| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের ছকটি লক্ষ…’ ঢাকা কলেজ ২০২৬ – পৌরনীতি ও সুশাসন পরিচিতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের ছকটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
সরকারের বিভাগ তিনটি।
তথ্য অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি মানবাধিকার।
রাষ্ট্রের বিধানাবলি সাপেক্ষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো বিষয়ে নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকারকে তথ্য অধিকার বলে।
আইনানুগ কোনো প্রতিষ্ঠান, সংগঠন বা কর্তৃপক্ষের গঠন, উদ্দেশ্য, কার্যাবলি, কর্মসূচি, দাপ্তরিক নথিপত্র, আর্থিক সম্পদের বিবরণ ইত্যাদিকে তথ্য বলা হয়। প্রত্যেক নাগরিকেরই তথ্য জানার এবং জানানোর অধিকার রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালের ৫ এপ্রিল 'তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯' পাস করে।
উদ্দীপকে প্রশ্নচিহ্নিত '?' চিহ্নিত স্থানে সুশাসন ধারণাকে নির্দেশ করে।
সুশাসন হলো অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়পরায়ণ শাসনব্যবস্থা। সুশাসনের কতগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যেমন- সুশাসনের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো আইনের শাসন। আইনের শাসন বলতে আইনের চোখে সবার সমান হওয়া এবং আইনের প্রাধান্য বজায় থাকাকে বোঝায়। সুশাসনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে স্বচ্ছতা। যে কোনো ধরনের অনৈতিকতা পরিহার করে নিয়মনীতি মেনে কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করাকে স্বচ্ছতা বলে। কোন কাজ কতটুকু নীতিসঙ্গত বা বৈধ তা এর মাধ্যম মানুষ উপলব্ধি করতে পারে। এছাড়া জবাবদিহিতাও সুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জবাবদিহিতা হচ্ছে নিজের কাজের জন্য অন্য ব্যক্তির কাছে ব্যাখ্যাদানের বাধ্যবাধকতা। ব্যক্তি যখন তার কাজের জন্য অন্য কারো কাছে উত্তর দেয় যে, সে কাজটি কীভাবে করেছে তখন তাকে জবাবদিহিতা বলে। তদুপরি সুশাসনের অন্যতম আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো দায়িত্বশীলতা। কেননা, সরকারের শাসনবিভাগ তাদের নীতি-সিদ্ধান্ত ও কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকলে রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়। আবার সরকারের বৈধতা, সরকারের গৃহীত নীতি বা সিদ্ধান্তের বৈধতা সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যকীয় উপাদান। এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সুশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
প্রদত্ত ছকের '?' চিহ্নিত স্থানের সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো হলো-আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা দায়িত্বশীলতা, বৈধতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। আর এগুলো সবই সুশাসনের বৈশিষ্ট্য। তাই বলা যায়, ছকের'?' চিহ্নিত স্থানে সুশাসন ধারাণাকে নির্দেশ করা হয়েছে।
আধুনিক গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় উক্ত বিষয়টি তথা সুশাসনের গুরুত্ব অপরিসীম।
আধুনিক গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় সুশাসনের গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর এবং বহুমাত্রিক। গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হচ্ছে জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার, যা সুশাসনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার উপেক্ষিত হয়, যা গণতন্ত্রকে কেবল নামমাত্র রূপে সীমাবদ্ধ করে রাখে।
সুশাসনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। যার ফলে দুর্নীতি হ্রাস পায় এবং প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি সুশাসন রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে, যাতে নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন উভয় ক্ষেত্রেই গণমুখী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া সুশাসনের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, যা নাগরিকের ন্যায়বিচার লাভের অধিকার রক্ষা করে। গণতন্ত্রে জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ অগ্রাধিকার পায়। কিন্তু তা কার্যকর হয় তখনই যখন সুশাসনের কাঠামো দৃঢ় থাকে। সুশাসন ছাড়া গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা হয়তো একটি কাঠামো হিসেবে বিদ্যমান থাকতে পারে, কিন্তু তার অন্তর্নিহিত মূল্যবোধ ও কার্যকারিতা বিলীন হয়ে যায়।
সর্বপরি, আধুনিক গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থাকে কার্যকর ও অর্থবহ করে তুলতে হলে, সুশাসন অপরিহার্য। এটি শুধু রাষ্ট্রের কার্যপ্রণালিকে শৃঙ্খলিত করে না, বরং জনগণের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করে, যা আধুনিক গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থার লক্ষ্য ও চেতনার সঙ্গে সর্ম্পকযুক্ত।