| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মথুরাপুর গ্রামের তরুণ…’ চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২২ – আঠারো বছর বয়স, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মথুরাপুর গ্রামের তরুণ সমাজ একত্র হয়ে বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাÐ পরিচালনা করছে। এর
মধ্যে রয়েছে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিনামূল্যে দুস্থদের চিকিৎসা সেবা এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান
কর্মসূচি। এর ফলে একদিকে যেমন মানুষকে মরতে হচ্ছে না চিকিৎসা ও রক্তের অভাবে,
অন্যদিকে এলাকার বেকার ও অলস জীবনযাপনকারী ছেলেমেয়েদের জীবন বদলে গেছে।
সেবার মহান ব্রত নিয়ে গোটা সমাজটাকে পাল্টে ফেলার চেষ্টা করছে তারা। আর তরুণ
প্রজন্মের এমন কার্যক্রমে স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৯
'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি 'ছাড়পত্র' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া ।
কবি উক্ত পক্তিটির মাধ্যমে প্রত্যাশা করেছেন, আঠারো বছর বয়সের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো যেন জাতীয় জীবনের চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে ।
আঠারো বছর বয়স বহু ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। এ বয়সের তরুণরা জড়-নিশ্চল প্রথাবদ্ধ জীবনকে পেছনে ফেলে সবসময় নতুন জীবন রচনার স্বপ্ন দেখে। কল্যাণচিন্তা, সেবাব্রত, উদ্দীপনা, সাহসিকতা, চলার দুর্বার গতি— এসবই আঠারো বছর বয়সি তারুণ্যের বৈশিষ্ট্য। কবির কামনা এসব বৈশিষ্ট্য দিয়েই যেন তরুণরা জাতীয় জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায় ।
উদ্দীপকের তরুণদের কার্যক্রমের মাঝে ‘আঠারো বছর বয়স' কবিতার যৌবনের অদম্য প্রাণশক্তির ইতিবাচক দিকটি ফুটে উঠেছে ।
তরুণরা অফুরন্ত প্রাণশক্তির আধার । আর এই জাতির বিপদে কান্ডারি হিসেবে তারাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা যেকোনো বিপদ ও দুর্যোগে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিবেদিত। আর তাই তরুণরা যদি ঝিমিয়ে পড়ে তাহলে জাতির ভাগ্যে দুর্ভোগ নেমে আসে। সংঘত কারণেই জাতীয় জীবনের প্রয়োজনে তারুণ্য বা যৌবনশক্তির আহ্বান করেছেন কবি ‘আঠারো বছর বয়স' কবিতায়।
উদ্দীপকটি তারুণ্যের সম্ভাবনা ও সাফল্য উপজীব্য করে রচিত হয়েছে। মথুরাপুর গ্রামের তরুণ সমাজ গ্রামের সার্বিক উন্নতির জন্য নানা জনহিতকর কাজ করে। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, বিনা-মূল্যে দুস্থদের চিকিৎসা সেবা প্রদান এবং স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি ইত্যাদি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গ্রামের মানুষদের জীবন মান যেমন উন্নত হচ্ছে, তেমনি বেকার ও অলস জীবনযাপনকারী ছেলেমেয়েদের জীবন বদলে যাচ্ছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের তরুণদের কার্যক্রমের মাঝে আলোচ্য কবিতার মেধাবী, সৃষ্টিশীল ও কল্যাণকামী তরুণদের জয়গানের দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিষয়বস্তুর সীমাবদ্ধতার কারণে উদ্দীপকটি 'আঠারো বছর বয়স’ কবিতার আংশিকভাবে ধারণ করেছে।
আলোচ্য কবিতায় আঠারো বছর বয়সি তরুণদের অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের মহান মন্ত্রে উজ্জীবিত হওয়ার দিকটি এসেছে। তাই তারা শত আঘাত সংঘাতের মধ্যেও রক্তশপথ নিয়ে মানুষের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। এই বয়সি তরুণদের রয়েছে অফুরন্ত উদ্দীপনা, অসীম সাহসিকতা ও দুর্বার গতি। ফলে এই বয়সি তরুণরা স্থবিরতা, নিশ্চলতা, জরাজীর্ণতাকে অতিক্রম করতে পারে খুব সহজেই। তবে সমাজজীবনের নানা বিকার, অসুস্থতা ও সর্বনাশের অভিঘাতে এরা হয়ে উঠতে পারে ভয়ংকর।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, তরুণরা দুর্বার উদ্দীপনায় সকল প্রতিবন্ধকতা খুব সহজেই পেরিয়ে যেতে পারে। কোনো অশুভশক্তিই তাদের চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। অর্থাৎ, তরুণদের আছে বাধা পেরিয়ে উ নি যাওয়ার মতো প্রবল প্রাণশক্তি। সেই শক্তি ও সাহসের বলেই তারা সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম যা মথুরাপুর গ্রামের তরুণ সমাজের মধ্যেও লক্ষণীয়।
‘আঠারো বছর বয়স’ কবিতায় বলা হয়েছে, এ বয়সের আছে সমস্ত দুর্যোগ আর দুর্বিপাক মোকাবিলা করার অদম্য শক্তি । কবি তাই সমস্যাপীড়িত এ দেশে আঠারোর তারুণ্যকে প্রত্যাশা করেছেন । উদ্দীপকেও সমাজ জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য তারুণ্যের অবদানকে তুলে ধরা হয়েছে। বিপদের মুখে নতুন কিছু করার দিক থেকে উদ্দীপকের সাথে কবিতার ভাবের মিল রয়েছে। কিন্তু কবিতায় আঠারো বছর বয়সে তরুণ প্রাণে অসহ্য যন্ত্রণা থাকার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে, লক্ষ দীর্ঘশ্বাসের অ বেদনায় আঠারো বছর বয়সের তরুণদের যে আঘাত সহ্য করতে হয় তা উদ্দীপকে ওঠে আসেনি। তাই বলা যায়, “উদ্দীপকটি আঠারো বছর বয়স মা কবিতার আংশিক ভাব ধারণ করেছে” – উক্তিটি যথার্থ ।