| ㅤ | A. Nayan17 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের ছকটি পড়ে…’ মাইলস্টোন কলেজ ২০২৬ – সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূুহ, পৌরনীতি ও সুশাসন, পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের ছকটি পড়ে নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর দাও:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৭
যে সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন তাকে প্রজাতন্ত্র বলে।
দেশের ভোটাধিকার প্রাপ্ত জনগণ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্তের পক্ষে বা বিপক্ষে জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে যে মতামত প্রদান করে, তাকে গণভোট বলা হয়।
গণভোটের মূল ভিত্তি হচ্ছে নির্বাচন ও নির্বাচকমণ্ডলী। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের পছন্দ, মতামত, সিদ্ধান্ত এবং সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে থাকে। গণভোট বলতে দেশের জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী-পুরুষ, ধনী গরিব নির্বিশেষে কোনো জাতীয় প্রশ্নে যে মতামত দেয়, তাকেই গণভোেট বলে অভিহিত করা হয়।
উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
গণতন্ত্র বলতে এমন এক শাসনব্যবস্থাকে বোঝায় যেখানে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে যোগ্যতা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণ, সরকার গঠন ও তা পরিচালনা করতে পারে। আধুনিক গণতন্ত্র হচ্ছে প্রতিনিধিত্বমূলক শাসনব্যবস্থা। গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয় জনগণের সম্মতিক্রমে। জনসমর্থন হারালে নির্বাচনে সরকারকে পরাজিত হতে হয়। ব্রিটিশ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বার্কারের মতে, "গণতন্ত্র হচ্ছে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত সরকার।" আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সরকার পরিচালিত হয় বলে এরূপ সরকার জনগণের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সকল বিষয়ে উন্নতি সাধনে সক্ষম হয়। গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থায় জনগণ নির্দিষ্ট সময় অন্তর শাসনকার্য পরিচালনার জন্য প্রতিনিধি নির্বাচিত করে থাকে। বেশিরভাগ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গণতান্ত্রিক সরকার জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় সরকারের দায়িত্বশীল প্রত্যেককে তার কাজের জন্য জনগণের নিকট জবাবদিহি করতে হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, 'ক' রাষ্ট্রে জনগণের প্রতিনিধিরা শাসনক্ষমতা পরিচালনা করে। তারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকে। প্রধানমন্ত্রী সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। প্রতি পাঁচ বছর পরপর সেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ সরকার পরিবর্তন করে থাকে। পূর্বোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, 'ক' রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। কেননা উল্লেখিত গণতান্ত্রিক সরকারের বিষয়গুলোর সাথে 'ক' রাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থার সাদৃশ্যতা রয়েছে।
'ক' ও 'খ' রাষ্ট্রের মধ্যে আমি 'A' রাষ্ট্রে বিদ্যমান সরকার ব্যবস্থাকে উত্তম মনে করি।
শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং নাগরিকদের নৈতিক, আর্থিক ও মানবিক বিকাশ সাধন রাষ্ট্রের প্রধান উদ্দেশ্য। আর রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সরকার। চলমান বিশ্বে নানা ধরনের সরকারের অস্তিত্ব লক্ষ করা যায়- গণতান্ত্রিক ও একনায়কতান্ত্রিক প্রকার ব্যবস্থা তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রে বিদ্যমান সরকার পদ্ধতি বা গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা আধুনিক সরকার ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম। এ ব্যবস্থায় ক্ষমতার উৎস হলো জনগণ। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশেষ করে সংসদীয় গণতন্ত্রে শাসন বিভাগ তাদের কাজের জন্য আইনসভার নিকট দায়ী থাকে। অন্যদিকে 'খ' রাষ্ট্রে বিদ্যমান সরকারব্যবস্থা হলো একনায়কতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা। কেননা একনায়কতন্ত্রে একনায়ক তার কার্যাবলির জন্য কারো কাছে দায়বদ্ধ থাকে না। ফলে এটি একটি দায়িত্বহীন শাসন ব্যবস্থায় পরিণত হয়। গণতান্ত্রিক সরকারব্যবস্থা জনমতভিত্তিক শাসনব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় জনমতের ভিত্তিতে শাসনকার্য পরিচালিত হয় বলে জনআকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়। অন্যদিকে, একনায়কতন্ত্রে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে না। এখানে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হয়। গণতন্ত্র নমনীয় শাসনব্যবস্থা। এ শাসনব্যবস্থায় সরকারকে সহজেই পরিবর্তন করা যায়। কিন্তু একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ক্ষমতার অতি কেন্দ্রীকরণ হয়ে থাকে। যার কারণে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে না। ফলে সুশাসনও নিশ্চিত হয় না।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি, 'ক' রাষ্ট্রে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা, 'খ' রাষ্ট্রে বিদ্যমান একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা থেকে অধিক জনকল্যাণমূলক। আর তাই 'ক' রাষ্ট্রে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে আমি উত্তম মনে করি।