মৌলগুলোকে তাদের পারমাণবিক ভর অনুযায়ী সাজালে প্রতি অষ্টম মৌলসমূহের সাথে ধর্মের মিল দেখা যায়। যা পর্যায় সারণির 'অষ্টক তত্ত্ব' নামে পরিচিত।
কোনো মৌল অপর কোনো মৌলের সাথে যুক্ত হওয়ার ক্ষমতাকে যোজনী বলে। যদি কোনো মৌল একাধিক যোজনী প্রদর্শন করে তখন তাকে পরিবর্তনশীল যোজনী বলে। মৌলের সর্বশেষ কক্ষপথের উপস্তরসমূহের মধ্যে ইলেকট্রন পুনর্বিন্যাসের কারণে বিজোড় ইলেকট্রন সংখ্যা পরিবর্তিত হয়। তখন মৌলসমূহ পরিবর্তনশীল যোজনী প্রদর্শন করে।
আয়রন ক্লোরিনের সাথে একত্রিত হয়ে ও যৌগ গঠন করে। এরূপ অবস্থায় আয়রনের যোজনী যথাক্রমে 2 ও 3 হয়। অর্থাৎ আয়রন পরিবর্তনশীল যোজনী প্রদর্শন করে।
উদ্দীপকের 'R' ও 'T' মৌল দুইটি তৃতীয় পর্যায়ের গ্রুপ-15 ও 17 তে অবস্থিত। সুতরাং মৌলদ্বয় যথাক্রমে ম্যাগনেশিয়াম ও ক্লোরিন। মৌলদ্বয়ের সমন্বয়ে উৎপন্ন অণুর ( ) ভর নিম্নে নির্ণয় করা হলো-
এর আপেক্ষিক আণবিক ভর
এর একটি অণুর ভর
অতএব, অণুর ভর ।
উদ্দীপকের ও এবং ও মৌলসমূহ যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের গ্রুপ-2 ও 17 তে অবস্থিত। আর এই মৌলসমূহ হলো , ও , । নিম্নে মৌলগুলোর পারমাণবিক আকারের ক্রম তুলনা করা হলো-
আমরা জানি, একই পর্যায়ের বাম হতে ডানে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে মৌলের পারমাণবিক আকার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। কারণ বাম থেকে ডানে মৌলের নিউক্লিয়াসে ক্রমান্বয়ে একটি করে প্রোটন বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং বহিঃস্থ শক্তিস্তরে অনুরূপভাবে ইলেকট্রন সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে কিন্তু ইলেকট্রনের স্তরের কোনো পরিবর্তন হয় না। ফলে বহিঃস্থ ইলেকট্রন নিউক্লিয়াসের দিকে বেশি আকৃষ্ট হয় এবং সেই সঙ্গে পারমাণবিক ব্যাসার্ধ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পায়। আবার পর্যায় সারণির একই গ্রুপে অবস্থিত মৌলসমূহের পারমাণবিক আকার পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে উপর থেকে নিচে বৃদ্ধি পায়। কারণ একই গ্রুপে উপর থেকে নিচে পারমাণবিক সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরমাণুর শক্তিস্তর বৃদ্ধি পায়। ফলে পরমাণুর আকার বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং বেরিলিয়াম, ক্লোরিন ও ম্যাগনেশিয়াম, ক্লোরিন মৌলসমূহের পারমাণবিক আকারের ক্রমকে নিম্নরূপে উপস্থাপন করা যায়- |
