| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নার্গিস এক মুসলিম…’ ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ ২০২৬ – অর্ধাঙ্গী, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

নার্গিস এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। বালিকা বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার খুব শখ থাকলেও সে পারিবারিক শাসন ডিঙিয়ে স্কুলে যেতে পারেনি। মায়ের কাছে সে আরবি বর্ণমালা শিখেছে। এরপর কায়দা শিখে যখনই আমপারা শিখতে শুরু করে তখনই তার বিয়ের প্রস্তাব আসে। তার পিতা-মাতা কালবিলম্ব না করে মেয়ের বিয়ে দেয়। ভাগ্যগুণে নার্গিস ভালো স্বামী পেয়ে যায়। সে স্বামীর সংসারে থেকে নিজের প্রচেষ্টা ও স্বামীর উৎসাহে বিদ্যা অর্জন করে। তাতে সে সমাজে নারীর হীন অবস্থা বুঝতে পারে। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সে নারীশিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে তার এলাকার নারীদের শিক্ষিত করে তোলে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৮
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে পার্সি মহিলাদের পর্দা মোচনের কথা বলা হয়েছে।
মানবসমাজে নারী ও পুরুষ একে অপরের পরিপূরক হওয়ায় প্রাবন্ধিক নারী ও পুরুষকে দ্বিচক্রাযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক সমাজে বিদ্যমান নারী ও পুরুষের বৈষম্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। অথচ সমাজের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য উভয় পক্ষের সমান অংশগ্রহণ থাকা দরকার। উভয়ের অবদান সমান হলেই সমাজ দ্বিচক্রযানের মতো সামঞ্জস্যপূর্ণ গতিতে এগিয়ে যাবে। পক্ষান্তরে উভয়ের অবদানে তারতম্য ঘটলে সমাজের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। তাই লেখক নারী ও পুরুষকে দ্বিচক্রযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
উদ্দীপকের পিতৃ-পরিবারে ব্যক্ত নারীর প্রতি মনোভাব 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের পুরুষ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতাকে প্রকাশ করেছে।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে লেখক তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় নারীর প্রতি পুরুষ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতাকে যৌক্তিকভাবে তুলে ধরেছেন। এ প্রবন্ধে তিনি সমাজজীবনের সব ক্ষেত্রে মুসলমান নারী সমাজের পশ্চাৎপদতা, দুর্বহ জীবন ও অধিকারহীনতা ফুটিয়ে তুলেছেন।
উদ্দীপকের নার্গিসের পিতৃপরিবারের কর্মকাণ্ডে নারীর প্রতি সংকীর্ণ মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। তার পিতৃপরিবার তাকে শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে এবং বাল্যবিবাহ দিতেও কসুর করেনি। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধেও লেখক পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থায় নারীর অধিকারহীনতা প্রকাশ করেছেন। তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় নারীশিক্ষার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। সমাজে বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, নারী নির্যাতন ছিল নৈমিত্তিক ঘটনা। নারীর অধিকারহীনতা ও নারীর প্রতি পুরুষের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে উদ্দীপকের পিতৃপরিবারের আচরণে।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের লেখকের মনোভাবের নারীজাগরণের দিকটি ফুটে ওঠায় নার্গিসের কাজের মধ্যে এ প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।
'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক আবগের গাঢ়তা ও যুক্তির তীক্ষ্ণতার মাধ্যমে নারীজাগরণের পক্ষে সুচিন্তিত ও বলিষ্ঠ মতবাদ ব্যক্ত করেছেন। তিনি দেখাতে চেয়েছেন- সমাজজীবনের অগ্রগতি ও কল্যাণ সাধনের জন্য নারীজাগরণ ও পুরুষ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই।
উদ্দীপকের নার্গিস তার স্বামীর প্রেরণায় নারী সমাজের দুরবস্থার কথা বুঝতে পারে। নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য সে নারী শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে এলাকার নারীদের উন্নয়নে ভূমিকা পালন করে। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকও নারী সমাজের দুরবস্থার কথা বুঝতে পেরে সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য পুরুষ সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও নারীজাগরণ কামনা করেন।
উদ্দীপকের নার্গিস একজন জাগরিত নারী। সে নারীর উন্নয়নের জন্য নারীদের শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে। 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকও নারীকে অধিকার সচেতন করে তোলার লক্ষ্যে নারীজাগরণ কামনা করেছেন। তিনি দেখাতে চেয়েছেন- সমাজের অগ্রগতির জন্য সমাজের অর্ধেক শক্তি নারীকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মক্ষম ও যুগোপযোগী করে তোলা। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের নার্গিসের কাজের মধ্যে 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিকের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে।