| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হতে…’ নটরডেম কলেজ ২০২৪ – লালসালু, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হতে বসেছে ধলেশ্বরী গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষেরা। জীবিকা নির্বাহের আশায় তাদের অনেকেই ছুটেছে দূর-দূরান্তে। অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ জেনেও তারা ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর। ভাগ্য-বিড়ম্বিত এমনই এক যুবক ইদ্রিসের ঠাঁই হয় শহরের বস্তিতে। রিকশা চালানো দিয়ে জীবিকা শুরু করলেও অবৈধ ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রভাব প্রতিপত্তিসহ এখন সে অভিজাত এলাকার বাসিন্দা।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
‘লালসালু' উপন্যাসের সলেমানের বাপ হাঁপানি রোগী।
দুনিয়ায় বাস করতে গেলে সময়ে অসময়ে মিথ্যা কথা না বললেই নয় বলে মজিদ মনে করে, দুনিয়াটা বড় বিচিত্র জায়গা।
করিমগঞ্জ হাসপাতালে মহব্বতনগরের আহত লোকদের দেখতে যায় মুজিদ। অসুস্থ লোকদের দেখাশোনা করে গ্রামে ফিরে এসে মজিদ গুরুতর আহত কালু মিয়ার বাপকে বলে, সেখানে তার ছেলের সেবা-যত্ন ও ওষুধ-পথ্যের কোনো অভাব নেই । কারণ হাসপাতালের ডাক্তার তার মুরিদ। এ কথাটা অবশ্য মিথ্যা, তবু মজিদ জেনে-শুনে মিথ্যা কথা বলে । কারণ তার মতে, দুনিয়াটা বড় বিচিত্র জায়গা। এখানে সময়ে অসময়ে মিথ্যা কথা না বললে চলে না।
উদ্দীপকে বর্ণিত অসহায় মানুষদের জীবনাচরণের সঙ্গে 'লালসালু' উপন্যাসে বর্ণিত শস্যহীন অঞ্চলের মানুষের পরিস্থিতির সাদৃশ্য লক্ষ
করা যায়।
'লালসালু' উপন্যাসের ধর্মব্যবসায়ী মজিদ বাংলাদেশের একটি শস্যহীন জনবহুল অঞ্চল থেকে ক্ষুধার তাড়নায় জীবন বাঁচাতে গারো পাহাড়ে চলে যায়। কিন্তু সেখানে তার তেমন উন্নতি ঘটে না। তাই সে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে মহব্বতনগর গ্রামকে বেছে নেয়। সেখানে সে তথাকথিত মোদাচ্ছের পিরের মাজারের কল্পকাহিনিকে পুঁজি করে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে সফলতা লাভ করে। মজিদের অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষই দারিদ্র্যের কারণে এমন জীবন সংগ্রামই বেছে নেয়।
উদ্দীপকে মানুষের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। মানুষ বেঁচে থাকার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করে। জীবনের শেষ অবলম্বনকে বিসর্জন দিয়ে হলেও বাঁচতে চায়। কোনো প্রাণীই এর ব্যতিক্রম নয়। উদ্দীপকের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে, নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত শ্যামলছায়া গ্রামের মানুষদের সাথে 'লালসালু' উপন্যাসের শস্যহীন অঞ্চলের মানুষের সর্বগ্রাসী ক্ষুধার তাড়নার মিল দেখা যায়। আলোচ্য উপন্যাসের মজিদ নিজের ক্ষুধার জ্বালা নিবারণ করতে ঘর-বাড়ি ছেড়ে গারো পাহাড়ে যায়। কিন্তু সেখানেও তার খাদ্যাভাব মেটে না। তাই সে মহব্বতনগর গ্রামে এসে তার শেষ সম্বল ধর্মকে হাতিয়ার করে মিথ্যা মাজার প্রতিষ্ঠা করে । ধর্মের মোড়কে মিথ্যাকে পুঁজি করে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে। এসব দিক বিচারে উদ্দীপকে 'লালসালু' উপন্যাসের শস্যহীন অঞ্চলের মানুষের জীবন বাঁচাতে ছুটে চলা ও অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামের দিকটি ফুটে উঠেছে বলা যায় ।
দরিদ্রতা থেকে মুক্তি পেতে হীন পথ অবলম্বন করে আত্মপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করায় উদ্দীপকের শফিক এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদ উভয়ের মাঝেই অস্তিত্ববাদী চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে।
‘লালসালু' উপন্যাসে মজিদ যে মাজার ব্যবসা শুরু করেছে, তার মূলে ধর্ম প্রতিষ্ঠা ছিল না, ছিল আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। কোনো ধর্মীয় চেতনা থেকে মজিদ মাজার প্রতিষ্ঠা করেনি । দুর্ভিক্ষপীড়িত জীবন এবং গারো পাহাড়ের কষ্টে চলা জীবন থেকে মুক্তি পেতে ও জীবিকা অর্জনের তাগিদে সে মহব্বতনগরে মোদাচ্ছের পিরের মাজার প্রতিষ্ঠা করে। শুরু হয় তার রমরমা ধর্ম ব্যবসা ।
উদ্দীপকের শফিকও বিরূপ সামাজিক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অবৈধ পথ বেছে নিয়েছে। আত্মপ্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা থেকে রিকশা চালানো শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে সে অনেক প্রতিপত্তি অর্জন করেছে। তার এ কর্মকাণ্ডে ভণ্ডামি, শঠতা এবং ' সুযোগসন্ধানী মনোভাবের পরিচয় মেলে ।
উদ্দীপক ও 'লালসালু' উপন্যাসে যথাক্রমে শফিক ও মজিদ আত্মপ্রতিষ্ঠায় সংগ্রামী দুই ব্যক্তি। যদিও তাদের আত্মপ্রতিষ্ঠার পথটি ইতিবাচক নয় । একজন আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্যে ধর্ম ব্যবসা, আরও বিশেষভাবে বললে মাজার ব্যবসাকে বেছে নিয়েছে। অন্যজন অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অস্তিত্বরক্ষার তাগিদে তারা দুজনই নৈতিকতা বিসর্জন দিয়েছে। সেদিক বিবেচনায় আমরা বলতে পারি, উদ্দীপকের শফিক এবং 'লালসালু' উপন্যাসের মজিদের আত্মপ্রতিষ্ঠার অনৈতিক আয়োজন মূলত অস্তিত্ববাদী চেতনারই প্রতিফলন ।