| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নাসির একজন জনপ্রিয়…’ আনন্দ মোহন কলেজ ২০২৬ – সাহিত্যে খেলা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

নাসির একজন জনপ্রিয় লেখক হতে চান। পাঠকের চাহিদা বুঝে তিনি লেখালেখি চালিয়ে যান। এতে তিনি সাময়িক সফলতাও অর্জন করেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে তার নামটি ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৬
লেখকেরা দশের কাছে হাততালির প্রত্যাশা রাখেন।
"সাহিত্যের উদ্দেশ্য সকলকে আনন্দ দেওয়া, কারও মনোরঞ্জন করা নয়"- সাহিত্যের স্বরূপ বোঝানোর জন্য প্রাবন্ধিক প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেছেন।
এ পৃথিবীতে খেলার ময়দানই একমাত্র জায়গা, যেখানে ব্রাহ্মণ-শূদ্রের প্রভেদ নেই। অনুরূপভাবে সাহিত্যও এমন একটি ক্ষেত্র, যা চর্চার ক্ষেত্রে তেমন কোনো বাধা নেই। তবে তা যদি সমাজের নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে লিখিত হয়, তখন সাহিত্য হয়ে পড়ে স্বধর্মচ্যুত। কেননা একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির কাছে একই রকম সাহিত্যের কদর দীর্ঘদিনব্যাপী থাকে না। তাছাড়া সাহিত্যের মুখ্য উদ্দেশ্যই হচ্ছে মানুষের মনকে জাগানো। মূলত প্রাবন্ধিক সাহিত্যের স্বরূপ বোঝানোর জন্য প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটির অবতারণা করেছেন।
উদ্দীপকের সঙ্গে 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের সাদৃশ্য হলো পাঠকের মনোরঞ্জনকারী সাহিত্যিকের আচরণের দিকটি।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক প্রকৃত শিল্পীর মনোভাব ও কর্মকুশল তুলে ধরেছেন। প্রকৃত সাহিত্যিক সাহিত্যকে খেলা হিসেবে নেন। প্রবন্ধে লেখক প্রকৃত সাহিত্যিকের সাহিত্য সৃষ্টিকে খেলার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সৌন্দর্য সৃষ্টির মাধ্যমে আনন্দের সঞ্চার করাই তাঁর একমাত্র উদ্দেশ্য।
উদ্দীপকের নাসির পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী লেখা লিখে জনপ্রিয় লেখক হতে চান। সাময়িকভাবে তিনি সফল হলেও ধীরে ধীরে তার লেখার আবেদন ম্লান হতে থাকে। তারপর এক সময় তার সৃষ্ট সাহিত্য কালের অতল গর্ভে হারিয়ে যায়। বিষয়টি 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধের পাঠকের মনোরঞ্জনকারী সাহিত্যিকের মনোভাব ও কর্মকান্ডের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। নিজের মনোভাবের সঙ্গে বিশ্বমনের সংযোগ সাধনই লেখকের ব্রত। তবে এর বিপরীত চিত্রও দেখা যায়। কেউ কেউ আবার খ্যাতির জন্য পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী সাহিত্য সৃষ্টি করেন। এ ধরনের সাহিত্য সাময়িকভাবে জনপ্রিয় হলেও কালোত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হয়।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সাহিত্য রচনা করলে শিল্পগুণ ক্ষুণ্ণ হয়, তাই "কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্যচর্চা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে" মন্তব্যটি যথার্থ।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক দেখিয়েছেন যে, সাহিত্য সৃষ্টির একমাত্র লক্ষ্য- সৌন্দর্য সৃষ্টি ও আনন্দ দান। যিনি যথার্থ সাহিত্যিক, তিনি তাঁর সাহিত্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধির প্রতি সচেষ্ট হন। এতে করে তাঁর সাহিত্য কালজয়ী হয়ে ওঠে। যুগ-যুগান্তর ধরে তাঁর সাহিত্য স্বমহিমায় উজ্জ্বল থাকে। এর বিপরীত হলে সাহিত্য আরোপিত হয়ে পড়ে। সেই সাহিত্য সাময়িক জনপ্রিয় হলেও কালের বিবর্তনে মহিমা তা হারায়।
উদ্দীপকের নাসির সৌন্দর্য সৃষ্টির বিপরীতে পাঠকের মনোরঞ্জনকে সাহিত্য রচনার লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। ফলে নিজ সময়ে জনপ্রিয় হলেও কালের গহ্বরে ধীরে ধীরে তলিয়ে গেছে তার সেই ঠুনকো জনপ্রিয়তা। 'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রচিত সাহিত্যের সমালোচনা করা হয়েছে। কোনো সাময়িক উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্য রচনা করলে তা কালের গর্ভে হারিয়ে যায়।
'সাহিত্যে খেলা' প্রবন্ধে লেখক জনপ্রিয়তা প্রত্যাশী সাহিত্যিকদের নীচ সাহিত্যিক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সাহিত্যিকের সাহিত্যজগতে খেলা করার স্বাধীনতা রয়েছে। এর মাধ্যমেই সাহিত্যিক বিশ্বমনের সঙ্গে কবিমনের সম্পর্ক স্থাপন করেন। এর বিপরীত ঘটলে সাহিত্য তার কালজয়ী মহিমা হারায়। সেটিই উদ্দীপকের নাসিরের সাহিত্যের ক্ষেত্রে ঘটেছে। তাই বলা যায়, "কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে সাহিত্যচর্চা করলে হিতে বিপরীত হতে পারে" মন্তব্যটি যুক্তিপূর্ণ।