| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের ছকটি লক্ষ…’ ২০২৬ – রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব:, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের ছকটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৩
আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী মজলুম জননেতা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
বাংলা অঞ্চলে সমাজ সংস্কার ও শিক্ষা বিস্তারে স্যার সৈয়দ আহমদের মতো অবদান রাখার কারণে নওয়াব আবদুল লতিফকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়।
স্যার সৈয়দ আহমদ মুসলমানদের উন্নতির জন্য ইংরেজদের সাথে সহযোগিতার নীতি ও পাশ্চাত্য শিক্ষা গ্রহণের ওপর জোর দেন। তাঁর মতো নওয়াব আবদুল লতিফও বুঝতে পেরেছিলেন যে, আধুনিক শিক্ষা' ব্যতীত বাংলার মুসলমানদের উন্নতি সম্ভব নয়। এ জন্য তিনি বাংলায় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করেন এবং মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিকীকরণে সচেষ্ট হন। তাঁর এরূপ কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে 'বাংলার সৈয়দ আহমদ' বলা হয়।
উদ্দীপকের 'ক' ছকে বর্ণিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হলেন নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, যিনি পূর্ববঙ্গের শিক্ষা বিস্তারে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন।
নবাব সলিমুল্লাহ ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা যিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, শিক্ষা ছাড়া মুসলিম সমাজের রাজনৈতিক ও সামাজিক উন্নতি সম্ভব নয়। তিনি আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে পিছিয়ে পড়া মুসলিম সমাজকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন এবং ব্রিটিশ সরকারের ওপর শিক্ষা সংস্কারের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
উদ্দীপকের 'ক' ছকে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন ও মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁর যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেখা যায়, তার মূলে ছিল এ অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন এবং এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য নিজের জমি দান করেন। এছাড়া তিনি আহসানউল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল (বর্তমান বুয়েট), সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানা এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম হল প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯০৬ সালে ঢাকায় শিক্ষা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যা মুসলিম সমাজের শিক্ষা বিস্তারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। এভাবে নবাব সলিমুল্লাহর শিক্ষা বিষয়ক কার্যক্রম এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল।
উদ্দীপকের 'খ' ছকে নির্দেশিত ব্যক্তিত্ব হলেন মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমীর, যার ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান ভিত্তি ও প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।
তিতুমীর ছিলেন বাংলার অন্যতম বিপ্লবী নেতা, যিনি ব্রিটিশ শাসন এবং স্থানীয় জমিদার ও নীলকরদের চরম অত্যাচারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি সাধারণ কৃষক ও মেহনতি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে একটি শোষণমুক্ত ও স্বাধীন সমাজ গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যা ছিল মূলত স্বাধীনতারই প্রাথমিক রূপ।
উদ্দীপকের 'খ' ছকে উল্লিখিত বারাসাত বিদ্রোহ ও বাঁশের কেল্লা নির্মাণ তাঁর অসীম সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের প্রতীক। ১৮৩১ সালে নারিকেলবাড়িয়ায় বাঁশের কেল্লা তৈরি করে তিনি ব্রিটিশদের আধুনিক কামানের গোলার বিরুদ্ধে সাধারণ লাঠি ও ঢাল নিয়ে লড়াই করেন এবং বীরত্বের সাথে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর এই বিদ্রোহ ছিল বিদেশি শক্তির বিরুদ্ধে এ দেশীয় মানুষের প্রথম সংগঠিত প্রতিরোধ যুদ্ধ।
তিতুমীরের এই আত্মত্যাগ কেবল একটি সাময়িক বিদ্রোহ ছিল না, বরং এটি ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার প্রথম সোপান। তাঁর এই আপসহীন সংগ্রাম ও দেশপ্রেম পরবর্তীকালে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং জীবন উৎসর্গ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। নিজের অধিকার আদায়ে এবং শোষণের বিরুদ্ধে জীবন দেওয়ার যে বিপ্লবী পদক্ষেপ তিনি শুরু করেছিলেন, তা-ই মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনাকে জাগ্রত রেখেছিল। তাই বলা যায়, তিতুমীরের আত্মত্যাগই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ভিত্তি তৈরি করেছিল।