| ㅤ | A. Nayan15 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিবেদিতা তার স্বামী…’ ঢাকা বোর্ড ২০২৩ – অপরিচিতা, গদ্য, বাংলা ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিবেদিতা তার স্বামী প্লাবনসহ বইয়ের দোকানে এসে অবাক হলেন। ফোনে নিবেদিতা বই বিক্রেতাকে বইয়ের নাম, সংখ্যা, প্রকাশনী, কমিশন এবং সরবরাহের তারিখ প্রভৃতি বিষয়ে বিস্তারিত সব বলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দোকানদার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বই সরবরাহের ন্যূনতম প্রস্তুতিও নেননি। এক পর্যায়ে দোকানদার প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করলে নিবেদিতা মোবাইল থেকে প্রমাণ উপস্থাপন করলেন। প্লাবনের অনুরোধে নিবেদিতা দোকানদারের সাথে আর তর্কে জড়ালেন না।
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৫
হরিশ কানপুরে কাজ করে।
"সেজন্য কিছু ভাববেন না - এখন উঠুন।" - উক্তিটি দ্বারা শম্ভুনাথ সেনের বিবাহ প্রত্যাখ্যান করার মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে। অপরিচিত গল্পে বিয়ের লগ্ন যখন প্রস্তুত তখন কন্যার লগ্নভ্রষ্ট হবার লৌকিকতাকে অগ্রাহ্য করে শম্ভুনাথ সেনের নির্বিকার অথচ বলিষ্ঠ প্রত্যাখ্যান নতুন এক সময়ের আশু আবির্ভাবকে সংকেতবহ করে তুলেছে। বিয়ের লগ্নে শম্ভুনাথ সেন তার ও তার মেয়ের আত্মসম্মান সংরক্ষণের জন্য বিয়ে প্রত্যাখ্যানের উদ্দেশ্যে এই উক্তিটি করেন।
উদ্দীপকের প্লাবন ও অপরিচিতা গল্পের অনুপম দুইজনই চরম সিদ্ধান্তের সময় নিশ্চুপ থেকেছে। চোখের সামনে অন্যায় দেখে ও কোন প্রতিবাদ করেনি। উদ্দীপকের প্লাবন ও 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মধ্যে সাযুজ্য লক্ষ্য করা যায়। নিচে তা তুলে ধরা হলো:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা অপরিচিতা গল্পে অনুপম হলো এমন একটা চরিত্র যে পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় এক পুতুল মাত্র। তার বিয়ে উপলক্ষে যৌতুক নিয়ে কনে পক্ষের উপর চরম অবমাননা করা হয়। তার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া নারীর এমন অপমানজনক পরিস্থিতিতে শিক্ষিত ও মার্জিত অনুপম এর কোন প্রতিবাদ করেনি। সে সম্পূর্ণ পরিস্থিতিতে নীরব থেকে নিজের ব্যক্তিত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।
উদ্দীপকের প্লাবন বই কিনতে গিয়ে বিক্রেতার অসাধু আচরণের শিকার হয়েও কোন প্রতিবাদ করেনি। উল্টো তার স্ত্রীকে প্রতিবাদ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছে। অন্যায় সামনে দেখেও নীরব ভূমিকা পালন করেছে।
উদ্দীপকের প্লাবন তাই অনুপমের ব্যক্তিত্বহীনতা ও কাপুরুষতার প্রতিনিধিত্ব করছে।
"উদ্দীপকটি অপরিচিতা গল্পের মূলভাবকে ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে" - উক্তিটি যথার্থ হয়েছে।
অপরিচিতা গল্পে একজন বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের নারীর কাহিনী বর্ণিত হয়েছে যার নাম কল্যাণী। এ গল্পে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে নারী পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের দৃষ্টান্ত উদ্ধৃত হয়েছে। গল্পে বিয়ের লগ্নে কন্যার গায়ের স্বর্ণ খুলে নিয়ে যাচাইকরণ ও যৌতুকের কারণে কনেপক্ষকে হেয় করা হয়েছিল। এমতাবস্থায় অনুপম, যে কিনা উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করা যুবক হওয়া সত্ত্বেও তার ব্যক্তিত্বহীনতার প্রকাশ ঘটিয়েছিল যৌতুকপ্রথার মতো অন্যায় প্রথার প্রতিবাদ না করে। কিন্তু কল্যাণী ও তার পিতা শম্ভুনাথ সেন এই অসংগতি ও অনাচারের প্রতিবাদে বিয়ে প্রত্যাখ্যান করে আত্মমর্যাদাশীল ব্যক্তিত্বের পরিচয় প্রকাশ করেন।
অপরপক্ষে, উদ্দীপকের প্লাবন ও তার স্ত্রী নিবেদিতা বইয়ের বিক্রেতার অসাধু কর্মের শিকার হন। প্রতিবাদে নিবেদিতা বিক্রেতার সঙ্গে তর্ক বিতর্কে জড়িয়ে পড়লে প্লাবন নিবেদিতাকে ঝঞ্ঝাট করতে বিরত থাকতে বলেন। এতে তার দুর্বলচিত্ত ও অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়ার মানসিকতা প্রকাশ পায়।
তবে এক্ষেত্রে প্লাবনের ব্যাক্তিত্বহীনতার কারণে নিবেদিতা প্রতিবাদ করেও ব্যর্থ হয়েছে। সে স্বামীর কারণে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিয়েছে। তাই বলা যায়, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।