| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের…’ যশোর বোর্ড ২০২৪ – রেইনকোট, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের সকল শিক্ষিত ব্যক্তি ও বুদ্ধিজীবী যে দেশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন এমনটি নয়। এমন একজন বুদ্ধিজীবী শরিফ সাহেব। যুদ্ধের সময় তিনি কলেজ শিক্ষক ছিলেন। তার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় কলেজে সেনাক্যাম্প প্রতিষ্ঠিত হয়। পাকসেনাদের খুশি করতে তিনি উর্দুতে কথা বলতে শুরু করেন। এমন মানুষ-বুদ্ধিজীবী হলেও আমাদের ঘৃণার পাত্র।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২৭
'রেইনকোট' গল্পে উল্লিখিত প্রিন্সিপালের নাম ড. আফাজ আহমদ।
প্রিন্সিপাল নিজের স্বার্থসিদ্ধির অভিপ্রায়ে মিসক্রিয়েন্টদের পতন কামনা করেন।
'রেইনকোট' গল্পে প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদ একজন পাকিস্তানপন্থি শিক্ষক। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজ দেশের শত্রু পাকিস্তানিদের পক্ষে কাজ করেন। তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের আশায় মূলত তাদের সঙ্গে হাত মেলান। তাই মিসক্রিয়েন্ট তথা মুক্তিযোদ্ধাদের পতন কামনা করেন। মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তান সরকার ও তার সেনাবাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদেরকেই মিসক্রিয়েন্ট হিসেবে অভিহিত করেছিল।
বুদ্ধিজীবী হয়েও দেশের শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী ক্রিয়াকলাপে অংশগ্রহণ করার দিকটিতে উদ্দীপকের শরিফ সাহেব ও 'রেইনকোট' গল্পের প্রিন্সিপাল চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা অগ্রগণ্য। তবে সব বুদ্ধিজীবী এই কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য নয়। তাদের অনেকেই শত্রুপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বদেশের বিরোধিতা করেছে।
উদ্দীপকে শরিফ সাহেব একজন বুদ্ধিজীবী। তিনি একজন কলেজ শিক্ষক হয়েও স্বদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধকালে পাকসেনাদের সহযোগিতা করা এবং তাদেরকে খুশি করার মতো ঘৃণ্য কাজে শরিক হয়েছেন। এমনই একজন ব্যক্তি 'রেইনকোট' গল্পে বর্ণিত প্রিন্সিপাল আফাজ আহমদ। তিনি একজন শিক্ষক হয়েও পাকসেনাদের সঙ্গে হাত মেলাতে, তাদের সহযোগিতা করতে দ্বিধা করেননি। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের পতন কামনা করে প্রকাশ্যে দেশদ্রোহিতার পরিচয় দিয়েছেন। এখানেই তার সঙ্গে উদ্দীপকের শরিফ সাহেবের সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
"উদ্দীপকের শরিফ সাহেব আর 'রেইনকোট' গল্পের প্রিন্সিপাল আমাদের স্বাধীনতা বিলম্বিত ও রক্তাক্ত করেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন লক্ষ প্রাণের দান। তবে সবাই এমন আত্মত্যাগ করতে পারেনি। কিছু হীন চরিত্রের ব্যক্তি সরাসরি শত্রুপক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বাধীনতার পথকে রুদ্ধ করার প্রয়াস চালিয়েছে।
উদ্দীপকে বুদ্ধিজীবী শরিফ সাহেবের নীচতার পরিচয় পাওয়া যায়। শিক্ষক হয়েও তিনি দেশের বিরুদ্ধে গিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানিদের পক্ষাবলম্বন করে স্বাধীনতাকে বিলম্বিত করেছেন। শত্রুদের সঙ্গে মিলিত হয়ে স্বদেশভূমিকে করেছেন ক্ষতবিক্ষত। 'রেইনকোট' গল্পের প্রিন্সিপাল আফাজ আহমদও এমন হীনতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি পাকিস্তানি সেনাদের কাছে বাঙালির জাতীয় চেতনার প্রতীক শহিদ মিনার হটানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন- 'এগুলো হলো পাকিস্তানের শীরের কাঁটা।'
'রেইনকোট' গল্পের প্রিন্সিপাল আফাজ আহমদ পাকিস্তানিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পতন চেয়েছেন। এমনকি তাদের ঠিকানা জানার ব্যাপারে পাকহানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছেন। তাদেরকে সন্দেহ করে বাসা থেকে ডেকে এনে পাকিস্তানি মিলিটারিদের সামনে বসিয়ে দিয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তিনি নিজের স্বার্থের জন্য হীন মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। এই ঘৃণ্য মানুষগুলোর কর্মকাণ্ডে বাংলার স্বাধীনতা পেতে দেরি হয়েছে এবং বাংলা অধিকতর রক্তাক্ত হয়েছে। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।