মতিন সাহেব বুকে অসহনীয় ব্যথা নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হলেন। ডাক্তার সাহেব বললেন যে, তার বক্ষগহ্বরের ত্রিকোণাকার ফাঁপা অঙ্গাটির রক্ত সঞ্চালনে এর টিস্যু ঠিকমতো কাজ করছে না। তিনি আরও বললেন, “সঠিক জীবন ধারা ও খাদ্য নির্বাচন অনুসরণ করে অঙ্গটিকে সুস্থ রাখা যায়।”
কোলেস্টেরল হলো হাইড্রোকার্বন কোলেস্টেইন থেকে উৎপন্ন একটি যৌগ।
উদ্ভিদের সেকেন্ডারি বৃদ্ধির ফলে অনেক সময় কাণ্ডের কর্ক টিস্যুর স্থানে স্থানে ফেটে গিয়ে লেন্টিসেল এর সৃষ্টি হয়। ঐসব স্থানে তথা লেন্টিসেল দিয়ে কিছু পানি বাষ্পাকারে বের হয়ে যায়। পানি যখন বাষ্পাকারে লেন্টিসেল পথে বেরিয়ে যায়, তখন তাকে লেন্টিকুলার প্রস্বেদন বলে।
মতিন সাহেবের আক্রান্ত অঙ্গটি হলো হৃৎপিণ্ড, যাতে হৃৎপেশি টিস্যু উপস্থিত। নিম্নে হৃৎপেশি টিস্যুর গঠন বর্ণনা করা হলো-
হৃৎপেশি হলো মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডে প্রাপ্ত এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি। এই পেশির কোষগুলো নলাকৃতি, শাখান্বিত ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত। হৃৎপেশিতে এক ধরনের ইন্টারক্যালাটেড ডিস্ক রয়েছে যা অন্য পেশিসমূহতে অনুপস্থিত। এ পেশির কোষসমূহ শাখার মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে। হৃৎপিণ্ডের সব হৃৎপেশি সমন্বিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয় এবং এই সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত অঙ্গটি হলো হৃৎপিণ্ড। হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখতে ডাক্তার সাহেবের শেষের উক্তিটি যথার্থ।
মানুষ পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হবার আগে থেকেই তার হৃদযন্ত্র কাজ করা শুরু করে এবং মৃত্যুর পূর্ব মূহূর্ত পর্যন্ত নির্দিষ্ট গতিতে চলতে থাকে। মানুষের বাঁচা-মরায় হৃদযন্ত্রের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার জন্য সঠিক জীবনধারা ও খাদ্য নির্বাচন করা অনিবার্য। কারণ নানা ধরনের তেল বা চর্বি জাতীয় খাদ্য হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমকে ব্যাহত করে। রক্তের কোলেস্টেরল হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে থাকে। মাদক ও নেশা সেবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বা হৃদস্পন্দন সাধারণ মানের থেকে বৃদ্ধি পায়। ফলে মাদকসেবী কিছুটা মানসিক আনন্দ ও প্রশান্তি পেলেও তার হৃদযন্ত্রের প্রভূত ক্ষতি হয়। ধূমপান অথবা জর্দার নিকোটিনের বিষক্রিয়া শরীরের অন্য অংশের মতো হৃদপেশির ক্ষতি করে। সঠিক খাদ্য নির্বাচন ও গ্রহণের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখা সম্ভব। মেদ সৃষ্টিকারী খাদ্য যেমন- তেল, চর্বি, অতিরিক্ত শর্করা পরিহার ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করে, প্রতিদিন পরিমিত ব্যায়াম এবং হাঁটা-চলার মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখা যায়।
