হলো নাগরিকের ব্যক্তিত্ব ও জীবন বিকাশের জন্য সংবিধানে উল্লিখিত সেসব সুযোগ-সুবিধা যা সরকার কর্তৃক অলঙ্ঘনীয়। অন্যদিকে, মানবাধিকার হলো মানুষ হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জন্মগত অধিকার। মৌলিক অধিকারের প্রধান উৎস হলো রাষ্ট্রের সংবিধান, কিন্তু মানবাধিকারের উৎস হলো জাতিসংঘ। মৌলিক অধিকারের পরিধি নির্দিষ্ট রাষ্ট্রের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, যেখানে মানবাধিকারের পরিধি বিশ্বব্যাপী এবং এটি অসীম। এছাড়া মৌলিক অধিকার যত সহজে কার্যকর করা যায়, মানবাধিকার তত সহজে কার্যকর করা সম্ভব হয় না।
অতএব বলা যায়, মৌলিক অধিকারের রক্ষক হিসেবে রাষ্ট্র ও সংবিধান কাজ করে এবং মানবাধিকারের রক্ষক হিসেবে কাজ করে জাতিসংঘ।
উদ্দীপকের আলোকে 'শাসকের লক্ষ্য হবে শাসিত জনগণের কল্যাণ সাধন'-বিষয়টি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
রাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্যই হলো নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের সর্বজনীন কল্যাণ সাধন করা। অধিকার হলো সমাজ ও রাষ্ট্র স্বীকৃত কতগুলো সুযোগ- সুবিধার সমষ্টি 'যা ব্যতীত ব্যক্তির পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়। শাসকের
দায়িত্ব হলো এই অধিকারগুলো প্রদান ও সংরক্ষণ করা, কারণ লাস্কির মতে প্রত্যেক রাষ্ট্রই পরিচিত হয় তার প্রদত্ত অধিকার দ্বারা। উদ্দীপকে উল্লিখিত মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে শাসক মূলত জনগণের জীবনের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা রক্ষা করেন।
জনগণের কল্যাণ সাধনের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা শাসকের অপরিহার্য কর্তব্য। সুশাসনের মাধ্যমে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়, যা মানবাধিকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি রাষ্ট্র বা শাসক জনগণের কল্যাণে ব্যর্থ হয় বা জনগণকে অবহেলা করে, তবে জনগণের অধিকার রয়েছে সেই শাসনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার।
সুতরাং, একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রে শাসকের মূল লক্ষ্যই থাকে বিভিন্ন অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে শাসিত জনগণের - জীবনকে সুখী ও সুন্দর করে তোলা।