| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নানা অন্ধবিশ্বাস ও…’ সরকারি সিটি কলেজ ২০২৫ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

নানা অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামের ছেলে সুজন গ্রামকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার স্বপ্ন দেখে এবং সেই লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়া শেষে গ্রামে ফিরে বাবার সহযোগিতায় স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। সে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি অবসর সময়ে গ্রামের যুবসমাজকে নানা গঠনমূলক কাজে উৎসাহ দেয়। তাদের সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখায়। আর তার এ কাজকে গ্রামের ইমাম সাহেব সমর্থন করলে অন্যরাও তাকে সমর্থন দিতে শুরু করে। ধীরে ধীরে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে জলদিয়া গ্রাম।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
'লালসালু' উপন্যাস ১৯৪৮ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।
• মোদাচ্ছের পিরের মাজারকে কেন্দ্র করে ধর্মব্যবসায় টিকিয়ে রাখতে মজিদ আওয়ালপুরে গিয়েছিল।
• আওয়ালপুর এলাকায় এক পিরের আগমন ঘটায় মজিদের মনে আশঙ্কা দেখা দেয়। এরই মধ্যে অনেকে সেই পিরের কাছে যাতায়াত শুরু করে। মজিদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা একবার তার প্রতি কারও অবিশ্বাস বা সন্দেহ দেখা দিলে তা ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মহব্বতনগরের লোকেরা তাকে যেভাবে মান্য করে, তা যদি তারা আর না করে; যদি তারা তার ভণ্ডামি-প্রতারণা ধরে ফেলে- এসব ভাবনা থেকেই মজিদ আওয়ালপুরে যায়। সে চায় তার ধর্মব্যবসায় টিকিয়ে রাখতে।
• উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার দিক দিয়ে সাদৃশ্য রয়েছে।
• মানবজীবনে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। এটি ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতিগত উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য অংশ। শিক্ষা মানুষের চিন্তাশক্তি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
• উদ্দীপকে দেখা যায়, সমাজের অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রামকে আলোকিত করতে সুজন স্বপ্ন দেখেছে। নিজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে গ্রামবাসীর জন্যও স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছে। সুজনের এই সাহসী উদ্যোগ গ্রামবাসীর জীবনে আশীর্বাদ হয়ে ধরা দেয়। ফলে ধীরে ধীরে হলদিয়া গ্রাম জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে। 'লালসালু' উপন্যাসেও দেখা যায়, গ্রামের মানুষ অনেক বেশি কুসংস্কারাচ্ছন্ন। তারা যেকোনো সমস্যায় পিরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। গ্রামের মানুষদের এই অজ্ঞতা থেকে মুক্ত করে সচেতন ও সমৃদ্ধিশালী করার জন্য আক্কাস গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। এভাবেই উদ্দীপকের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের আক্কাসের কর্মকাণ্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।
• "ঘটনাগত সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের ইমাম সাহেবের তুলনায় 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের উদ্দেশ্য সুদূরপ্রসারী"- উক্তিটি যথার্থ।
• সমাজের কিছু মানুষ সাধারণ মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করে। তারা অনেক সময় কৌশলে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।
• উদ্দীপকের সুজন একজন উচ্চশিক্ষিত যুবক। গ্রামের অন্ধবিশ্বাসে আচ্ছন্ন মানুষকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে সে স্কুল প্রতিষ্ঠা করে। পাঠদানের পাশাপাশি গ্রামের যুবসমাজকেও নানা গঠনমূলক কাজে উৎসাহ দেয়। এতে তার গ্রামের ইমাম সাহেবও সানন্দে গ্রহণ করেন বিষয়টিকে এবং তাকে সমর্থন দেন। কিন্তু 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ ছিল ইমাম সাহেবের থেকে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম।
• 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ একজন শঠ, প্রতারক, ভন্ডপির। ব্যক্তিস্বার্থকে সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া এই ব্যক্তি জানে গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষ সচেতন হয়ে যাবে, তার প্রভাব-প্রতিপত্তি ক্ষুণ্ণ হবে। তাই সে নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে যেকোনো কাজ করতেই প্রস্তুত ছিল। তাই আক্কাস গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে মজিদ তাতে বাধা দেয়। তাকে ধর্মীয় দিক থেকে আঘাত করে, যাতে অন্যরাও আবেগাপ্লুত হয়ে মজিদকেই সমর্থন করে। আর আক্কাসের স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। এসবের পেছনে মজিদের উদ্দেশ্য ছিল যে, প্রচলিত বিশ্বাসের কাঠামো ও প্রথাবদ্ধ জীবনধারাকে সে টিকিয়ে রাখতে চায়, কিন্তু উদ্দীপকের ইমাম সাহেব তা চাননি। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথোপযুক্ত হয়েছে।