| ㅤ | A. Nayan13 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ ২০২৪ – অণুজীব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর :
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
প্রিয়নস হলো সংক্রামক প্রোটিন ফাইব্রিল।
পোষক ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করার পর থেকে যে সময় পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ অপত্য ভাইরাস সৃষ্টি না হয় সেই সময় কালকেই ইকলিপস কাল বলে। ভাইরাসের সংখ্যাবৃদ্ধির বা বংশবৃদ্ধির লাইটিক চক্রে এ ইকলিপস কাল পরিলক্ষিত হয়। পোষক ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে আক্রমণকারী ও বংশবৃদ্ধিকারী ভাইরাস রিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করে থাকে। এ ধাপসমূহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ অপত্য ভাইরাস সৃষ্টির পূর্বের সময়কালই ইকলিপস কাল।
চিত্র- তে প্রদর্শিত অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিওফায। নিচে ফায ভাইরাসের গঠন বর্ণনা করা হলো-
ফায একটি ব্যাঙাচি আকৃতির ভাইরাস। এর দেহ দুটি প্রধান অংশ যথা- মাথা ও লেজ নিয়ে গঠিত।
মাথা : ফাযের মাথাটি স্ফীত এবং ষড়ভুজাকার। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ যথাক্রমে এবং । মাথার আবরণটি প্রোটিনের ক্যাপসিড এবং এর ভেতরে দীর্ঘ একটি অণু প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে। -ফাযের -দ্বি-সূত্রক এবং মোট ওজনের ।
লেজ : মাথার নিচে একটি সরু ও দীর্ঘ ফাঁপা নলাকার লেজ থাকে। লেজটি দৃঢ় এবং তা স্প্রিং-এর মতো প্যাঁচানো সংকোচনশীল আবরণে আবৃত থাকে। লেজটির দৈর্ঘ্য এবং ব্যাস প্রায় । কোনো কোনো ক্ষেত্রে লেজের বাইরে আবরণ থাকে না। লেজ ও মাথার সংযোগস্থলে চাকতির মতো একটি কলার থাকে।
লেজের প্রধান অংশটি একটি ফাঁপা নলের মতো। এর অভ্যন্তরে কোনো নেই। নিচের দিকে টি বেসপ্লেট, কাঁটার মতো কয়েকটি স্পাইক এবং ছয়টি স্পর্শক তন্তু আছে। লেজ, কলার, বেসপ্লেট, স্পাইক এবং স্পর্শক তন্তু সবই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। এতে নিউক্লিয়াস, কোষঝিল্লি, সাইটোপ্লাজম, কোষ প্রাচীর ও অন্যান্য কোনো ক্ষুদ্রাঙ্গ ইত্যাদি নেই।
উদ্দীপকের 'A' হলো একটি অণুজীব, যার নাম T2 ব্যাকটেরিওফায বা ফায ফাইরাস। অপরদিকে চিত্র 'B' হলো আরেকটি অণুজীব ব্যাকটেরিয়া। অর্থনৈতিক গুরুত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে 'A' ও 'B' এর ভূমিকা মূল্যায়ন করা হলো-
ব্যাকটেরিয়ার অর্থনৈতিক ভূমিকা:
১. দুধ হতে মাখন, পনির, দই প্রভৃতি তৈরিতে ব্যাকটেরিয়া অপরিহার্য।
২. পাট শিল্পে, চামড়া শিল্পে বা বায়োগ্যাস তৈরিতেও ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা অপরিসীম।
৩. টেস্টিংসল্ট, ভিনেগার, ল্যাকটিক এসিড, ভিটামিন তৈরিতে।
৪. জিন প্রকৌশলে অনেক ব্যাকটেরিয়াকে বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
৫. ব্যাকটেরিয়া হতে সাবটিলিন, পলিমিক্সিনসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ এন্টিবায়েটিক প্রস্তুত করা হয়।
৬. চা, কফি ও তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণে Bacillus megaterium নামক ব্যাকটেরিয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
ভাইরাসের অর্থনৈতিক ভূমিকা :
১. কলেরা, টাইফয়েড, আমাশয় প্রভৃতি রোগের ওষুধ তৈরিতে ব্যাকটেরিওফায ভাইরাস ব্যবহার করা হয়।
২. ভাইরাস হতে জন্ডিস রোগের টিকা তৈরি করা হয়।
৩. লাল টিউলিপ ফুলে ভাইরাসের আক্রমণে লম্বা লম্বা এবং সাদা সাদা দাগ পড়ে। ফলে ফুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং এর দামও বৃদ্ধি পায়।
৪. ভাইরাসকে পতঙ্গনাশক হিসেবে প্রয়োগ করা যায়, যা অর্থকরী ভূমিকা পালন করে।
৫. ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে এবং জিন প্রকৌশলে বাহক হিসেবেও ভাইরাস কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।