| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নব্য স্বাধীনতা লাভকারী…’ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ২০২৬ – বাংলাদেশের সংবিধান, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

নব্য স্বাধীনতা লাভকারী ‘ক’ রাষ্ট্রের সংবিধান রচনা করা হলো। এ রাষ্ট্রের সংবিধানে রাষ্ট্রের সকল স্তরে জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা শাসন করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। উক্ত রাষ্ট্রের আইনসভায় একটি বিল পাশের ব্যাপারে আইনসভার মোট ৬০০ জন সদস্যের মধ্যে ৪০০ জনের সম্মতি না থাকায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। এ সংবিধানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো সংবিধানে নাগরিকদের চলাফেরা, বাক ও চিন্তা, সভা-সমাবেশ, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৪
বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
মৌলিক অধিকার বলতে রাষ্ট্র প্রদত্ত সেই সকল সুযোগ-সুবিধা বোঝায়, যা নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য অপরিহার্য, যা সংবিধানে সন্নিবেশিত থাকে এবং যা সরকার লঙ্ঘন করতে পারে না। মৌলিক অধিকার ব্যক্তিস্বাধীনতার রক্ষাকবচ এবং নাগরিকের প্রতিভা বিকাশের অন্যতম পূর্বশর্ত। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগের ২৭ অনুচ্ছেদ থেকে ৪৪ অনুচ্ছেদ পর্যন্ত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে বিশদ বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
সংশোধনের ভিত্তিতে 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানের সাথে বাংলাদেশে কোনো সামঞ্জস্য রয়েছে কি না? ব্যাখ্যা কর।
'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যটি হলো নাগরিকদের মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, যা বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের প্রতিফলক।
বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের চলাফেরা (৩৬ অনুচ্ছেদ), সভা-সমাবেশ (৩৭ অনুচ্ছেদ), সংগঠন (৩৮ অনুচ্ছেদ), চিন্তা ও বিবেক এবং বাক-স্বাধীনতা (৩৯ অনুচ্ছেদ) এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার (৪১ অনুচ্ছেদ) নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানেও ঠিক একইভাবে এই স্বাধীনতাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা জনগণের ব্যক্তিত্ব বিকাশের অন্যতম পূর্বশর্ত। এই অধিকারগুলো কেবল ঘোষণা করা হয়নি, বরং এগুলো লঙ্ঘিত হলে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে প্রতিকার লাভের সাংবিধানিক নিশ্চয়তাও রয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা শাসন করার ব্যবস্থা বাংলাদেশের ১১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত গণতান্ত্রিক আদর্শের সাথে সংগতিপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে উভয় রাষ্ট্রই একটি শোষণমুক্ত ও মানবিক মর্যাদাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পরিশেষে বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রের সংবিধানের ন্যায় বাংলাদেশের সংবিধানও নাগরিক স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে একে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।