| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১ – পরিপাক ও শোষণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
যে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল খাদ্যবস্তু বিভিন্ন এনজাইমের সহায়তায় ভেঙে জীবদেহের বিপাক ক্রিয়ায় ব্যবহারযোগ্য সরল দ্রবণীয় ও শোষণযোগ্য অবস্থায় পরিবর্তিত হয় তাই পরিপাক ।
যে গ্রন্থি একই সাথে বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে কাজ করে তাকে মিশ্রগ্রন্থি বলে। যেমন : অগ্ন্যাশয়, এটা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহ্যানস নামক কোষগুচ্ছ থেকে বিভিন্ন হরমোন যেমন- ইনসুলিন, গ্লুকাগন' ক্ষরণ করে। আবার বহিঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে বিভিন্ন পরিপাককারী এনজাইম যেমন : ট্রিপসিন, লাইপেজ ইত্যাদি ক্ষরণ করে।
উদ্দীপকের "B" অঙ্গটি হলো পাকস্থলি। পাকস্থলি হতে HCI এসিড নিঃসৃত হয় যা নিম্নলিখিত কাজ সম্পন্ন করে।
১. পাকস্থলির অন্তর্গাত্র থেকে নিঃসৃত পুরু মিউকাস স্তর HCI এর আক্রমণ রোধকারী ভৌত প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে।
২. পাকস্থলির অন্তর্গাত্র থেকে ক্ষরিত বাইকার্বনেট প্রকৃতপক্ষে একটি বেস এবং এটি HCI কে প্রশমিত করে।
৩. এনজাইম পেপসিন প্রথমে পেপসিনোজেন নামক প্রোএনজাইম হিসেবে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ক্ষরিত হয়। HCl এর সংস্পর্শে এলে এটি সক্রিয় পেপসিনে পরিণত হয়।
৪. পাকস্থলির অন্তঃস্থ এপেথেলিয়ামের কোষগুলো ঘন সংলগ্ন থাকায় ও দৃঢ় সংবদ্ধ থাকায় HCI কিছুতেই এপিথেলিয়ামের ক্ষতি করতে পারে না।
উদ্দীপকের ‘A’ অঙ্গটি হলো যকৃত । এটি মানবদেহের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। যকৃতে নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। যকৃত দেহের সঞ্চয়ী ও বিপাকীয় ভূমিকা পালন করে বলে যকৃতকে জৈব গবেষনাগার বলা হয়৷ যকৃতে প্রায় পাচ শতাধিক জৈবনিক কাজ সম্পন্ন করে বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা ৷ নিচে যকৃতের বিপাকীয় ও সঞ্চয়ী ভূমিকা বর্ণনা করা হলো:
যকৃতের বিপাকীয় ভূমিকা:
১. শর্করা বিপাক : যকৃত গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেন এবং ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে।
২. প্রোটিন বিপাক : যকৃত ডিঅ্যামিনেশন এবং প্লাজমা প্রোটিন উৎপাদনের মাধ্যমে প্রোটিন বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৩. ফ্যাট বিপাক : যকৃত অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটকে ফ্যাটে রূপান্তর করে এবং রক্ত থেকে ক্লোলেস্টেরল সরিয়ে ফ্যাট বিপাকে অংশগ্রহণ করে।
৪ তাপ উৎপাদন : যকৃতের অভ্যন্তরে নানা ধরনের বিক্রিয়া সংঘটিত হওয়ায় এখানে প্রচুর তাপ উৎপাদিত হয় । এই তাপ দেহের সমগ্র সঞ্চালিত হয়ে তাপমাত্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখে ৷
৫. টক্সিন বা বিষ অপসারণ : যকৃত কোষের অভ্যন্তরে জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এই বিষ প্রশমিত করে।
যকৃতের সঞ্চয়ী ভূমিকা :
১. প্লাইকোজেন সঞ্চয় : গ্লুকোজ যকৃতে গ্লাইকোজেন হিসেবে সঞ্চিত থাকে।
২. রক্তসঞ্চয় : যকৃত রক্তের ভাণ্ডার হিসাবে কাজ করে। ১৫০০ সি.সি. রক্ত এতে জমা থাকে প্রয়োজনে রক্তের অভাব পূরণ করে।
৩. ভিটামিন সঞ্চয় : যকৃত স্নেহে দ্রবণীয় ভিটামিনসমূহ (A, D, E, K) পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (B ও C) নিকোটিনিক অ্যাসিড (B12) এবং ফলিক অ্যাসিড সঞ্চয় করে।
৪. চর্বি ও অ্যামিনো অ্যাসিড সঞ্চয় : শর্করাকে চর্বিতে পরিণত করে এবং অ্যামিনো অ্যাসিড ও চর্বি সঞ্চয় করে যকৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫. খনিজদ্রব্য সঞ্চয় : সুস্থ দেহের জন্য প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ: যেমন. কপার জিংক, কোবান্ট, মলিবডেনাম প্রভৃতিসহ আয়রন ও পটাশিয়াম যকৃতে সঞ্চিত থাকে।