| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের ছকটি লক্ষ…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৫ – অণুজীব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের ছকটি লক্ষ কর:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
ভিরয়েড হলো সংক্রামক, এক সূত্রক, বৃত্তাকার RNA।
Vibrio cholerae ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে কলেরা রোগের প্রধান লক্ষণ হলো তীব্র পানিশূন্যতা। আক্রান্ত রোগীর পায়খানার সাথে প্রথমদিকে মল থাকলেও ক্রমাগত চাল ধোয়া পানির মতো পাতলা পায়খানা শুরু হয়। একই সাথে অবিরাম বমি হতে থাকে, যা পানি পান না করলেও বন্ধ হয় না। এই লাগাতার পানিশূন্যতা ও ইলেক্ট্রোলাইট হারানোর ফলে মূত্রশূন্যতা দেখা দেয়। তীব্র পিপাসা অনুভূত হয় এবং রক্তচাপ কমে ৯০/৭০ mmHg বা তারও নিচে নেমে আসে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত পরজীবীটি হলো ম্যালেরিয়া সৃষ্টিকারী Plasmodium এবং F ধাপটি হলো এর হেপাটিক বা যকৃত সাইজোগনি। এ ধাপে ম্যালেরিয়া পরজীবী মানুষের যকৃত কোষে প্রবেশ করে বহুবিভাজন প্রক্রিয়ার অযৌন জননের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি করে। এই প্রক্রিয়াটি মানবদেহে দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
প্রথম ধাপটি হলো প্রি-এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি। যখন একটি সংক্রামিত স্ত্রী অ্যানোফিলিস মল্কী কোনো মানুষকে কামড়ায়, তখন মশার লালাগ্রন্থি থেকে স্পোরোজয়েট নামক পরজীবী মানবদেহে প্রবেশ করে। এই স্পোরোজয়েটগুলো দ্রুত রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে যকৃত কোষে পৌছায়। যকৃত কোষে প্রবেশ করার পর, স্পোরোজয়েটগুলো তাদের প্রথম অযৌন প্রজনন শুরু করে। এই পর্যায়ে, প্রতিটি স্পোরোজয়েট বহুবার বিভাজিত হয়ে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ক্রিপ্টোমেরোজয়েটে রূপান্তরিত হয়। এই ধাপটি যকৃত কোষের ভেতরে ঘটে এবং সাধারণত কোনো রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় না।
দ্বিতীয় ধাপটি হলো এক্সো-এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি। প্রি-এরিথ্রোসাইটিক চক্রে উৎপন্ন ক্রিপ্টোমেরোজয়েটগুলো যকৃত কোষ থেকে বেরিয়ে আসে এবং নতুন যকৃত কোষকে আক্রমণ করে। এই নতুন আক্রান্ত যকৃত কোষেও ক্রিপ্টোমেরোজয়েটগুলো দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি করে। এই ধাপে উৎপন্ন পরজীবীগুলোকে মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েট বলা হয়। এই মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েটগুলোই পরবর্তীতে রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করে এবং লোহিত রক্ত কণিকাকে সংক্রমিত করে, যার ফলে জ্বর এবং অন্যান্য উপসর্গ দেখা দেয়।
উদ্দীপকে উল্লেখিত পরজীবীটি হলো ম্যালেরিয়া সৃষ্টিকারী প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium)। এই পরজীবীর জীবনচক্রের একটি অপরিহার্য অংশ মশকীর দেহে সম্পন্ন হয়। ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্রে মশকীর দেহের প্রয়োজনীয়তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো-
স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশকীর শরীরেই ম্যালেরিয়া পরজীবীর যৌন প্রজনন সম্পন্ন হয়। যখন একটি স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশকী ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত পান করে, তখন মানুষের রক্তে থাকা পরজীবীর গ্যামিটোসাইট দশা মশকীর পরিপাকতন্ত্রে প্রবেশ করে। মশকীর অন্ত্রের ভেতরেই এই গ্যামিটোসাইটগুলো পরিণত গ্যামেটে রূপান্তরিত হয় এবং পুরুষ ও স্ত্রী গ্যামেটের মিলনে জাইগোট তৈরি হয়। এই জাইগোট পরবর্তীতে উকিনেট ও উসিস্ট দশায় বিকশিত হয়।উসিস্টগুলো মশার পরিপাকতন্ত্রের প্রাচীরে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং ফেটে গিয়ে অসংখ্য স্পোরোজয়েট মুক্ত করে, যা মশকীর লালাগ্রন্থিতে জমা হয়। স্পোরোজয়েট বহনকারী মশকী মানুষকে দংশন করলে মশকীর লালারসের মাধ্যমে স্পোরোজয়েট মানবদেহের রক্তস্রোতে প্রবেশ করে এবং যকৃত কোষ ও লোহিত রক্তকণিকাকে সংক্রমিত করে।
সুতরাং, স্ত্রী অ্যানোফিলিস মশকীর দেহে ম্যালেরিয়া পরজীবীর যৌন প্রজনন সম্পন্ন হয় এবং এটি ম্যালেরিয়া পরজীবীর জীবনচক্রের এক অপরিহার্য অংশ।