| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মুনমুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়…’ সিলেট বোর্ড ২০১৭ – জনসেবা ও আমলাতন্ত্র, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মুনমুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে পাবলিক সার্ভিস কমিশন কর্তৃক নিয়োগ্র প্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি মন্ত্রণালয়ের একটি অধিদপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি তার যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে সরকারের মন্ত্রীদের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সহায়তা করেন।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
'আমলা' শব্দটি আরবি ভাষ্য থেকে উদ্ভূত হয়েছে।
অন্যের কল্যাণে আত্মত্যাগের মহান ব্রতের নামই জনসেবা। যার অর্থ আদেশ পালন ও বাস্তবায়ন। জনসেবা মানুষের একটি মহৎ গুণ। মহৎ হৃদয়ের ব্যক্তিরাই কেবল জনসেবা করতে পারেন। জনসেবা করতে চাইলে উদার ও বড় মনের মানুষ হতে হয়।
উদ্দীপকের মকবুল সাহেব চাকরি জীবনে আমলাতন্ত্রের সাথে জড়িত ছিলেন।
'আমলা' শব্দের অর্থ আদেশ পালনকারী ও বাস্তবায়নকারী। যে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারের আদেশ পালন ও বাস্তবায়ন করে তাদেরকে আমলা বলে। সামগ্রিকভাবে আমলাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে বলা হয় আমলাতন্ত্র। প্রখ্যাত ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক হারম্যান ফাইনার (Herman Finer) আমলাতন্ত্রের সংজ্ঞায় বলেন, 'আমলাতন্ত্র বা সিভিল সার্ভিস হলো সেসব পেশাদার কর্মকর্তার সমষ্টি যারা স্থায়ীভাবে কর্মে নিয়োজিত, বেতনভোগী ও দক্ষ।
উদ্দীপকের মকবুল সাহেব একজন অবসরপ্রাপ্ত আমলা। চাকরি জীবনে তিনি অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা আমলাতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এছাড়াও আমলাতন্ত্রের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন-
প্রথমত, স্থায়িত্ব আমলাতন্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সরকার পরিবর্তিত হলেও আমলাতন্ত্রের কোনো পরিবর্তন হয় না। একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত কিংবা অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত তারা চাকরিতে বহাল থাকেন। কেবল দৈহিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে তারা চাকরিচ্যুত হতে পারেন। দ্বিতীয়ত, আমলাতন্ত্রে নিয়োজিত কর্মচারীরা নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন হয়ে থাকেন। তাদের সামগ্রিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
তৃতীয়ত, পদসোপান নীতি (Hierarchy) আমলাতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এ নীতি অনুসারে বিভিন্ন পদের শ্রেণিবিন্যাস, কর্মকর্তা- কর্মচারীদের কাজের পরিধি ও জবাবদিহিতা নির্ধারণ করা হয়। প্রত্যেক নিম্নতর পদই কোনো উচ্চতর পদ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ-নির্দেশ নিম্নতর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন।
উদ্দীপক অনুসারে মুনমুন সরকারের মন্ত্রীদের নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে সহায়তা করেন। বর্তমান জনকল্যাণকর রাষ্ট্রে আমলাতন্ত্রের কার্যাবলি ক্রমশ প্রসারিত হচ্ছে। সুতরাং মুনমুনকে উদ্দীপকে বর্ণিত কাজ ছাড়াও আরো অনেক কাজ করতে হয়। নিম্নে আমলাতন্ত্রের কার্যাবলি আলোচনা করা হলো-
১. আইন কার্যকর করা: সরকারি কর্মচারীগণ অর্থাৎ আমলাগণ আইনসভা কর্তৃক প্রণীত আইনের সাহায্যে দেশের দৈনন্দিন শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
২. আইন প্রণয়নে সাহায্য দান: বর্তমানে আইনসভায় উত্থাপিত খসড়া বিলের অধিকাংশই আমলারা প্রস্তুত করে থাকেন।
৩. বিচার সংক্রান্ত কাজ: ট্রেড মার্ক, জমি ক্রয়-বিক্রয়, রেজিস্ট্রি ইত্যাদি ক্ষেত্রে আমলারাই আইন মোতাবেক অনেক বিরোধ মীমাংসা করে থাকেন। আমলারাই এ সব বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন।
৪. দৈনিক কার্যাবলি সম্পাদন: আমলারা সরকারি বিধি মোতাবেক প্রশাসনিক কাজগুলো রুটিনমাফিক সম্পন্ন করেন।
৫. তথ্য পরিবেশন: আমলাতন্ত্র আইনসভার সদস্য ও মন্ত্রীদেরকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও পরিসংখ্যান প্রদান করে থাকেন। আমলাদের পরিবেশিত তথ্যাদিই সরকার দেশবাসীর নিকট প্রকাশ করে থাকে।
৬. অভ্যন্তরীণ প্রশাসন পরিচালনা: আমলারা অভ্যন্তরীণ প্রশাসনের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি, নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির মাধ্যমে শৃঙ্খলা রক্ষা করেন।
৭. রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করা; দক্ষ, অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তাগণ মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে নিজ রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, আধুনিক রাষ্ট্রীয় কার্যাবলি ক্রমশ বৃদ্ধির সাথে সাথে আমলাদেরও কাজের পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত মুনমুনের নানাবিধ কাজ এটাই প্রমাণ করে।