| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মস্তিষ্কে অবস্থিত সবচেয়ে…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭ – সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

মস্তিষ্কে অবস্থিত সবচেয়ে ছোট শক্তিশালী গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থিটি দেহের অন্যান্য অংশে অবস্থিত গ্রন্থিগুলোর ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৮
সাইন্যাপস হলো দুটি নিউরনের সংযোগস্থল।
দর্শনীয় বস্তু ও লেন্সের মধ্যকার দূরত্বের পরিবর্তন না করেই সিলিয়ারি পেশি ও সাসপেন্সরি লিগামেন্টের সংকোচন বা প্রসারণে ও লেন্সের বক্রতার তথা ফোকাস দূরত্বের পরিবর্তন ঘটিয়ে যেকোন দূরত্বে অবস্থিত বস্তুকে সমান স্পষ্ট দেখার জন্য চোখে যে বিশেষ ধরনের পরিবর্তন ঘটে সে প্রক্রিয়াকে উপযোজন বলে। মানুষসহ বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণীতে উপযোজন বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ছোট গ্রন্থিটি হলো পিটুইটারি গ্রন্থি, গ্রন্থিটি ছোট হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রন্থটি হতে নিঃসৃত হরমোনের সংখ্যা এবং বিভিন্ন গ্রন্থির ওপর এসব হরমোনের প্রভাব বিবেচনা করে একে প্রধান গ্রন্থি বা প্রভু গ্রন্থি বলা হয়। পিটুইটারি থেকে বিশেষ ধরনের ট্রপিক হরমোন ক্ষরিত হয় যা অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকে নিজ নিজ হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপ্ত করে। যেমন- থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন থাইরয়েড গ্রন্থিকে থাইরয়েড হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপ্ত করে। লুটিনাইজিং হরমোন (LH) নারীদেহে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন সংশ্লেষে উদ্বুদ্ধ করে। পুরুষে টেস্টোস্টেরন ক্ষরণেও LH উদ্দীপ্ত করে। ফলিকল উদ্দীপক হরমোন ডিম্বাশয়ের ফলিকলের পূর্ণতা দান এবং ইস্ট্রোজেন সংশ্লেষে উদ্দীপনা যোগায়। প্রোল্যাকটিন হরমোনের প্রভাবে নারীদেহে স্তনগ্রন্থির বৃদ্ধি হয়। এছাড়াও এটি দুগ্ধ উৎপাদন, অনাক্রম্যের প্রতি সাড়া ও রক্তকণিকা সৃষ্টিতে অবদান রাখে। অ্যাড্রিনোকর্টিকো ট্রিপিক হরমোন অ্যাড্রেনাল কট্রেক্সকে গ্লুকোকটিকয়েড নামক স্টেরয়েড হরমোন ক্ষরণে উদ্দীপনা যোগায়। ভ্যাসোপ্রেসিন বৃক্কে পানি শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও অক্সিটোসিন জরায়ু কোষের সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও অন্যান্য অনেক হরমোন ক্ষরণ করে বিভিন্ন কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে।
উপরোল্লিখিত পর্যালোচনার মাধ্যমে এটি স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, পিটুইটারি গ্রন্থি ছোট হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রকার হরমোন ক্ষরণের মাধ্যমে অন্যান্য গ্রন্থিকে উদ্দীপ্ত করে দেহে সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্দীপকের আলোকে বিভিন্ন গ্রন্থি হতে নিঃসৃত হরমোনের অস্বাভাবিক ক্ষরণ মানুষের জন্য অমঙ্গলজনক বা অনিয়ন্ত্রিত। কেননা অস্বাভাবিক বা অনিয়ন্ত্রিত হরমোন ক্ষরণ চলতে থাকলে দেহে বিভিন্ন জটিলতা তথা বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে, যা কখনই মানুষের জন্য মঙ্গলজনক নয়।
শৈশবকালে পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত STH হরমোন অধিক ক্ষরিত হলে মানবদেহের দৈর্ঘ্য অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়ে দৈত্যত্ব রোগ হয়। শিশুকালে পরিমিত পরিমাণে GH ক্ষরিত না হলে শিশুদের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়ে বামনত্ব রোগ হয়। বয়ষ্ক অবস্থায় অতিরিক্ত GH এর ফলে মানুষের হাত ও মুখমণ্ডলের অস্থি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়ে গরিলার মতো রূপ ধারণ করে। . এ অবস্থার নাম গরিলাত্ব। বয়স্কদের থাইরক্সিন নিঃসরণ কম হলে চামড়া পুরু, খসখসে ও লোমহীন, গলার স্বর মোটা, চোখ-মুখ ফোলাফোলা দেখায়। এ রোগকে মিক্সিডিমা বলে। শিশুদের থাইরক্সিন নিঃসরণ কম হলে বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, জড় বুদ্ধি সম্পন্ন ও অলস প্রকৃতির হয়। এ রোগের নাম ক্রিটিনিজম। T₁ বা থাইরক্সিন কম নিঃসরণে থাইরয়েড গ্রন্থি অনেক বড় হয়ে ঘ্যাগ বা গয়টার সৃষ্টি হয়। ইনসুলিন হরমোনের নিঃসরণ কম হলে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় ও মূত্রে শর্করা নির্গত হয়। এ রোগকে ডায়াবেটিস মেলিটাস বলে। প্যারাথরমোন কম • ক্ষরণ হলে পেশির অস্থিরতা, খিঁচুনি দেখা দেয়। এ রোগের নাম টিটেনি। অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি নিঃসৃত কর্টিসল হরমোন ক্ষরণ অনিয়ন্ত্রিত হলে মানুষের বিভিন্ন প্রদাহজনিত রোগ, যেমন- অ্যালার্জি, আর্থাইটিস হয়।