যে প্রক্রিয়ায় কোনো কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তা সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয় এবং ঠান্ডা করলে সরাসরি কঠিনে রূপান্তরিত হয় তাকে ঊর্ধ্বপাতন বলে।
আয়রন বাতাসের অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে আর্দ্র ফেরিক অক্সাইড বা মরিচা তৈরি করে। মরিচা ঝাঁঝরা জাতীয় পদার্থ হওয়ায় এর অক্সিজেন ও জলীয় বাষ্প প্রবেশ করে লোহার পৃষ্ঠকে ক্রমাগত ক্ষয় করতে থাকে। এতে লোহার সম্পূর্ণ অংশ এক সময় নষ্ট হয়ে যায়।
অর্থাৎ, লোহায় মরিচা পড়া একটি রাসায়নিক পরিবর্তন।
উদ্দীপকের ১ম যৌগ অর্থাৎ এর গলনাংক ও স্ফুটনাঙ্ক নিম্নে এর তাপ প্রদানের লেখচিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হলো:
উদ্দীপকের NaCl লবণ তাপমাত্রা পর্যন্ত কঠিন যা AB রেখা দ্বারা বুঝানো হয়েছে। তাপমাত্রায় লবণটি গলতে আরম্ভ করে, যাকে গলনাঙ্ক বলে। তাপমাত্রার B - C রেখাটি হলো লবণটির গলনাঙ্ক। আবার C - D রেখা বরাবর লবণটি তাপ গ্রহণ করে এবং তরল অবস্থায় থাকে। অর্থাৎ হতে তাপমাত্রা পর্যন্ত NaCl তরল অবস্থায় থাকে। অতঃপর D - E রেখা হলো NaCl লবণটির স্ফুটনাঙ্ক। অর্থাৎ তাপমাত্রায় লবণটি ফুটতে থাকে এবং এর উপরের তাপমাত্রায় লবণটি বাষ্পে পরিণত হয়।
উদ্দীপকের ১ম ও ২য় যৌগ অর্থাৎ ও এর বন্ধন প্রকৃতি ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও জলীয় দ্রবণে বিদ্যুৎ পরিবহণ করে- বক্তব্যটি যুক্তিসহ নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো-
পানির অণুতে বিদ্যমান অক্সিজেন ও হাইড্রোজেনের তড়িৎ ঋণাত্মকতার পার্থক্য অধিক হওয়ায় অক্সিজেন পরমাণু আংশিক ঋণাত্মক এবং হাইড্রোজেন পরমাণু আংশিক ধনাত্মক চার্জ প্রাপ্ত হয়।
কে পানিতে দ্রবীভূত করলে যৌগটি প্রথমে ও আয়নে বিয়োজিত হয়। অতঃপর আয়ন পানির ঋণাত্মক প্রান্ত এবং আয়ন পানির ধনাত্মক প্রান্ত দ্বারা আকৃষ্ট হয়। ফলে ও পানিতে দ্রবীভূত হয়ে বিদ্যুৎ পরিবহণ করে।
অপরদিকে ক্লোরিন ও হাইড্রোজেনের তড়িৎ ঋণাত্মকতার পার্থক্য বেশি হওয়ায় এর বন্ধনের শেয়ারকৃত ইলেকট্রন জোড় ক্লোরিন পরমাণু দ্বারা বেশি আকৃষ্ট হয়। ফলে হাইড্রোজেন পরমাণু আংশিক ধনাত্মক ও ক্লোরিন পরমাণু আংশিক ঋণাত্মক চার্জ প্রাপ্ত হয়।
কে পানিতে দ্রবীভূত করলে যৌগটি ও আয়ন হিসেবে অবস্থান করে যা বিদ্যুৎ পরিবহণ করে।
তাই বলা যায়, ও ভিন্ন বন্ধন প্রকৃতির হওয়া সত্ত্বেও জলীয় দ্রবণে বিদ্যুৎ পরিবহণ করে।
