নিচের ছকটি পর্যায় সারণির একটি খণ্ডিত অংশ-
A, B, C, D, E প্রতীকী অর্থে ব্যবহৃত। প্রচলিত মৌলের কোনো প্রতীক নয়।
যৌগ বা অণুর নামের সংক্ষিপ্ত রূপকে সংকেত বলে।
যে সকল d-ব্লক মৌলের স্থায়ী আয়নে d-অরবিটালের ইলেকট্রন বিন্যাস d হয় তাদেরকে অবস্থান্তর মৌল বলা হয়। এক্ষেত্রে Sc এর স্থায়ী আয়ন , এর ইলেকট্রন বিন্যাস হলো-
যেহেতু d অরবিটালের ইলেকট্রন বিন্যাস নয়, d অরবিটাল 10 টি দ্বারা পূর্ণ রয়েছে। তাই Sc কে অবস্থান্তর মৌল বলা হয় না।
উদ্দীপকের A মৌলটি হাইড্রোজেন (H), যা পর্যায় সারণিতে গ্রুপ1 এ অবস্থান করে। H মৌলটি গ্রুপ-1 এ অবস্থান করার পক্ষে যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
১. যোজ্যতা ইলেকট্রন : গ্রুপ-1 এর মৌলগুলোর ন্যায় H পরমাণুরও যোজ্যতা ইলেকট্রন সংখ্যা-।। যেমন-
২. যোজনী : গ্রুপ-1 এর মৌলসমূহের যোজনী ।। কারণ এরা একটিমাত্র একযোজী পরমাণুর সাথে যুক্ত হতে পারে। অপরদিকে H পরমাণুরও যোজনী 1।
৩. ধাতব হ্যালাইড গঠন : গ্রুপ-1 এর ধাতব মৌলের ন্যায় H পরমাণুও হ্যালোজেনের সাথে বিক্রিয়া করে হ্যালাইড যৌগ গঠন করে।
৪. বিজারণ ধর্ম : গ্রুপ-। এর মৌলগুলোর ন্যায় H পরমাণু e- ত্যাগ করতে পারে। অর্থাৎ বিজারণ ধর্ম প্রদর্শন করে।
উদ্দীপকের D ও E মৌলদ্বয় যথাক্রমে সালফার (S) এবং ফ্লোরিন (F)। সুতরাং ও যৌগদ্বয় যথাক্রমে এবং । এদের মধ্যে অষ্টক নিয়মের ব্যতিক্রম বন্ধন গঠনের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হলো-
যা উদ্দীপকের Z ও X মৌল দুটি যথাক্রমে সালফার (S) ও ফ্লোরিন (F)। কেননা 16 ও 9 প্রোটন সংখ্যা তথা পারমাণবিক সংখ্যাবিশিক্ট মৌলদ্বয় যথাক্রমে S ও F। সুতরাং ZX2 ও ZX4 যৌগ দুটি যথাক্রমে ও । এদের মধ্যে অস্টক নিয়ম মেনে চলে কিন্তু অষ্টক নিয়ম পালন করে না। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
ও F(9) পরমাণুর ইলেকট্রন বিন্যাস নিয়ে পাই,
S এর যোজ্যতা স্তরে 6টি ইলেকট্রন আছে। অষ্টক পূরণের জন্য S পরমাণুর 2টি ইলেকট্রন প্রয়োজন। অপরদিকে F পরমাণুর যোজ্যতা স্তরে 7টি ইলেকট্রন আছে এবং অষ্টক পূরণের জন্য 1টি ইলেকট্রন প্রয়োজন। এজন্য S পরমাণু দুটি F পরমাণুর সাথে ইলেকট্রন শেয়ারের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে অষ্টক পূরণ করে। ফলে অণু গঠন করে। এক্ষেত্রে S ও F উভয়ের শেষ কক্ষপথে ৪টি ইলেকট্রন বিন্যাস লাভ করে। সুতরাং অষ্টক নিয়ম মেনে চলে।
অপরদিকে, অণুটি অষ্টক নীতি মেনে চলে না। অণুর গঠন হতে দেখা যায়, 4টি F এর শেষ কক্ষপথের 1টি বিজোড় ইলেকট্রন S এর 4টি বিজোড় ইলেকট্রনের সাথে শেয়ার করে সমযোজী যৌগ গঠন করে। ফলে F এর শেষ কক্ষপথে 8টি ইলেকট্রনের বিন্যাস লাভ করলেও S এর 10 টি ইলেকট্রনের বিন্যাস লাভ করে যা অষ্টক নিয়মের ব্যতিক্রম। এজন্য যৌগ গঠনে F অষ্টক নিয়ম মেনে চললেও S তা মেনে চলে না।
