| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নদী কভু পান…’ ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩ – প্রতিদান, পদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

নদী কভু পান নাহি করে নিজ জল,
তরুগণ নাহি খায় নিজ নিজ ফল। ।গাভী কভু নাহি করে নিজ দুগ্ধ পান।
কাষ্ঠ-দগ্ধ হয়ে করে পরে অনুদান ।
স্বর্ণ করে নিজ রূপে অপরে শোভিত,
বংশী করে নিজ সুরে অপরে মোহিত।
শস্য জন্মাইয়া নাহি খায় জল ধরে
সাধুর ঐশ্বর্য শুধু পরহিত তরে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১৩
'মালঞ্চ' শব্দের অর্থ ফুলের বাগান।
কবির অনিষ্টকারীর জন্য কবি দীঘল রজনী জেগে থাকেন কারণ -
কবি একজন উদার, মহৎ ও সুন্দর হৃদয়ের মানুষ। পরার্থপরতা তাঁর অন্যতম প্রধান গুণ। সব মানুষের জন্যই তাঁর প্রাণ কাঁদে। তাই তো দীর্ঘ রাত কবি জেগে থাকেন। তিনি তার জন্য জেগে থাকেন, যে ব্যক্তি তার ঘুম হরণ করেছে। অর্থাৎ কষ্ট পেলেও কবি বুক ভরা ভালোবাসা দিয়ে তাকে আগলে রাখেন, যে কবির অনিষ্ট করেছে।
উদ্দীপকে প্রতিদান কবিতার যে দিকটি প্রকাশিত হয়েছে তা হল ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নিজেকে নিবেদন করা।
প্রতিদান কবিতায় কবির পরার্থপর চেতনার প্রকাশ ঘটেছে। যে কবিকে বিষে ভরা বাণ দিয়েছে, কবি তাকে বুক ভরা গান দিতে চেয়েছেন, কাটা পেয়ে তিনি ফুল দান করতে চেয়েছেন। তিনি বুঝিয়েছেন, পরার্থপরতাই জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য। অপরের স্বার্থে আত্মবিসর্জনকারী ব্যক্তিই প্রকৃত সুখী ব্যক্তি। নিজের সকল স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে নিজেকে অন্যের জন্য নিবেদন করাই প্রকৃত মনুষ্যত্ব।
উদ্দীপকে আমরা দেখি নদা কখনো নিজের জল পান করেনা। নদীর জল পান করে পথিক বা লোকজন তৃপ্ত হয়। বৃক্ষ কখনো নিজের ফল খায়না। অন্যরা সে ফলের স্বাদ গ্রহণ করে। ঠিক একইভাবে গাভী যেমন নিজের দুধ পান করেনা তেমনি স্বর্ণ নিজের কপকে শোভিত করে না। এরা নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়েছে অপরের জন্য। পরার্থপরতার মাধ্যমেই এরা জীবনের প্রকৃত সুখ খুঁজে পায়। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে প্রতিদান কবিতার যে দিকটি প্রকাশিত হয়েছে তা হল ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নিজেকে নিবেদন করা।
উদ্দীপকে 'সাধু' 'প্রতিদান' কবিতায় কবির কাঙ্খিত মানুষ" - উক্তিটি যথার্থ। প্রতিদান কবিতায় কবি সমাজ সংসারে বিদ্যমান হিংসা বিভেদ, বৈষম্য, প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসা দূর করতে চেয়েছেন, সুন্দর সমাজ তৈরি করতে চেয়েছেন। তার প্রতি কেউ অন্যায়, অবিচার আর হিংসা করলেও তিনি তাকে বুকে টেনে নেন। কারণ তিনি সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের পৃথিবী প্রত্যাশা করেন।
কবি সমাজের সকল মানুষকে এই সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের পথে আসার আহ্বান করেছেন। এমন একজন মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে চেয়েছেন যার প্রাপ্তিতে নয়, বরং পরোপকারের মাধ্যমে প্রকৃত সুখ অনুভূত হয়। উদ্দীপকের 'সাধু' এমনই একজন ব্যক্তি। যার ঐশ্বর্য শুধুমাত্র অন্যের উপকার করে। যিনি পরের উপকারে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। যার সৌন্দর্য প্রকাশ পায় পরের উপকার করে। এ সৌন্দর্য সত্য এবং সুন্দর। কল্যাণময় পৃথিবী রচনায় যার কোনো তুলনা হয় না।
অতএব এ থেকে বুঝা যায় যে, উদ্দীপকে 'সাধু' 'প্রতিদান' কবিতায় কবির কাঙ্খিত মানুষ।