| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মুকিম সাহেব রাস্তা…’ ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৪ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মুকিম সাহেব রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ময়লার ভাগাড়ের পাশে আট মাস বয়সি এক শিশুর কান্না শুনতে পান। পরম যত্নে বুকে তুলে নেন এবং নাম দেন আজমল। সে প্রায় ত্রিশ বছর আগের ঘটনা তখন থেকেই তিনি আজমলকে স্নেহ-ভালোবাসায় বড় করে তোলেন। নীচু মানসিকতার আজমল ছিল অত্যন্ত লোভী। সে সুযোগ খোঁজে আশ্রয়দাতার সমস্ত সম্পত্তি হস্তগত করার। একদিন অস্ত্রের মুখে মুকিম সাহেবকে তাঁর সমস্ত সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দিতে বাধ্য করে এবং স্বহস্তে আশ্রয়দাতাকে হত্যা করে আজমল ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সিরাজউদ্দৌলাকে ভগবানগোলায় বন্দি করা হয়।
“দেশপ্রেমিকের রক্ত যেন আবর্জনার স্তূপে চাপা না পড়ে।” এই কথাটি নবাব সিরাজউদ্দৌলা জনতার উদ্দেশ্যে বলেছেন ।
• ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে পলাশির যুদ্ধের ময়দান থেকে ফিরে নবাব নতুন শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা চালান। কিন্তু কিছু স্বার্থান্ধ প্রতারক ও কাপুরুষ সৈন্য সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে টাকা নিয়ে পালিয়ে যেতে থাকলে নবাব তাদেরকে ভীরু হিসেবে আখ্যায়িত করেন। জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভীরু প্রতারকের দল চিরকালই পালায়, কিন্তু তাতে বীরের মনোবল ক্ষুণ্ণ হয় না। তাদের মতো এমন করে মিরমদান, মোহনলাল, বদ্রিআলি, নৌবেসিং প্রমুখ দেশপ্রেমিকও পালাতে পারতেন, কিন্তু দেশের স্বাধীনতার জন্য, দেশবাসীর মর্যাদার জন্য তাঁরা জীবন দিয়ে গেছেন। তাই জনতার প্রতি নবাব আহ্বান জানান তাঁদের এই আদর্শ যেন লাঞ্ছিত না হয়। তাদের মতো দেশপ্রেমিকের রক্ত যেন আবর্জনার স্তূপে চাপা না পড়ে ।
উদ্দীপকের আজমল চরিত্রটি ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মোহাম্মদি বেগ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
• স্বার্থান্বেষী ও লোভী মানুষ নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য যেকোনো গর্হিত কাজ করতে পারে। লোভ, ক্ষমতা দখল, লালসা ইত্যাদির জন্য সে মনুষ্যত্ব বিকিয়ে দিয়ে পশুতে পরিণত হয়। তার মধ্যে কোনো কৃতজ্ঞতাবোধ থাকে না ।
• উদ্দীপকের আজমল একজন নীচু মানসিকতা ও অত্যন্ত লোভী একজন ব্যক্তি। কেননা যেই মুকিম সাহেব রাস্তা থেকে তুলে এনে তাকে স্নেহ-ভালোবাসায় বড় করে তুলেছেন, সেই আশ্রয়দাতার সম্পত্তি হস্তগত করার জন্যই আজমল সুযোগ খোঁজে । এভাবে একদিন অস্ত্রের মুখে তাঁর সম্পত্তি লিখে দিতে বাধ্য করে আজমল তাকে হত্যা করে। ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মোহাম্মদি বেগ চরিত্রেও এমন অকৃতজ্ঞতা লক্ষ করা যায়। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পিতা মির্জা জয়নুদ্দিন অনাথ বালক মোহাম্মদি বেগকে আদর-যত্নে মানুষ করেছিলেন। অথচ তা ভুলে গিয়ে মাত্র দশ হাজার টাকার বিনিময়ে নবাবকে সে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আজমল চরিত্রটি ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মোহাম্মদি বেগ চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে।
“উদ্দীপকের মুকিম সাহেব এবং নবাব সিরাজের করুণ পরিণতি একই সূত্রে প্রথিত।” উক্তিটি যথার্থ ।
1
• লোভী ও অকৃতজ্ঞ ব্যক্তি আত্মস্বার্থে যেকোনো সময় বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। আর বিশ্বাসঘাতক কখনো কারও আপন হতে পারে না। সে সবসময় অন্যের ক্ষতি করে। এভাবে কাছের মানুষের বিশ্বাসঘাতকতায় একজন দেশপ্রেমিক নেতার জীবনে নেমে আসে নির্মম পরিণতি। সামান্য স্বার্থের জন্য খুব কাছের মানুষের মাধ্যমেই তাদেরকে মৃত্যুবরণ করতে হয় ।
উদ্দীপকের মুকিম সাহেব রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ময়লার ভাগাড়ের পাশ থেকে একটি শিশুকে পরম যত্নে তুলে এনে তার নাম দেন আজমল। আর আজমলকে তিনি স্নেহ-ভালোবাসায় বড় করে তোলেন। অথচ সেই আজমলই তাকে সম্পত্তির জন্য নিজের হাতে হত্যা করে। মুকিম সাহেবের এমন করুণ পরিণতি যেন ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজের করুণ পরিণতিকেই স্মরণ করিয়ে দেয়। কেননা যেই নবার সারাটি জীবন দেশের জন্য কাজ করেছেন, দেশের মানুষের কষ্টে ব্যথিত হয়েছেন, সেই নবাবকে তাঁর কাছের মানুষের ষড়যন্ত্রে মৃত্যুবরণ করতে হয়, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক ।
• ‘সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে তাঁর খুব কাছের অমাত্য মিরজাফর, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ প্রমুখ বিশ্বাসঘাতকদের ষড়যন্ত্রে পলাশির যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে বন্দি হতে হয়। আবার তার উপর নির্মমতা আরও বেড়ে যায়, যখন তিনি দেখেন মোহাম্মদি বেগ তাঁকে হত্যা করার জন্য এগিয়ে আসে। কেননা এই মোহাম্মদি বেগকে নবাবের পিতা পরম যত্নে, আদর-স্নেহে মানুষ করেন। আর সেই মোহাম্মদি বেগের হাতেই নবাবকে মৃত্যুবরণ করতে হয়, যা সত্যিই করুণ ও মর্মান্তিক। যা উদ্দীপকের মুকিম সাহেবের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে দেখা যায়। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।