| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নাইমা একাদশ শ্রেণির…’ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ ২০২৬ – পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

নাইমা একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে তার পঠিত বিষয় হিসেবে এমন একটি বিষয়কে বেছে নিয়েছে যা পাঠ করার মাধ্যমে সে একজন সুনাগরিক হতে পারবে। অন্যদিকে তার বন্ধু জারা আরেকটি বিষয় বেছে নিয়েছে যা পাঠ করার মাধ্যমে সে অতীত ঘটনাবলি সম্পর্কে জানতে পারবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
পৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Civics' শব্দটির উৎপত্তিগত অর্থ হলো নাগরিক ও নগররাষ্ট্র বিষয়ক বিজ্ঞান।
বিশ্বনাগরিক বলতে এমন একজন নাগরিককে বোঝায় যার ভূমিকা ও দায়িত্ব কেবল নিজ রাষ্ট্রের সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক বা বৈশ্বিক পর্যায়ে বিস্তৃত। আধুনিক বিশ্বে বিশ্বায়নের ফলে মানুষ এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে সুবিধা ভোগ করে এবং বিনিময়ে বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানে দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হয়। যখন একজন নাগরিক আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি অনুগত থেকে বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করে, তখনই নাগরিকতা আন্তর্জাতিক বা বিশ্বনাগরিক রূপ পরিগ্রহ করে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নাইমার গ্রহণকৃত বিষয়টি হলো 'পৌরনীতি ও সুশাসন', যার পরিধি ও বিষয়বস্তু নাগরিক জীবনের ন্যায় অত্যন্ত বিস্তৃত।
'পৌরনীতি ও সুশাসন' নাগরিকের অর্থ, নাগরিকতা অর্জন ও বিলোপ এবং সুনাগরিকতার গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করে। সমাজ ও রাষ্ট্রের আদি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিবারের বিবর্তন এবং সামাজিক পরিবর্তনের প্রকৃতি এর পরিধির অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বরূপ ও কার্যাবলি এই শাস্ত্র বিশদভাবে আলোচনা করে। পৌরনীতি নাগরিকের স্থানীয় প্রতিষ্ঠান (পৌরসভা) থেকে শুরু করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর (জাতিসংঘ, ওআইসি) গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে। এটি নাগরিকের অতীতের অধিকার-কর্তব্য ও বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে ভবিষ্যৎ নাগরিক জীবনের আদর্শরূপের ইঙ্গিত দেয়। আইন, স্বাধীনতা ও সাম্যের ন্যায় বিমূর্ত বিষয় এবং ই-গভর্ন্যান্স ও সুশাসনের ন্যায় আধুনিক ধারণাগুলোও এর পরিধিভুক্ত।
হ্যাঁ, আমি মনে করি জারার পঠিত বিষয় অর্থাৎ 'ইতিহাস'-এর জ্ঞান ব্যতীত নাইমার পঠিত বিষয় 'পৌরনীতি ও সুশাসন'-এর অধ্যয়ন অসম্পূর্ণ।
পৌরনীতি ও সুশাসন এবং ইতিহাস সামাজিক বিজ্ঞানের দুটি ঘনিষ্ঠ ও পরিপূরক শাখা। পৌরনীতি নাগরিকের রাজনৈতিক জীবন নিয়ে কাজ করে, আর ইতিহাস হলো মানবসমাজের বিবর্তনের ধারাবাহিক সংকলন। এই দুটি বিষয় একে অপরের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। অতীতের পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়গুলোই বর্তমানে ইতিহাস হিসেবে গণ্য হয়; তাই ইতিহাসের তথ্য ছাড়া পৌরনীতি অপূর্ণ থেকে যায়। এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক সিলি বলেছেন, "ইতিহাস ছাড়া পৌরনীতি ভিত্তিহীন এবং পৌরনীতি ছাড়া ইতিহাস নিষ্ফল"।
পৌরনীতি তার আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন- রাষ্ট্রের উৎপত্তি, সরকারের বিবর্তন এবং শাসনতান্ত্রিক বিকাশের তথ্য ইতিহাস থেকে গ্রহণ করে। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের বর্তমান শাসনব্যবস্থা বা নাগরিকের অধিকার বুঝতে হলে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা অপরিহার্য। ইতিহাসের তথ্যাদি বর্তমানকে সমালোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গঠনের পথ প্রশস্ত করে দেয়।
অতএব বলা যায়, ইতিহাস অতীতের স্বৈরাচারী শাসকদের পরিণতি এবং ভালো শাসনের সুফল বর্ণনা করে নাগরিককে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে। যদিও ইতিহাসের আলোচনা বস্তুনিষ্ঠ বা মূর্ত এবং পৌরনীতির আলোচনা অনেক ক্ষেত্রে বিমূর্ত, তবুও তারা পরস্পর সহায়ক। অধ্যাপক বার্জেসের মতে, এই দুটি বিষয় পৃথক হয়ে গেলে একটি প্রাণ হারাবে এবং অন্যটি লক্ষ্যহীন হয়ে পড়বে। সুতরাং, একজন সচেতন নাগরিক হতে হলে ইতিহাসের ভিত্তিমূলে দাঁড়িয়েই পৌরনীতির জ্ঞান অর্জন করতে হবে।