| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের ছকটি লক্ষ…’ চট্টগ্রাম কলেজ ২০২৫ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের ছকটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
Stephen Hales নামক একজন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী উদ্ভিদ শারীরতত্ত্বের জনক।
উদ্ভিদের কাণ্ড বা পাতার বহিঃত্বক সংলগ্ন কিউটিকলের মাধ্যমে প্রস্বেদন প্রক্রিয়াকে ত্বকীয় বা কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে। কিউটিকল মোম জাতীয় পদার্থ দ্বারা গঠিত হওয়ায়, পানি নিরোধী হয়। তাই প্রকৃতপক্ষে এই স্তর প্রস্বেদন রোধ করে। কিন্তু কিউটিকলের মাঝে মাঝে সূক্ষ ফাটল সৃষ্টি হলে অথবা কোনো কোনো উদ্ভিদের ত্বকে কিউটিকল স্তরটি অত্যন্ত পাতলা হলে, এই অংশগুলো দিয়ে কিছু পরিমাণ পানি প্রস্বেদনে নির্গত হয়। যদিও পত্ররন্দ্রীয় প্রস্বেদনের তুলনায় এর পরিমাণ অনেক কম। তথাপি অত্যাধিক শুষ্কাবস্থায় যখন পত্ররন্দ্র বন্ধ হয়ে যায় তখন ত্বকীয় প্রস্বেদন চলতে পারে। শতকরা ২-৫% প্রস্বেদন এ প্রক্রিয়ায় ঘটে থাকে।
উদ্দীপকে প্রক্রিয়া দ্বারা নিষ্ক্রিয় পরিশোষণকে বুঝানো হয়েছে। যে পরিশোষণ প্রক্রিয়ায় আয়ন শোষণের জন্য কোনো বিপাকীয় শক্তির প্রত্যক্ষ প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না সে পরিশোষণই হলো নিষ্ক্রিয় পরিশোষণ। নিষ্ক্রিয় পরিশোষণের সাথে সংশ্লিষ্ট উপায়গুলো নিচে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো-
১. ব্যাপন মতবাদ: মাটিস্থ দ্রবণের ঘনত্ব মূলত্বকের কোষ রসের আয়তনের ঘনত্ব অপেক্ষা অধিক হলে সামান্য পরিমাণ আয়ন ব্যাপন প্রক্রিয়ায় মূলত্বকের কোষরসে প্রবেশ করে। উদ্ভিদে সর্বদা ব্যাপন প্রক্রিয়ায় খনিজ লবণ পরিশোষিত হতে থাকে।
২. ব্যাপক প্রবাহ মতবাদ: অনেক বিজ্ঞানী Hylmo (1955) ও Kramen (1956) মনে করেন যে, প্রস্বেদন টানে যখন ব্যাপক হারে পানি পরিশোষিত হয় তখন পানির সাথে সাথে খনিজ লবণের আয়ন ও পরিশোষিত হয়।
৩. আয়ন বিনিময় মতবাদ: ডেভলিন, পান্ডে ও সিনহার মতে, উদ্ভিদের মূলরোমের কোষরস হতে হাইড্রোজেন আয়ন ও হাইড্রোক্সিল আয়ন বাইরের মাটিস্থ দ্রবণে নির্গত হয়। কোষের বৈদ্যুতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য একই পদ্ধতিতে মাটিতে বিদ্যমান ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন কোষরসে প্রবেশ করে। তবে ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন একসাথে পরিশোষিত হয় না।
৪. ডোনান সাম্যাবস্থা: ব্রিটিশ রসায়নবিদ জর্জ ডোনান এর মতে, কোষঝিল্লীর মধ্য দিয়ে অব্যাপনযোগ্য কোনো স্থির অ্যানায়ন (-) কোষাভ্যন্তরে থাকলে এদের নিরপেক্ষ করার জন্য বাহির হতে কিছু ক্যাটায়ন (+) কোষাভ্যন্তরে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে আয়নের সাম্যাবস্থা বজায় রাখে। কোষঝিল্লীর ভিতরে এরূপ স্থির অ্যানায়নের (-) সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে বাইরে থেকে ভেতরে একটি সাম্যাবস্থা না পৌছানো পর্যন্ত ক্যাটায়নের (+) ব্যাপন চলতে থাকে। একে ডোনান সাম্যাবস্থা বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'B' ও 'C' দ্বারা লুনডেগড় এর মতবাদ এবং প্রোটন-অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট মতবাদকে নির্দেশ করে। নিচে মতবাদদ্বয়ের মধ্যে তুলনা উল্লেখ করা হলো-
| লুনডেগড়-এর মতবাদ | প্রোটন-অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট মতবাদ |
|
১. এই মতবাদকে সাইটোক্রোম পাম্প মতবাদ ও বলা হয়। |
১. এই মতবাদকে প্রোটন-অ্যানায়ন কো-ট্রান্সপোর্ট মতবাদ বলা হয়। যা কেমি-অসমোটিক মডেলের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। |
| ২. এখানে সাইটোক্রোম বাহক হিসেবে কাজ করে। | ২. এখানে নির্দিষ্ট প্রোটিন নির্দিষ্ট আয়নের বাহক হিসেবে কাজ করে। |
| ৩. এখানে Cytochrome system -এর মাধ্যমে আয়ন কোষঝিল্লির ভিতরের তল থেকে বাইরের দিকে চলে আসে। | ৩. এখানে আয়ন নির্দিষ্ট কিছু সংখ্যক প্রোটিন বাহক দ্বারা বাহিত হয়ে বাইরের দ্রবণ থেকে কোষের ভেতরের দ্রবণে প্রবেশ করে। |
| ৪. ক্যাটায়ন শোষণ নিষ্ক্রিয়ভাবে বহিঃস্থ দ্রবণ থেকে কোষাভ্যন্তরে প্রবেশ করে। | ৪. সক্রিয় প্রোটিন বাহকের মাধ্যমে ক্যাটায়নকে কোষের বাইরের তল থেকে কোষের ভিতরের তলে বহন করে নিয়ে যায়। |
| ৫. কোষঝিল্লির বহিঃস্থ অঞ্চল থেকে অন্তঃস্থ অঞ্চল পর্যন্ত অক্সিজেনের ঘনত্বের নতিমাত্রা বিদ্যমান। | ৫. এখানে অক্সিজেনের কোনো ভূমিকা নেই। |