| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচে একটি জিনতাত্ত্বিক…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০১৭ – জিনতত্ত্ব ও বিবর্তন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচে একটি জিনতাত্ত্বিক পরীক্ষণের ফলাফল দেখানো হলো-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ১১
যেসব অঙ্গ এক সময় পূর্বপুরুষের দেহে সুগঠিত ও কার্যক্ষম ছিল, কিন্তু পরবর্তী বংশধরের দেহে তা গুরুত্বহীন, অগঠিত এবং অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে সেসব অঙ্গই হলো নিষ্ক্রিয় অঙ্গ।
কর্ডেট প্রাণীর তিনটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্থিতিস্থাপক নটোকর্ড, পৃষ্ঠীয় ফাঁপা স্নায়ুরজ্জু এবং গলবিলীয় ফুলকারন্দ্র। Chordata পর্বের দুটি উপপর্ব যেমন- Urochordata ও Cephalochordata সদস্যদের ক্ষেত্রে কর্ডাটার বৈশিষ্ট্যগুলো আজীবন পাওয়া যায়। কিন্তু Vertebrata উপপর্বের ক্ষেত্রে ভ্রূণাবস্থায় নটোকর্ড থাকলেও পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় তা মেরুদণ্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। তাছাড়া স্নায়ুরজুটি মস্তিষ্ক ও সুষুম্মাকাণ্ড দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়। ফুলকারন্দ্র বন্ধ হয়ে ফুলকা বা ফুসফুসের আবির্ভাব ঘটে। তাই বলা যায়, সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীই কর্ডেট কিন্তু সকল কর্ডেট মেরুদণ্ডী নয়।
জনন অ্যালিলিক জিনের আন্তঃক্রিয়ায় ডাইহাইব্রিড ক্রসের F₂ জনুর স্বাভাবিক ফিনোটাইপের যে ব্যতিক্রম ঘটে তা হলো প্রকট এপিস্ট্যাসিস। এটি মেন্ডেলের ২য় সূত্রের ব্যাতিক্রম। যেমন, ধরা যাক সাদা লেগহর্ণের রঙ্গিন পালকের জন্য দায়ী প্রকট জিন C এবং সাদা লেগহর্ণের রঙ্গিন পালকের বাধাদানকারী প্রকট জিন ।। অতএব, সাদা লেগহর্ণের জিনোটাইপ CCII এবং সাদা ওয়াইনডটের জিনোটাইপ ccii। এদের মধ্যে ক্রসে প্রাপ্ত ফলাফল নিম্নের ছক ও চেকার বোর্ডে দেখানো হলো।
পিতামাতা:
চেকার বোর্ডে দেখানো সাদা ও রঙিন পালকের জন্য দায়ী জিনসমূহের ক্রিয়া বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এপিস্ট্যাটিক জিন । এর উপস্থিতি C জিন কর্তৃক রঙিন পালক প্রকাশে সব সময় বাধাদান করে। কেবল। এর অনুপস্থিতিতেই C জিনের বাহ্যিক প্রকাশ ঘটে। এক্ষেত্রে C হচ্ছে প্রকট হাইপোস্ট্যাটিক জিন এবং I প্রকট এপিস্ট্যাটিক জিন। ফলে ডাইহাইব্রিড ক্রসের স্বাভাবিক অনুপাত ৯:৩:৩: ১ এর পরিবর্তে ১৩ (সাদা): ৩ (রঙিন) হয়।
উদ্দীপকে মেন্ডেলের দ্বিতীয় সূত্রের ব্যতিক্রম অর্থাৎ প্রকট এপিস্ট্যাসিসের ক্ষেত্রে F₂ জনুর ফিনোটাইপিক অনুপাত দেয়া আছে। নিচে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হলো-
সাদা পালকযুক্ত লেগহর্ন-এর সাথে সাদা পালকযুক্ত ওয়াইনডট-এর ক্রস ঘটালে প্রথম বংশধরে সবগুলো শাবকই সাদা পালক যুক্ত হয়ে থাকে। আবার, F, জনুর মোরগ-মুরগির মধ্যে ক্রস ঘটিয়ে দেখা যায় যে, F₂ জনুতে সাদা ও রঙিন উভয় ধরনের শাবকেরই আবির্ভাব ঘটে এবং সাদা ও রঙিনের অনুপাত দাঁড়ায় ১৩: ৩। প্রকট এপিস্ট্যাসিস এর কারণে এরকম ঘটনা ঘটে। কারণ এক্ষেত্রে মোরগ-মুরগিতে রঙিন পালক সৃষ্টির জন্য দায়ী একটি প্রকট জিন (C) থাকলেও এপিস্ট্যাটিক জিন (1) -এর কারণে রঙিন পালক সৃষ্টি হতে না পারায় পালকগুলো হয় সাদা রঙের। F, জনুতে সব শাবক সাদা পালক বিশিষ্ট হলেও F₂ জনুতে যেটিতে এপিস্ট্যাটিক জিন (1) অনুপস্থিত থাকে এবং প্রকট জিন (C) উপস্থিত থাকে সেটিতে রঙিন পালক সৃষ্টি হয়। জিন। বিশেষ ধরনের এনজাইম উৎপন্ন করে যার ফলে C জিনের বাহ্যিক প্রকাশ সম্ভব হয় না, দমিত থাকে। এভাবে যখন একটি প্রকট জিন অন্য একটি নন- অ্যালিলিক প্রকট জিনের কার্যকারিতা প্রকাশে বাধা দেয় তখন তাকে প্রকট এপিস্ট্যাসিস বলে।