| ㅤ | A. Nayan16 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের ছকটি পড়ো…’ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ ২০২৬ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের ছকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও :
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
আইন বিভাগের ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে।
যখন কোনো প্রতিনিধি নির্বাচনে জনগণ মধ্যবর্তী কোনো প্রতিনিধি নির্বাচন করে দেয় এবং তারা চূড়ান্ত প্রার্থীকে নির্বাচন করে, তখন একে পরোক্ষ ভোটদান বা পরোক্ষ নির্বাচন বলা হয়। এতে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে মধ্যবর্তী প্রতিনিধি এবং মধ্যবর্তী প্রতিনিধিদের প্রত্যক্ষ ভোটে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচিত হন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এরূপ পদ্ধতিতে নির্বাচিত হন।
উপরের ছকের 'A' সরকারের সাথে অর্থাৎ গণতন্ত্রের সাথে 'B' সরকারের অর্থাৎ একনায়কতন্ত্রের বেশকিছু পার্থক্য রয়েছে।
ক্ষমতার উৎসের ভিত্তিতে সরকারের দুটি রূপ দেখা যায়, একটি হলো গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা ও অন্য হলো একনায়কতান্ত্রিক সরকার। গণতান্ত্রিক সরকার হলো সেই সরকারব্যবস্থা যেখানে শাসনক্ষমতায় জনগণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে থাকে। আর একনায়কতান্ত্রিক সরকার ঠিক এর উল্টো। এখানে একজন, শাসক রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা ভোগ ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত, একাধিক দলের উপস্থিতি রয়েছে, প্রচার মাধ্যমগুলো মুক্ত ও স্বাধীন। আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। এখানে জনগণই হচ্ছে সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণ নিজেরাই নিজেদের মধ্য থেকে সরকার নির্বাচন করে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়। সরকারকে জনগণের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় যেতে হয়। আবার জনগণের আস্থা বা সমর্থন হারালে সরকার ক্ষমতা ছাড়তে রাধ্য হয়। অন্যদিকে, একনায়কতান্ত্রিক সরকারের সকল ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত থাকে বিধায় একটি মাত্র রাজনৈতিক দলের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রচার মাধ্যমগুলো সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত থাকে। ফলে জনগণের বাকস্বাধীনতা থাকে না। আইনসভার প্রকৃতি অনেকটা প্রহসনমূলক হয়ে থাকে। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় শাসক যুক্তি অপেক্ষা পেশিশক্তিতে বেশি বিশ্বাস করে। জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা বলতে কিছুই থাকে না।
পরিশেষে বলা যায়, গণতান্ত্রিক সরকার হলো জনগণের অধিকার রক্ষায় এবং জনকল্যাণে নিয়োজিত একটি শাসনব্যবস্থা। যেখানে একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা সর্বত্র জনকল্যাণ বিঘ্নিত হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' ও 'B' রাষ্ট্রে যথাক্রমে গণতান্ত্রিক ও একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। এ দুটির মধ্যে আমি গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থাকে শ্রেষ্ঠ সরকার বলব।
'A' সরকার হচ্ছে গণতান্ত্রিক সরকার। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত, একাধিক দলের উপস্থিতি রয়েছে, প্রচার মাধ্যমগুলো মুক্ত ও স্বাধীন। আইনসভা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। এখানে জনগণই হচ্ছে সকল ক্ষমতার উৎস। জনগণ নিজেরাই নিজেদের মধ্য থেকে সরকার নির্বাচন করে। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়। সরকারকে জনগণের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় যেতে হয়। আবার জনগণের আস্থা বা সমর্থন হারালে ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। জনগণ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে শাসন পরিচালনায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়। এতে তাদের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটে। তাছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা পরিবর্তনের ব্যবস্থা থাকায় কোনো ধরনের বিদ্রোহ বা বিপ্লবের প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে, 'B' সরকার হচ্ছে একনায়কতান্ত্রিক সরকার। এখানে সকল ক্ষমতা একজন ব্যক্তির হাতে কুক্ষিগত থাকে বিধায় একটি মাত্র রাজনৈতিক দলের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রচার মাধ্যমগুলো সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত থাকে। ফলে জনগণের বাকস্বাধীনতা থাকে না। আইনসভার প্রকৃতি অনেকটা প্রহসনমূলক হয়ে থাকে। এ ধরনের সরকারব্যবস্থায় শাসক যুক্তি অপেক্ষা পেশিশক্তিতে বেশি বিশ্বাস করে। জনগণের ব্যক্তিস্বাধীনতা বলতে কিছুই থাকে না।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, গণতান্ত্রিক সরকার হলো জনগণের অধিকার রক্ষায় এবং জনকল্যাণে নিয়োজিত একটি শাসনব্যবস্থা। যেখানে 'একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা সর্বত্র জনকল্যাণ বিঘ্নিত হয়। একারণে আমি মনে করি, গণতান্ত্রিক সরকার শ্রেষ্ঠ সরকার।