| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নাগরিক, নগররাষ্ট্র ও…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৫ – পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

নাগরিক, নগররাষ্ট্র ও সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়ার জন্য উচ্চ মাধ্যমিকে একটি বিশেষ বিষয় পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক জীব হিসেবে শিক্ষার্থীদের অন্যান্য বিষয়ের সাথে এই বিষয়টি অধ্যয়নের গুরুত্ব অত্যাধিক।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালনা করাই হচ্ছে সুশাসন।
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিক ও নাগরিকতা, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক সম্পর্কে আলোচনা করে। অতএব যেহেতু পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু নাগরিকতাকেন্দ্রিক তাই পৌরনীতিকে নাগরিকতাবিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়।
উদ্দীপকে উচ্চ মাধ্যমিকের যে বিষয়টির কথা বলা হয়েছে সেটি হলো পৌরনীতি ও সুশাসন। এর পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, নগর, নগররাষ্ট্র ও সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পাওয়ার জন্য উচ্চ মাধ্যমিকে একটি বিষয় পাঠ্যসূচির আওতাভুক্ত করা হয়েছে। এরূপ বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতিফলন ঘটে একমাত্র পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টিতে। কেননা, পৌরনীতি মূলত নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিক জীবনের সাথে যা কিছু জড়িত তার সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত পৌরনীতি ও সুশাসনের পরিধি বিস্তার লাভ করেছে। পৌরনীতি নাগরিকতা এবং নাগরিকতার সাথে জড়িত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করে। নাগরিকের উত্তম এবং পূর্ণাঙ্গ জীবন প্রতিষ্ঠা করার জন্যই মূলত রাষ্ট্রের উৎপত্তি। আর একটি দেশের সুনাগরিকগণ সেই দেশের সর্বোত্তম সম্পদ। পৌরনীতি এ সমস্ত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। আবার, পৌরনীতি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আলোচনা করে। রাষ্ট্রের সংজ্ঞা, প্রকৃতি ও উৎপত্তির ইতিহাস, রাষ্ট্রের উপাদানসমূহ, সংবিধানের প্রকৃতি ও শ্রেণিবিভাগ, সরকারের প্রকৃতি ও শ্রেণিবিভাগ, সরকারের বিভিন্ন বিভাগের প্রকৃতি, সংগঠন ও কার্যাবলি, নির্বাচন ও নির্বাচকমণ্ডলী, রাজনৈতিক দল, জনমত, রাজনৈতিক সংগঠন নিয়ে পৌরনীতি বিস্তৃত আলোচনা করে। আর এসব বিষয়ে জ্ঞানলাভের মাধ্যমে দেশের নাগরিকগণ দেশ গঠন ও দেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়।
উক্ত বিষয়টি তথা পৌরনীতি ও সুশাসনের শিক্ষা আমার জীবনের সমগ্র ক্ষেত্রে ব্যবহার্য বলে আমি মনে করি।
পৌরনীতি মানুষকে নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে তার সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং ভূমিকা নির্ধারণ করে থাকে, যা একটি রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জ্ঞানী, বুদ্ধিমান ও শিক্ষিত নাগরিকই রাষ্ট্রের সম্পদ। আর পৌরনীতিই মানুষের মাঝে একজন সুনাগরিকের চেতনা উন্মুক্ত করে দেয়। পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু হলো একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের কী কী অধিকার ও পালনীয় আছে তা নির্ধারণ করা। আর এ ধরনের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সুনাগরিকতা অর্জনের দিকনির্দেশনা একমাত্র পৌরনীতিই দিয়ে থাকে। পৌরনীতি মূলত সুনাগরিকতার শিক্ষাদান করে থাকে। একটি রাষ্ট্রের একজন নাগরিকের কী ধরনের কাজ সম্পাদন করলে রাষ্ট্রের উন্নতি সাধিত হবে তা পৌরনীতিই শিক্ষা দেয়, যা সুনাগরিকতা অর্জনে সহায়ক। রাষ্ট্রে নাগরিকের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের উন্নয়নের পূর্বশর্ত। পৌরনীতিই নাগরিকের মধ্যে এ গণতান্ত্রিক চেতনার সঞ্চার করে থাকে। পৌরনীতি উদার দৃষ্টিভঙ্গির শিক্ষা প্রদান করে মানুষের কাঙ্ক্ষিত সুযোগ-সুবিধাকে নাগরিক অধিকারে পরিণত করে। পৌরনীতি নাগরিকের চলমান প্রকৃতির আলোচ্য বিষয়, যা নাগরিকের ঐতিহাসিক পটভূমি বর্ণনা করে, মানুষের মাঝে সুনাগরিকতার গুণাবলিকে বিকশিত করে। তাই আধুনিক নাগরিকবোধ সৃষ্টিতে পৌরনীতি পাঠের কোনো বিকল্প নেই। নাগরিকতার এমন কোনো দিক নেই যা পৌরনীতি আলোচনা করে না।
আলোচনার পরিশেষে এটি প্রতীয়মান হয় যে, নাগরিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞান আবশ্যক। সমাজে বা রাষ্ট্রে সুনাগরিক হিসেবে ভূমিকা পালনের জন্য পৌরনীতি ও সুশাসনের শিক্ষা তাই আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবহার্য।