বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত কারণে ক্লোরোফিল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ফলে উদ্ভিদের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াই হলো ক্লোরোসিস।
রিকেটস রোগ ভিটামিন 'ডি' এর অভাবে হয়। দেহের হাড়গুলো দুর্বল হয়। গিঁট ফুলে যায়, পায়ের হাড় বেঁকে যায় ইত্যাদি। রিকেটস রোগ থেকে মুক্তি পেতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। হাঙ্গরের তেলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'ডি' পাওয়া যায়। যা আমাদের দেহের ভিটামিন 'ডি' এর অভাব পূরণ করে রিকেটস রোগ থেকে আরোগ্য পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চিত্রের A চিহ্নিত অঙ্গটি হলো পাকস্থলী। পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত রস খাদ্য পরিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিচে পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত রসের সাহায্যে পরিপাক ক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো-
পাকস্থলী থেকে পেপসিন নিঃসৃত হয়। পেপসিন এক ধরনের এনজাইম যা আমিষকে ভেঙে দুই বা ততোধিক অ্যামাইনো এসিড দিয়ে তৈরি যৌগ পলিপেপটাইড তৈরি করে। পাকস্থলীতে খাদ্য আসার পর এর অন্তঃপ্রাচীরের গ্যাস্ট্রিকগ্রন্থি থেকে গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরিত হয়। গ্যাস্ট্রিক রসের হাইড্রোক্লোরিক এসিড খাদ্যকে জীবাণুমুক্ত করার পাশাপাশি নিষ্ক্রিয় পেপসিনোজেন এনজাইমকে সক্রিয় পেপসিন-এ পরিণত করে এবং পাকস্থলীতে পেপসিনের সুষ্ঠু কাজের জন্য অম্লীয় পরিবেশ সৃষ্টি করে। এই অম্লীয় পরিবেশে পেপসিন এনজাইম আমিষকে ভেঙে দুই বা ততোধিক অ্যামাইনো এসিড গঠিত পলিপেপটাইড এ পরিণত করে। পাকস্থলীর অনবরত সংকোচন প্রসারণের ফলে এবং এনজাইমের ক্রিয়ায় খাদ্য মিশ্র মন্ডে পরিণত হয়। একে পাকমণ্ড বলে। স্যুপের মতো এই মণ্ড পরবর্তীতে কপাটিকা ভেদ করে ক্ষুদ্রান্ত্রে প্রবেশ করে।
উদ্দীপকে প্রদত্ত চিত্রে B চিহ্নিত অংশটি হলো অগ্ন্যাশয়।
অগ্ন্যাশয় একাধারে পরিপাকে অংশগ্রহণকারী এনজাইম ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসৃত করে। অর্থাৎ বহিঃক্ষরা ও অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির মতো কাজ করে। অগ্ন্যাশয় রস অগ্ন্যাশয় নালির মাধ্যমে যকৃৎ-অগ্ন্যাশয়নালি দিয়ে ডিওডেনামে প্রবেশ করে। অগ্ন্যাশয় থেকে খাদ্য পরিপাকের জন্য অগ্ন্যাশয় রস নিঃসৃত হয়। অগ্ন্যাশয় রসে ট্রিপসিন, লাইপেজ ও অ্যামাইলেজ নামক উৎসেচক থাকে। এসব এনজাইম শর্করা, আমিষ ও স্নেহজাতীয় খাদ্যের পরিপাকে সহায়তা করে।
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের একটি অংশ অতি প্রয়োজনীয় কিছু হরমোন নিঃসরণ করে যেমন- গ্লুকাগন ও ইনসুলিন। গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় কাজে এ হরমোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই আলোচনা থেকে বলা যায় যে, অগ্ন্যাশয় দেহের পরিপাক ও রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
