| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নাগর ফকিরের মৃত্যুর…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৩ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

নাগর ফকিরের মৃত্যুর পর অনুসারীর সংখ্যা রাতারাতি বাড়তে লাগল। তার মৃত্যুর খবরে আশেপাশের অনেকেই হাজির না হলেও তার গায়েবি মাজার উঠার খবরে বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষ এসে ভিড় জমাতে লাগল। সবার নজরানায় নাগর কবিরের ছেলে সাগরের সুনাম ও সম্পদ বৃদ্ধি পেতে থাকল। গায়েবি মাজার উঠার প্রচারণা অনেকেই বিশ্বাস করলো না। তবে তারা এ বেদাতি কাজে বাঁধাও দিল না। এতে মাজার বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে সাগরের প্রভাব ও পয়সা দুটোই বাড়তে লাগল।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
মজিদ বর্ষা ঋতুতে মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করল।
"মাটিরে কষ্ট দেওন গুনাহ" - এ উক্তিটি করেছিল মজিদ। মজিদ যখন বিধবা রহিমাকে নতুন বিয়ে করে, তখন সে তার সবকিছু খেয়াল করত। রহিমা যখন বাড়ির উঠানে হাঁটত, তখন মজিদ চেয়ে চেয়ে দেখে। আর মুচকি হেসে বলে - "অমন কইরা হাঁটতে নাই বিবি, মাটি গোস্বা করে। এই মাটিতেই তো একদিন ফিরিয়া যাইবা। "মাটিরে কষ্ট দেওন গুনাহ"। কবরের আজাবের কথা স্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিতেই মজিদ এই কথা ব্যক্ত করে।
উদ্দীপকটি লালসালু উপন্যাসের মজিদের ভণ্ডামীয় প্রতারণার দিকটি মনে করিয়ে দেয়।
লালসালু উপন্যাসে মসজিদ একজন প্রতারক ধর্মব্যবসায়ী। সে ধর্মের নাম করে মহব্বতনগর গ্রামের মানুষদের ভয় দেখায়। যেদিন মাজারে জিকির থাকে সেদিন মসজিদ লম্বা সাদা আলখাল্লা পড়ে। তার আওয়াজ বিচিত্রতর হতে থাকে। জিকির করতে করতে মসজিদ অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন হট্টগোল করে মানুষ মসজিদের পায়ে চুম্বন করে হাহাকার করে।
ঠিকই উদ্দীপকের নাগর ফকিরের মৃত্যুর পর তার অনুসারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তার পরিবার এবং অনুসারীরা তার কবরকে মাজারে রূপান্তরিত করে এর থেকে অনেক ধনসম্পদ লুট করতে থাকে।
আমাদের সমাজে বেশিরভাগ মানুষ ধর্মান্ধ হওয়ার কারণে লোকধর্মের নাম করে তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করে তাদের ঠকায়, প্রতারণা করে।
উদ্দীপকে গায়েবী মাজার প্রতিষ্ঠাকারীরা যেমন মহব্বত নগর গ্রামেরই বাসিন্দা।
ধর্মবিশ্বাস আমাদের দেশের মানুষের একটি সহজাত বৈশিষ্ট্য কিন্তু একশ্রেণীর মানুষ আছে যারা সাধারন মানুষের সরল বিশেষের সুযোগ নিয়ে তাদের প্রতারণা করে ধর্মের লেবাস পড়ে তাদের স্বার্থ উদ্ধার তৎপর করে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষ অশিক্ষিত ধর্মানন্দ তাই স্বার্থন্বেষী ভন্ডরা ধর্মের নাম করে তাদের উপর খুব সহজেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
লালসালু উপন্যাসের যে সমাজচিত্র অঙ্কিত হয়েছে তার প্রতি যথাযথ ইঙ্গিত করা হয়েছে উদ্দীপকের সাথে। যুগ যুগ ধরে শেকড় দ্বারা কুসংস্কার অন্ধবিশ্বাস ও ভীতির সঙ্গে সুস্থ জীবন আকাঙ্খার দ্বন্দ্ব। গ্রামবাসী সরলতা ধর্ম বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ভন্ড ধর্মব্যবসায়ী মজিদ প্রতারণার জাল বিস্তার করে। এবং সেখানে তাকে সাহায্য করে অশিক্ষিত ধর্মান্ধ গ্রামবাসীরা।
ঠিক তেমনি উদ্দীপকে নাগর ফকিরের সমাধিকে গায়েবী মাঝারে রূপান্তরিত করার ক্ষেত্রেও তার অনুসারীরা এবং গ্রামের বাসিন্দারা সাহায্য করে। এর মাঝেই তাদের মধ্যেও ধর্মান্ধতা এবং অশিক্ষার প্রভাব দেখা যায়।