| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের ছকটি লক্ষ…’ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ২০২৬ – বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র (এইচএসসি)

নিচের ছকটি লক্ষ কর এবং নিচের প্রশ্নের উত্তর দাও:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
২য় পত্র · অধ্যায় ৯
SAARC-এর পূর্ণরূপ হলো- South Asian Association for Regional Co-operation |
বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতির একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য 'হলো 'বন্ধুত্বের নীতি'। এই নীতির মূলকথা হলো 'সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়', যার ভিত্তিতে বাংলাদেশ জন্মলগ্ন থেকে বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের সাথে সম্ভাব, সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মনোভাব গড়ে তুলেছে। আয়তনে ক্ষুদ্র এবং উন্নয়নকামী দেশ হিসেবে এই নীতি অনুসরণ করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।
উদ্দীপকের 'ক' সংস্থাটি হলো ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত, প্রারম্ভিক সদস্য ৫০ এবং নিউইয়র্কে সদর দপ্তর বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘ। এর উদ্দেশ্যের সাথে কমনওয়েলথ নামক আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্দেশ্যের গভীর সামঞ্জস্য রয়েছে।
জাতিসংঘের প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী শান্তি ও নিরাপত্তা সংরক্ষণ এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করা। এছাড়া মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাধান করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। কমনওয়েলথও মূলত আন্তর্জাতিক শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় জাতিসংঘকে সাহায্য করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। সংস্থাটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে দারিদ্র্য ও রোগব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই এবং গণতন্ত্র ও ব্যক্তিস্বাধীনতা সুরক্ষার মাধ্যমে সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নে জাতিসংঘের মতোই ভূমিকা পালন করে। সুতরাং, বিশ্বশান্তি ও মানবিক অগ্রগতির লক্ষ্যে উভয় সংস্থার কর্মকাণ্ডে অভিন্ন আদর্শ প্রতিফলিত হয়।
উদ্দীপকের 'খ' সংস্থাটি হলো ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি (OIC), যার সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্য।
বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে ১৯৭৪ সালে ওআইসির সদস্যপদ লাভ করে এবং তখন থেকেই এই সংস্থার প্রতিটি কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশের সংবিধানেও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়টি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ওআইসির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটি যেমন- আল কুদস কমিটি, 'তথ্য ও সাংস্কৃতিক কমিটি এবং ইসলামি সলিডারিটি ফান্ডের স্থায়ী সদস্য হিসেবে কাজ করছে। এছাড়াও ওআইসির অন্যতম প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি' (IUT) বাংলাদেশের গাজীপুরে অবস্থিত, যা এই ঘনিষ্ঠতার একটি বড় প্রমাণ।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রেও এই সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর; মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলো বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সহায়তা প্রদান করে এবং বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শ্রমিক সেখানে কাজ করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণ করছে।
পরিশেষে বলা যায়, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ও ওআইসি পরস্পর পরিপূরক হিসেবে কাজ করে চলেছে।