| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘n দ্বারা ক্রোমোসোম…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

n দ্বারা ক্রোমোসোম সংখ্যা/সেট বুঝায় ।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
কোষ বিভাজনের সময় সৃষ্ট স্পিন্ডল যন্ত্রের যে তন্তুগুলো ক্রোমোসোমের সেন্ট্রোমিয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকে তাকে আকর্ষণ তন্তু বা ট্র্যাকশন ফাইবার বলে ।
অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস ক্ষতিকর কারণ-
আমরা জানি, মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে ফলে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কিন্তু কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে ফলে টিউমার, ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন প্রকার প্যাপিলোমা ভাইরাসের আক্রমণে ক্যান্সার রোগ সৃষ্টি হয় এবং এই ভাইরাসের E, এবং E, নামের দুটি জিন এমন কিছু রাসায়নিক পদার্থ সৃষ্টি করে যা কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রক দুটি প্রোটিন অণুকে (সাইক্লিন cdk ও P⁵³) স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায়, সৃষ্টি হয় টিউমার এবং ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-G হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া। মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার তৃতীয় পর্যায়টি হলো মেটাফেজ পর্যায়। নিচে মেটাফেজ পর্যায়টি সচিত্র বর্ণনা করা হলো- মেটাফেজ পর্যায়ের প্রথমেই সমস্ত ক্রোমোসোম স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে এসে অবস্থান করে। স্পিন্ডল যন্ত্রের দু'মেরুর মধ্যবর্তী স্থানকে বিষুবীয় বা নিরক্ষীয় অঞ্চল বলা হয়। কোষ বিভাজনের মেটাফেজ দশায় স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে ক্রোমোসোমের বিন্যস্ত হওয়াকে মেটাকাইনেসিস বলে। এ পর্যায়ে ক্রোমাটিডগুলো সবচেয়ে বেশি মোটা, খাটো ও স্পষ্ট দেখা যায়। ক্রোমোসোমের খাটো ও মোটা হওয়াকে বলা হয় কন্ডেনসেশন। একটি অতিমাত্রায় কয়েলিং প্রক্রিয়ায় এটি হয়ে থাকে তাই একে সুপার কয়েলিং বলা হয়। এ পর্যায়ে কোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা, আকার ও আকৃতি নির্ণয় করা যায়। নিউক্লিয়ার এনভেলপ ও নিউক্লিওলাস সম্পূর্ণ বিলুপ্ত থাকে। মেটাফেজ পর্যায়ের শেষ ভাগে প্রতিটি সেন্ট্রোমিয়ার সম্পূর্ণ বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য সেন্ট্রোমিয়ার সৃষ্টি করে ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-G এবং চিত্র-H হলো যথাক্রমে মাইটোসিস এবং মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া । উদ্ভিদের জনুক্রমে মাইটোসিস ও মিয়োসিস উভয় কোষ বিভাজনই গুরুত্বপূর্ণ। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—
আমরা জানি, উদ্ভিদের জীবনে সুস্পষ্ট জনুক্রম বিদ্যমান, কারণ এখানে স্পোরোফাইটিক জনুর সাথে গ্যামিটোফাইটিক জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের মাধ্যমে জীবনচক্র সম্পন্ন হয়। যেমন— স্পোরোফাইটিক জনুর সাথে গ্যামিটোফাইটিক জনুর পর্যায়ক্রমিক আবর্তনের মাধ্যমে জীবনচক্র সম্পন্ন হয় । Pteris উদ্ভিদ স্পোরোফাইট তথা ডিপ্লয়েড (2n)। এটি হতে উৎপন্ন সোরাস, সোরাসে অবস্থিত স্পোরাঞ্জিয়াম এবং স্পোরাঞ্জিয়ামের ক্যাপসিউলের ভেতরে অবস্থিত স্পোর মাতৃকোষও ডিপ্লয়েড। স্পোর মাতৃকোষ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড (n) স্পোর উৎপন্ন করে যা গ্যামিটোফাইটের প্রথম ধাপ। এ হ্যাপ্লয়েড স্পোর অঙ্কুরিত হয়ে হ্যাপ্লয়েড প্রোথ্যালাস নামক স্বতন্ত্র গ্যামিটোফাইটিক পর্যায়ের সৃষ্টি করে। প্রোথ্যালাসে সৃষ্ট আর্কিগোনিয়াম অ্যান্থেরিডিয়াম এবং এদের ভেতরে সৃষ্ট ডিম্বাণু ও শুক্রাণু সবই হ্যাপ্লয়েড। এদের মধ্যে নিষেকের ফলে সৃষ্টি হয় ডিপ্লয়েড উস্পোর (2n) যা স্পোরোফাইটিক পর্যায়ের প্রথম ধাপ। উস্পোর অঙ্কুরিত হয়ে এবং ক্রমাগত মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে সৃষ্টি করে নতুন স্বভোজী, স্পোরোফাইটিক Pteris উদ্ভিদ। Pteris উদ্ভিদে সুস্পষ্ট জনুক্রম বিদ্যমান, কারণ এখানে উপরের আলোচনা হতে দেখা যায় যে, Pteris উদ্ভিদের স্পোরোফাইট ও গ্যামিটোফাইট পর্যায় সম্পন্ন করে মিয়োসিস ও মাইটোসিস উভয় কোষ বিভাজনই প্রয়োজন পড়ে। তাই Pteris-এর জনুক্রমে মাইটোসিস ও মিয়োসিস উভয় কোষ বিভাজনই গুরুত্বপূর্ণ।