| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নারীকে আপন ভাগ্য…’ নটরডেম কলেজ ২০২৬ – অর্ধাঙ্গী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার
কেন নাহি দিবে অধিকার
হে বিধাতা,
নত করি মাথা
পথপ্রান্তে কেন রব জাগি
দৈবাগত দিনে?
শুধু শূন্যে চেয়ে রব? কেন নিজে নাহি লব চিনে সার্থকের পথ?
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
'বোধোদয়' গ্রন্থটির লেখক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
"প্রভুদের বিদ্যার গতির সীমা নাই"- বলতে লেখিকা পুরুষদের শিক্ষিত হওয়ার অবাধ সুযোগ থাকাকে বুঝিয়েছেন।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে নারীর অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। পুরুষশাসিত বাঙালি সমাজে নারীর কোনো সামাজিক মর্যাদা ছিল না। যাপিত জীবনের সব ক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে ছিল। শিক্ষার ক্ষেত্রে নারীরা প্রাক-প্রাথমিক পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ পেত। অন্যদিকে সমাজের সকল ক্ষেত্রে পুরুষদের কর্তৃত্ব বিরাজমান ছিল। তারা দেশের সকল স্তরে পড়ার সুযোগ পেত। এমনকি শিক্ষার উদ্দেশ্যে কেউ কেউ বিলেতে গমন করত। লেখিকা সামাজিক ক্ষেত্রে পুরুষদের শিক্ষার সুযোগ প্রসঙ্গে আলোচ্য মন্তব্যটি করেছেন।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বর্ণিত নারীর আত্মজাগরণের দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখিকা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীরা বরাবরই অবহেলিত। তাদের এগিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না। তাই তো প্রাবন্ধিক নারীদের নিজের মুক্তির ব্যবস্থা নিজেকেই করতে বলেছেন। তিনি নারীদের মানসিক দাসত্ব থেকে বের হওয়ার কথা বলেছেন।
উদ্দীপকের কবিতাংশে নারীর অধিকার নারীকেই আদায় করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নারীকে নিজের ভাগ্য জয় করার অধিকার অন্য কেউ দিতে চায় না। তাই তো উদ্দীপকের কবি নারীকে নিজেদের সার্থকতার পথ নিজেদেরই খুঁজে নিতে বলেছেন। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও লেখিকা নারীকে মানসিক দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে বলেছেন। তাঁর মতে, নারীরা যদি আত্মসচেতন না হয় তাহলে তারা দাসত্ব থেকে কখনই মুক্তি পাবে না। প্রবন্ধের এই বিষয়টি উদ্দীপকের নারীর নিজের সার্থকতার পথ নিজে খুঁজে নেওয়ার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপক ও 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের আলোকে "নারীশিক্ষার উন্নতিকল্পে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আবশ্যক" উক্তিটি যথার্থ।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক পুরুষের পাশাপাশি নারীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন কামনা করেছেন। অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারীসমাজকে জ্ঞানচর্চায় ও কর্মে ব্রত হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। নারীরা যদি মানসিক দাসত্ব থেকে বের হতে না পারে তাহলে তাদের মুক্তি সম্ভব নয়।
উদ্দীপকে নারীকে আপন ভাগ্য জয় করতে বলা হয়েছে। বক্তা এখানে আশা করেছেন যে, শিক্ষার মাধ্যমে নারী নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠবে। ফলে তারা নিজেদের সার্থকতার পথ নিজেরাই চিনে নিতে সমর্থ হবে। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের লেখিকার মতে, শিক্ষাদীক্ষার মাধ্যমে অধিকার সচেতনতা নারীসমাজকে তাদের পশ্চাৎপদতা থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম। এ জন্য তিনি শিক্ষাদীক্ষার মাধ্যমে নারীসমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন প্রত্যাশা করেছেন।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক নারীর পশ্চাৎপদতার জন্য পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও নারীর মানসিকতাকে দায়ী করেছেন। নারীকে প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের অপরিহার্য ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন নারীর দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। নারী যদি নিজেদের মানসিক দাসত্বের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে পারে তবেই তারা নিজেদের পথ নিজেরা চিনে নিতে পারবে। উদ্দীপকেও নারীকে আপন পথ চিনে নিতে বলা হয়েছে। তাই বলা যায় যে, আলোচ্য উক্তিটি যথার্থ।