আর্কিগোনিয়াম বা স্ত্রীজনন অঙ্গবিশিষ্ট উদ্ভিদই হলো আর্কিগোনিয়েট।
মানুষ Homo গণের sapiens প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। এ প্রজাতির বৈশিষ্ট্য হলো- এদের চওড়া ও খাড়া কপাল, খুলির হাড় Homo গণের অন্য প্রজাতির তুলনায় পাতলা এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্নত। এসব বৈশিষ্ট্য মানুষের বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ বলে মানুষকে sapiens প্রজাতির অন্তর্ভক্ত করা হয়েছে।
এই উদ্দীপকে উল্লেখিত 'P' দ্বারা ফানজাই রাজ্যের জীবকে বুঝানো হয়েছে। রাজ্যটি সুপার কিংডম-২ এর অন্তর্ভুক্ত। নিচে ফানজাই রাজ্যের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-
১. এদের অধিকাংশই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী।
২. দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত।
৩. এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত।
৪. কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত।
৫. খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে।
৬. ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত।
৭. হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে।
উপর্যুক্ত বৈশিষ্ট্যের কারণেই জীবটিকে ফানজাই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'Q' হলো সপুষ্পক উদ্ভিদ এবং 'R' ভক্ষণকারী জীব অর্থাৎ প্রাণী। 'Q' এবং 'R' যথাক্রমে প্লানটি এবং অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। উক্ত জীব দুটিকে আলাদা রাজ্যে রাখার কারণ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
প্লানটি রাজ্যের জীবসমূহ প্রধানত স্থলজ, তবে অসংখ্য জলজ প্রজাতি আছে। এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণারী উদ্ভিদ। এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে। এদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এদের ভ্রূণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়। এদের যৌন জনন অ্যানাইসোগ্যামাস। এরা আর্কিগোনিয়েট অর্থাৎ স্ত্রীজনন অঙ্গবিশিষ্ট এবং সপুষ্পক উদ্ভিদ। এস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণে এরা প্লানটি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে, অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীবসমূহ সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ও বহুকোষী প্রাণী। এদের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষগহ্বর নেই। প্লাস্টিড না থাকায় এরা হেটারোট্রোফিক অর্থাৎ পরভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে, দেহে জটিল টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। পরিণত ডিপ্লয়েড পুরুষ এবং স্ত্রী প্রাণীর জননাঙ্গ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপন্ন হয়। ভ্রূণ বিকাশকালীন সময়ে ভ্রূণীয় স্তর সৃষ্টি হয়। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ বৈশিষ্ট্যগত ভিন্নতার কারণেই প্লানটি এবং অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীবগুলো ভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করছে।
পরিশেষে বলা যায়, শ্রেণিবিন্যাসের রীতি অনুযায়ী বৈশিষ্ট্যের বিচারে - জীবদেরকে বিভিন্ন রাজ্যে স্থান দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে উন্নত বৈশিষ্ট্যের জীবদের সবসময় শ্রেণিবিন্যাসের নিচের রাজ্যে স্থান দেওয়া হয়।
