নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
ফুলের পরাগধানী এবং পুংদণ্ড সংযোগকারী অংশকে যোজনী বলে।
পরজীবী খাদ্যশিকল অসম্পূর্ণ কারণ এ শৃঙ্খলগুলোতে উৎপাদক শ্রেণি থাকে না। এগুলো শক্তি এবং পুষ্টির জন্য শিকারজীবী খাদ্যশিকলের প্রথম এক বা একাধিক স্তরের উপর নির্ভরশীল। তাই পরজীবী খাদ্যশিকলকে অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল বলা হয়।
M চিত্রে শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলে নডিউলকে দেখানো হয়েছে।
এখানে সংঘটিত আন্তঃক্রিয়াটি ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি জীবের একটি অন্যটিকে সহায়তা করে, তাকে ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া বলে। লাভজনক এ আন্তঃক্রিয়ার একটি ধরন হলো মিউচুয়ালিজম।
সহযোগীদের উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হলে তাকে মিউচুয়ালিজম বলে। যেমন- মৌমাছি, প্রজাপতি, পোকামাকড় প্রভৃতি ফুলের মধু আহরণের জন্য ফুলে ফুলে উড়ে বেড়ায় এবং বিনিময়ে ফুলের পরাগায়ন ঘটে। উদ্দীপকের প্রদর্শিত আন্তঃক্রিয়ায় রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া শিমজাতীয় উদ্ভিদের (Leguminous plant) শিকড়ে অবস্থান করে গুটি (Nodule) তৈরি করে এবং বায়বীয় নাইট্রোজেনকে সেখানে সংবন্ধন করে। ব্যাকটেরিয়া এই নাইট্রোজেন সহযোগী শিম উদ্ভিদকে সরবরাহ করে এবং বিনিময়ে সহযোগী উদ্ভিদ থেকে শর্করাজাতীয় খাদ্য পেয়ে থাকে। তাই, শিমজাতীয় উদ্ভিদ ও রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়ার আন্তঃক্রিয়া পারস্পরিক সহায়তামূলক সম্পর্ক বা মিউচুয়ালিজমের একটি উদাহরণ।
উদ্দীপকে P চিহ্নিত অঙ্গটি অমরা এবং Q হলো মানব ভ্রূণ। মানর ভূণের স্বাভাবিক বিকাশে অমরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
নিচে অমরার ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-
যে বিশেষ অঙ্গের মাধ্যমে মাতৃ জরায়ুতে ক্রমবর্ধমান ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ু-টিস্যুর মধ্যে সম্পর্ক স্থাপিত হয়, তাকে অমরা বা গর্ভফুল বলে। ভূণ জরায়ুতে পৌছানোর ৪-৫ দিনের মধ্যে সংস্থাপন সম্পন্ন হয়। ক্রমবর্ধনশীল ভূণের কিছু কোষ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের কিছু কোষ মিলিত হয়ে ডিম্বাকার ও রক্তনালিসমৃদ্ধ এই অমরা তৈরি করে। নিষেকের ১২ সপ্তাহের মধ্যে অমরা গঠিত হয়। এভাবে ভ্রূণ এবং মাতৃ জরায়ুর অন্তঃস্তরের মধ্যে একটি অবিচ্ছেদ্য অস্থায়ী অঙ্গ তৈরি হয়। প্রসবের সময় অমরা দেহ থকে নিষ্ক্রান্ত হয়ে যায়।
অমরার সাহায্যে ভ্রূণ জরায়ুর গায়ে সংস্থাপিত হয়। ভূণের বৃদ্ধির জন্য খাদ্য দরকার। শর্করা, আমিষ, স্নেহ, পানি এবং খনিজ লবণ ইত্যাদি অমরার মাধ্যমে মায়ের রক্ত থেকে ভূণের রক্তে প্রবেশ করে। অমরা অনেকটা ফুসফুসের মতো কাজ করে। অমরার মাধ্যমে ভ্রূণ মায়ের রক্ত থেকে অক্সিজেন গ্রহণ এবং ভ্রূণ থেকে CO₂ এর বিনিময় ঘটে। বিপাকের ফলে যে বর্জ্য পদার্থ উৎপন্ন হয় তা অমরার মাধ্যমে ভূণের দেহ থেকে অপসারিত হয়। অমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন তৈরি করে। এ হরমোন ভ্রূণের রক্ষণাবেক্ষণ ও তার স্বাভাবিক গঠনে সাহায্য করে। অমরাতে প্রচুর রক্তনালি থাকে। অমরা, আম্বিলিকাল কর্ড দ্বারা ভূণের নাভির সাথে যুক্ত থাকে। একে নাড়িও বলা হয়। এটা মূলত একটি নালি, যার ভিতর দিয়ে মাতৃদেহের সাথে ভ্রূণের বিভিন্ন পদার্থের বিনিময় ঘটে। গর্ভাবস্থায় অমরা থেকে এমন কতগুলো হরমোন নিঃসৃত হয়, যা মাতৃদুগ্ধ উৎপাদন এবং প্রসব সহজ করতে সহায়তা করে।
