| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘মুনতাহা একজন চিকিৎসক।…’ মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজ ২০২৫ – পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

মুনতাহা একজন চিকিৎসক। সমাজ, রাষ্ট্র, রজানীতি সম্পর্কে সে খুব কমই জানে। তার আব্বা একজন শিক্ষাবিদ। “পৌরনীতি ও সুশাসন” এবং “রাষ্ট্রবিজ্ঞান” বিষয়ে বিশেষ করে “বাংলাদেশের রাজনীতি” বিষয়ে তার লেখা অনেক বই প্রকাশ পেয়েছে। ছুটিতে বাসায় এলে সে তাই তার আব্বার লেখা বইগুলো পড়ে। “পৌরনীতি ও সুশাসন” পাঠ করার ফলে তার রাজনৈতিক সচেতনতা এবং নাগরিক দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধও বৃদ্ধি পেয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
পৌরনীতির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে এফ. আই. গ্লাউড (F. I. Gloud) বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান অভ্যাস, কার্যাবলি ও চেতনার দ্বারা মানুষ রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক সমাজের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন এবং অধিকার ভোগ করতে পারে, তার অধ্যয়নই হচ্ছে পৌরনীতি।"
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিক ও নাগরিকতা, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক সম্পর্কে আলোচনা করে। অতএব যেহেতু পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু নাগরিকতাকেন্দ্রিক তাই পৌরনীতিকে নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়।
পৌরনীতি পাঠের ফলে ফারাহ মুন্তাহা নাগরিকতা বিষয়ক জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছে।
সুদূর অতীতে রাষ্ট্র গঠন ও রাষ্ট্রের নাগরিকদের অধিকার সচেতনতা কীভাবে সৃষ্টি হয়েছিল ইত্যাদি বিষয়সমূহ ফারাহ মুন্তাহা পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে জানতে পেরেছে। তাছাড়া সে সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়সমূহ সম্পর্কেও অবগত হয়েছে। সে এখন জানে, কেন এবং কখন একটি দেশ সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হয় এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একজন সুনাগরিকের করণীয় কী? পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে সে জানতে পেরেছে, কীভাবে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা দ্বারা সুস্থ, সুন্দর, নিরাপদ এবং সফল সমাজজীবন গঠন করা যায়। কীভাবে সুনাগরিক হিসেবে নিজের অন্তর্নিহিত গুণাবলির বিকাশ ঘটানো যায়। কীভাবে জনসমাজের সার্বিক কল্যাণ করা যায়। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে জাতি গঠনে কীভাবে ভূমিকা রাখা যায়। ফারাহ মুন্তাহা পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য অধিকারসমূহ সম্পর্কেও জানতে পেরেছে।
পৌরনীতির মূল বিষয় হচ্ছে নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের সদস্যদের কার্যাবলি আলোচনা করা। রাষ্ট্রে বসবাসকারী এবং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকারকারী প্রত্যেকটি ব্যক্তিই রাষ্ট্রের নাগরিক। এ নাগরিকতা সে জন্মসূত্রে অথবা অনুমোদনসূত্রে অর্জন করতে পারে। তবে নাগরিকতা অর্জনের পদ্ধতি যাই হোক না কেন রাষ্ট্রের প্রতি তার কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রের সদস্য হিসেবে সে কিছু অধিকার ভোগ করে। পৌরনীতির জ্ঞান মানুষকে নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি তার অধিকার ও কর্তব্য এবং রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে। নাগরিকতা ব্যক্তির মনের আত্মমর্যাদাবোধের বিকাশ ঘটায়। একজন নাগরিক রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার সকল প্রকার সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রত্যাশা করতে পারে। পৌরনীতি পাঠের মাধ্যমে একজন নাগরিক খুব সহজেই দেশের চলমান রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারে। সরকার ও রাষ্ট্রের সাথে একজন নাগরিকের সম্পর্ক কী হওয়া উচিত, সামাজিক ও জাতীয় সংকটের সময় একজন নাগরিক কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং কোন পরিস্থিতিতে কোন ধরনের সরকার ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন এ বিষয়গুলো নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে।
এভাবে পৌরনীতির পাঠ নাগরিকের রাজনৈতিক সচেতনতা এবং রাষ্ট্রের প্রতি তার দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বৃদ্ধি করে।