| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মুখে দেয় জল,…’ সিলেট বোর্ড ২০২৩ – বিলাসী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মুখে দেয় জল, সুধায় কুশল, শিরে দেয় মোর হাত,
দাঁড়ায়ে নিঝুম, চোখে নাই ঘুম, মুখে নাই তার ভাত ।
বলে বার বার, ‘কর্তা, তোমার কোন ভয় নাই, শুন-
যাবে দেশে ফিরে, মা ঠাকুরাণীরে দেখিতে পাইবে পুন ।’
লভিয়া আরাম আমি উঠিলাম, তাহারে ধরিল জ্বরে,
নিল সে আমার কালব্যাধিভার আপনার দেহ পরে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় আজীবন থার্ড ক্লাসে পড়ত।
উদ্ধৃত উক্তিটিতে স্বার্থান্ধ-কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামবাসীর সাপুড়েকন্যা বিলাসীর ওপর আক্রমণের কারণ সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তৎকালীন সমাজ মৃত্যুঞ্জয়-বিলাসীর প্রেম ও সেবা করার বিষয়টি কোনােভাবেই মেনে নিতে পারেনি। কায়স্থের ছেলে মৃত্যুঞ্জয়ের সাপুড়েকন্যা বিলাসীর হাতে রান্না করা ভাত খাওয়াকে অন্নপাপ, এবং জাত যাওয়ার মতাে ঘটনা হিসেবে সাব্যস্ত করে।
এক সন্ধ্যায় দশ-বারােজনের একটি দল অতর্কিতে বিলাসীর ওপর হামলা চালায়। অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়ের কোনাে কথাই তারা শােনে না। তারা বীরদর্পে হুঙ্কার দিয়ে বিলাসীকে হিড়হিড় করে টেনে বাইরে নিয়ে যেতে থাকল। এ সবই তারা করেছিল ধর্ম ও গ্রামের মুখ রক্ষার অজুহাতে। নিচু জাতের বলে তারা বিলাসীর প্রতি এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছিল।
উদ্দীপকের ভৃত্যের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে ‘বিলাসী' গল্পের বিলাসীর মিল পাওয়া যায়।
'বিলাসী' গল্পের বিলাসী উদার ও সেবাপরায়ণ মনোভাবাপন্ন এক নারী। নিচু জাতের মেয়ে হয়েও বিলাসী অসুস্থ মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা-শুশ্রূষা করে সুস্থ করে তোলে। পোড়োবাড়িতে একা রাত জেগে সে দিন-রাত সেবা করে গেছে মৃত্যুঞ্জয়ের। এজন্য তাকে নানা প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হয়েছে। সমাজের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করে গেছে। পরম মমতা ও ভালোবাসায় আগলে রেখেছে মৃত্যুঞ্জয়কে।
উদ্দীপকের ভৃত্য ও তার কর্তাকে পরম ক্ষমতায় সযত্নে সেবা করে। মুখে জল দিয়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে, না ঘুমিয়ে, না খেয়ে কর্তার সেবায় নিয়োজিত থাকে। কর্তাকে বারবার আরোগ্য লাভের আশ্বাস দেন। নিচু জাত হয়েও কর্তার যত্ন করেন উচ্চ মানসিকতা নিয়ে। ভালোবাসা ও মমতায় আগলে রেখেছে কর্তাকে।
উদ্দীপকের ভৃত্যের এই সেবাপরায়ন মানসিকতার সঙ্গে ‘বিলাসী' গল্পের বিলাসীর সাদৃশ্য রয়েছে।
''উদ্দীপকের পরিণতি থেকে 'বিলাসী' গল্পের পরিণতি ভয়াবহ।”—মন্তব্যটি যথার্থ।
'বিলাসী' গল্পের বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয় দুইজন ভিন্ন জাতভুক্ত মানুষ। অনাথ মৃত্যুঞ্জয় একবার অসুস্থ হলে বিলাসী তাকে সেবা-যত্ন করে সুস্থ করে তোলে। তারা বিয়ে করে একসাথে সংসার শুরু করলে গ্রামের মানুষ মৃত্যুঞ্জয়ের অন্নপাপ হয়েছে অভিযোগ তুলে বিলাসীকে ‘গ্রাম থেকে বের করে দিতে চায়, মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী পরদিন গ্রাম থেকে চলে যায় । মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে জীবন বেছে নেয় ও পরে সাপের কামড়ে মৃত্যুবরণ করে, বিলাসী এই শোক সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে।
উদ্দীপকের ভৃত্য তার কর্তাকে পরম ক্ষমতায় সযত্নে সেবা করে। মুখে জল দিয়ে, মাথায় হাত বুলিয়ে, না ঘুমিয়ে, না খেয়ে কর্তার সেবায় নিয়োজিত থাকে। কর্তাকে বারবার আরোগ্য লাভের আশ্বাস দেন। নিচু জাত হয়েও কর্তার যত্ন করেন উচ্চ মানসিকতা নিয়ে। অবশেষে কর্তার অসুস্থতা তার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, কর্তার জ্বরের প্রকোপ যেন ভৃত্য তার গায়ে তুলে নেয়। কর্তার জন্য জীবন বাজি রেখে সে জ্বরে আক্রান্ত হয়।
'বিলাসী' গল্পের সমাজ কুসংস্কারাচ্ছন্ন, গোড়া সমাজ। এ সমাজের মধ্যে জাতপ্রথায় প্রাপ্ত পরিচয়ই মানুষের একমাত্র পরিচয় বলে গণ্য করা হয়, মানবিক উদারতার জায়গা এখানে খুব কম। যার কারণেই বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়কে গ্রাম ছেড়ে সাপুড়ে জীবন বেছে নিতে হয়েছিল। উদ্দীপকের গানে জাতপ্রথার ঊর্ধ্বে গিয়ে সকল মানুষের সমতার সুর প্রতিধ্বনিত হয়েছে। 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী কে বরণ করে নিতে হয়েছিল বিয়োগান্তক ফলাফল, অপরদিকে উদ্দীপকের বৃত্তের পরিণতি হয়েছিল অসুস্থতার প্রতিস্থাপনে।
''উদ্দীপকের পরিণতি থেকে 'বিলাসী' গল্পের পরিণতি ভয়াবহ।”—মন্তব্যটি সঠিক।