| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নতুন বাইকে চেপে…’ রাজশাহী বোর্ড ২০১৮ – সিরাজউদ্দৌলা, নাটক ও উপন্যাস, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

নতুন বাইকে চেপে রাশেদ একদিন বিকেলে তার মামার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে নির্জন স্থানে লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একজন লোক হাত তুলে তাকে থামতে বলে। রাশেদ কাছে গিয়ে বাইক থামালে লোকটি তাকে অনুরোধ করে বলে- “ভাই, আমি একজন পঙ্গু মানুষ, দয়া করে আমাকে সামনের মোড়ে নামিয়ে দিবেন?” রাশেদ তাকে বাইকের পিছনে নিয়ে কিছুদূর যেতেই লোকটি কৌশলে তার হাতের লাঠি ফেলে দেয় এবং তাকে লাঠিটা আনতে অনুরোধ করে। রাশেদ বাইক থেকে নেমে লাঠি আনতে গেলে লোকটি নিমিষেই বাইক নিয়ে উধাও হয়ে যায়।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
ইংরেজরা পরাজিত হয়ে ফোর্ট উইলিয়াম জাহাজে আশ্রয় নেয়।
মিরজাফরের ব্যক্তিত্বহীনতা দেখে রবার্ট ক্লাইভ তাকে ব্যঙ্গ করে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন।
বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর পূর্ব চুক্তিমতো নবাব হয় বিশ্বাসঘাতক ও ক্ষমতালোভী মিরজাফর। রাজদরবারে এসে মিরজাফর সিংহাসনে না বসে সিংহাসনের হাতল ধরে কর্নেল ক্লাইভের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এতে মিরজাফরের ব্যক্তিত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আর তা দেখেই ক্লাইভ প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছিলেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত পঙ্গু লোকটির বিশ্বাসঘাতকতার সঙ্গে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ইংরেজদের কর্মকাণ্ডের অনেকাংশে মিল লক্ষ করা যায়।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ইংরেজরা বিশ্বাসঘাতক ও আধিপত্যবাদী শক্তির ভূমিকা পালন করেছে। এদেশে ব্যবসায়ের জন্য এলেও তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা দখল করা। আর এজন্য তারা কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়। নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাঁকে সিংহাসনচ্যুত করার চেষ্টা করে। অবশেষে নবাবের বিশ্বাসঘাতক অমাত্যদের হাত করে ইংরেজরা পলাশির যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় এবং বাংলার সার্বভৌমত্বকে কুক্ষিগত করে নেয়।
উদ্দীপকে পঙ্গু লোকটি বিশ্বাসঘাতকতার এক ঘৃণ্য নিদর্শন উপস্থাপন করেছে। সে নিজের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য রাশেদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। লোকটি পঙ্গুত্বের ভান ধরে রাশেদের সরলতাকে ব্যবহার করে তার বাইকটি নিয়ে পালিয়েছে। এভাবে বিশ্বাসঘাতকতার আশ্রয় নিয়ে অন্যের সম্পদ লুণ্ঠনের ঘৃণ্য নজির 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ইংরেজদের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়েছে। ফলে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হলেও উদ্দীপকের পঙ্গু লোকটির কর্মকান্ডে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের বিশ্বাসঘাতকতার দিকটি আংশিক ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের রাশেদ সরল বিশ্বাসের কারণে যেভাবে প্রতারিত হয়েছে তা 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের ক্ষেত্রে বাস্তব সত্য হয়ে দেখা দিয়েছে।
আলোচ্য নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন সরলচিত্তের অধিকারী। তিনি বিশ্বাসঘাতক মিরজাফর এবং তার সহযোগীদের অকপটে বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু তারা নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিল। ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে ষড়যন্ত্র করে নবাবকে নির্মম পরিণতি বরণ করতে বাধ্য করেছিল তারা। আর নবাব তাঁর সরল বিশ্বাসের কারণে অমাত্যবর্গের কাছে এভাবে প্রতারিত হয়েছিলেন।
উদ্দীপকে আমরা রাশেদের মাঝে সরলতার প্রতিফলন লক্ষ করি। সে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিকে পঙ্গু ভেবে তার উপকার করতে চেয়েছিল। কিন্তু লোকটি রাশেদের সাথে কৃতঘ্ন আচরণ করেছে, প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে বাইক নিয়ে পালিয়েছে। পঙ্গুত্বের মুখোশ পরা লোকটি রাশেদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করতে পেরেছে কেবল তার সরলতার কারণে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে আমরা নবাবকে প্রতারিত হতে দেখেছি তাঁর সরলতার কারণে। একই কারণে উদ্দীপকের রাশেদকেও আমরা প্রতারিত হতে দেখি। তারা যদি সহজেই অন্যের ওপর বিশ্বাস স্থাপন না করত, তাহলে এভাবে প্রতারিত হতো না। তাই নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, সরল বিশ্বাসের কারণে মানুষের প্রতারিত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নে উল্লিখিত মন্তব্যটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে পুরোপুরি সত্য হয়ে ধরা দিয়েছে।