| ㅤ | A. Nayan19 Oct 2026 (1 week ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নাহিদের চলাফেরা, আচার-আচরণ,…’ ঢাকা ইমপিরিয়াল কলেজ ২০২৬ – ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি, ইসলাম শিক্ষা, ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র (এইচএসসি)

নাহিদের চলাফেরা, আচার-আচরণ, কথাবার্তা সবকিছুই আপত্তিকর। তার কথাবার্তা যেমন অহংকারপূর্ণ তেমনি তার পোশাক হচ্ছে অশালীন। বড়দের যেমন সে শ্রদ্ধা করে না, সালাম দেয় না, ছোটদের তেমনি স্নেহ করে না। পক্ষান্তরে, রাকিবের আচার-আচরণ নাহিদের সম্পূর্ণ বিপরীত।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
ইসলাম শিক্ষার মূল উৎস হলো আল-কুরআন ও আল হাদিস।
ইসলামি শিক্ষার সূচনা হয়েছে ওহির মাধ্যমে। আদম (আ.)-কে সৃষ্টির পর আল্লাহ তায়ালা প্রত্যক্ষ ওহির মাধ্যমে তাঁকে জ্ঞানদান করেন। কুরআনে এসেছে- وَعَلَّمَ أَدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا অর্থাৎ, “আর আল্লাহ শেখালেন আদমকে প্রতিটা বিষয়ের নাম।” (সূরা আল-বাকারা : ৩১) পরবর্তীকালে ওহির মাধ্যমেই মহান আল্লাহ এ শিক্ষার আবেদন ও বিস্তার ঘটিয়েছেন। তিনি বলেন, “যেমনিভাবে তোমাদের কাছে আমি তোমাদের মধ্য থেকেই রাসুল পাঠিয়েছি- যিনি তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করবেন, তোমাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবেন, তোমাদের শিক্ষা দেবেন কিতাব ও হিকমাহ এবং সে বিষয়-যা তোমরা জানতে না।" (সূরা আল-বাকারা : ১৫১)
উদ্দীপকে বর্ণিত নাহিদের কর্মকাণ্ডে ইসলামি সংস্কৃতির অভাব পরিলক্ষিত হয়। ইসলাম অনুমোদিত ও শরিয়ত নির্দেশিত মুসলিম জাতির জীবনপদ্ধতিকে ইসলামি সংস্কৃতি বলে।
ইসলামি সংস্কৃতি ব্যবহারিক জীবনে কথাবার্তা ও আচরণে শালীনতা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেয়। রুচিসম্মত ও মার্জিত পোশাক পরিধানের জন্য বলা হয়। বড়দের সম্মান করতে এবং ছোটদের স্নেহ করতে আদেশ করে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "আর তোমরা (নারীরা) নিজ গৃহে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন জাহিলি যুগের মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।" (সূরা আল-আহযাব : ৩৩) ইসলামি সংস্কৃতিতে বড়দের শ্রদ্ধা করতে ও ছোটদের স্নেহ করতে শেখায়। এ সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, "যে বড়দের সম্মান করে না এবং ছোটদের স্নেহ করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।” (তিরমিযি)
উদ্দীপকের আলোকে আমরা নাহিদের মধ্যে এর বিপরীত চরিত্র দেখতে পাই। তাছাড়া সে অহংকারীও। অথচ আল্লাহ তায়ালা অহংকার করতে সম্পূর্ণরূপে নিষেধ করেছেন। তাই বলা যায়, নাহিদের কর্মকাণ্ডে ইসলামি সংস্কৃতির অভাব পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের রাকিবের আচরণ নাহিদের আচরণের বিপরীত। অর্থাৎ রাকিবের আচার-আচরণ শালীন ও মার্জিত। মার্জিত ও শালীন আচরণ ইসলামি আদর্শে গড়া এবং ইসলামি সংস্কৃতির অঙ্গ। তাই এর গুরুত্ব অপরিসীম।
মানুষের ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে তার আচরণের মাধ্যমে। এজন্য আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পৃথিবীতে ঔদ্ধত্যভাবে চলতে নিষেধ করেছেন। এ সম্পর্কে তিনি বলেন, "তুমি (আল্লাহর) জমিনে ঔদ্ধত্যভাবে চলাফেরা কর না।" (সূরা লুকমান: ১৮) নবি করিম (সা.) বলেন, "তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে সুন্দরতম চরিত্রের অধিকারী।” (বুখারি) আর সুন্দর আচরণ সুন্দর চরিত্রের অন্যতম গুণ।
মূলত রাকিবের মাঝে আখলাকে হামিদার গুণগুলো ফুটে উঠেছে। এটি রাকিবের ইহকালীন জীবনের অলংকারস্বরূপ এবং পরকালীন জীবনের মুক্তির হাতিয়ার। রাসুল (সা.) বলেন, "সুন্দর চরিত্রই পুণ্য।" (মুসলিম) মূলত সুন্দর আচরণ ইসলামি সংস্কৃতিরই অংশ। আর ইসলামি সংস্কৃতি হলো আদর্শ জীবনপদ্ধতির অন্যতম নিদর্শন।
সুতরাং বলা যায়, রাকিবের আচরণ ইসলামি সংস্কৃতির আলোকে গঠিত তাই মানবজীবনে ও সমাজজীবনে এর গুরুত্ব অত্যধিক।