| ㅤ | A. Nayan17 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘’নাইমা রহমান’ প্রতিদিন…’ যশোর বোর্ড ২০২৫ – নাগরিক সমস্যা ও আমাদের করণীয়, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

‘নাইমা রহমান’ প্রতিদিন কলেজে যাতায়াত করার সময় কিছু খারাপ ছেলেদের আজে-বাজে কথার দ্বারা হয়রানির শিকার হয়। নাইমা রহমান তার ভাইকে বিষয়টি অবহিত করেন। তখন তার ভাই প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এই ঘটনার জন্য নাইমা রহমানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। কিছুদিন পর খারাপ ছেলেগুলোকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় এবং নাইমা রহমান আবার পড়ালেখা শুরু করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১০
অটিজম হলো মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশের একটি জটিল প্রতিবন্ধকতা, যা শিশুর জন্মের এক বছর ৬ মাস থেকে তিন বছরের মধ্যে প্রকাশ পায়।
খাদ্য মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম। খাদ্য খেয়ে মানুষ বেঁচে থাকে, ক্ষয়পূরণ হয়, বৃদ্ধি হয় এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে, যদি তা মানসম্পন্ন হয়। আর যে খাদ্য ভেজাল ও ক্ষতিকর পদার্থ থেকে মুক্ত এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান নিশ্চিত করতে পারে, তাই নিরাপদ খাদ্য।
উদ্দীপকে নাইমা রহমান ইভটিজিং-এর শিকার হয়েছে।
উদ্দীপকে নাইমা রহমান কলেজে যাতায়াতকালে কিছু ছেলের অশালীন কথাবার্তার মাধ্যমে যৌন হয়রানির শিকার হয়। তার ভাই প্রতিবাদ করলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং নাইমার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। এটি স্পষ্টতই ইভটিজিং বা যৌন হয়রানির একটি গুরুতর উদাহরণ।
ইভটিজিং হলো এক ধরনের প্রকাশ্য যৌন হয়রানি যা নারী নির্যাতনের একটি রূপ। এটি সাধারণত নারীদের চলাফেরার সময় প্রকাশ্যে কটূক্তি, অশালীন ইঙ্গিত, অকারণে টিজ করা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ঘটানো হয়। ইভটিজিংয়ের কারণে অনেক নারী শিক্ষা, চলাফেরা এবং নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হয়, যা ব্যক্তিগত জীবন ও সমাজে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনাটিতে অশালীন উক্তি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে, যা ইভটিজিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উপরন্তু, হুমকির মাধ্যমে প্রতিবাদ দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা একটি সামাজিক অপরাধ। হাইকোর্টের রায়ে এই ধরনের আচরণ যৌন হয়রানি হিসেবে গণ্য হয় এবং আইনি শাস্তির আওতায় পড়ে। এই ধরনের অপরাধ নারীর ব্যক্তিত্ব, স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করে। সুতরাং, উদ্দীপকের ঘটনা বিশ্লেষণে বলা যায় যে, নাইমা রহমান একটি স্পষ্ট ইভটিজিং বা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।
উক্ত সমস্যা তথা ইভটিজিং নামক সমস্যার সমাধানে সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নাইমা রহমান ইভটিজিংয়ের শিকার হয়ে লেখাপড়া বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ দোষীদের গ্রেপ্তার করে এবং নাইমা আবার পড়ালেখা শুরু করে। এই ঘটনার মাধ্যমে বোঝা যায়, সরকার ইভটিজিং প্রতিরোধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার ইভটিজিংকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করেছে এবং এ সংক্রান্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করছে। উদ্দীপকে পুলিশের হস্তক্ষেপে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দেওয়ার যে পদক্ষেপ দেখা যায়, তা সরকারের দায়িত্বশীল অবস্থানের পরিচায়ক। এ ধরনের ব্যবস্থা ভুক্তভোগীদের মানসিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে এবং অন্য ভুক্তভোগীদেরও সাহসী হতে উৎসাহিত করে। একইসঙ্গে এটি সমাজে একটি বার্তা পৌঁছে দেয় যে, ইভটিজিং একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্র জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার এ সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
আলোচনার শেষে তাই বলা যায়, ইভটিজিং প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ খুবই কার্যকরী। তবে সরকার ও সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ইভটিজিং সমূলে নির্মূল করা সম্ভব। এর মাধ্যমে প্রত্যেক মেয়ে তার শিক্ষা ও জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারে।