নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
পাশাপাশি অবস্থিত কোষগুলো কোষপ্রাচীরের সূক্ষ্ম ছিদ্রের ভিতর দিয়ে প্রোটোপ্লাজমের সুতার মতো অংশ দিয়ে পরস্পর যুক্ত থাকে। এই সুতার অংশকে প্লাজমোডেজমাটা বলে।
মিয়োসিস কোষ বিভাজনে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়। কারণ এ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃতকোষ বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। এ প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস-দু'বার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়, ফলে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়ে যায়। এ বিভাজনে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা হ্রাস পায় বলে এ প্রক্রিয়াকে হ্রাসমূলক বিভাজনও বলে।
উদ্দীপকের X চিত্রটি দ্বারা অনৈচ্ছিক পেশিকে নির্দেশ করা হয়েছে। নিচে অনৈচ্ছিক পেশির গঠন বর্ণনা করা হলো-
ভূণীয় মেসোডার্ম হতে সৃষ্ট সংকোচন ও প্রসারণশীল বিশেষ ধরনের টিস্যুই হলো পেশি টিস্যু। এই পেশি টিস্যুর সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়, তাই এরা অনৈচ্ছিক পেশি টিস্যু। এরা মাকু আকৃতির। এদের গায়ে আড়াআড়ি দাগ থাকে না। তাই এদের মসৃণ পেশিও বলে। এরা হৃৎপেশির ন্যায় শাখান্বিত নয়। সাধারণত দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদির সঞ্চালনে এরা অংশ নেয়। মেরুদণ্ডী প্রাণীদের রক্তনালি, পৌষ্টিকনালি ইত্যাদির প্রাচীরে এ ধরনের পেশি দেখা যায়।
উদ্দীপকে চিত্র: Y হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। ক্লোরোপ্লাস্টের
অনুপস্থিতিতে জীবকূলের জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
সবুজ উদ্ভিদে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকায় এরা নিজেই নিজের খাদ্য সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় প্রস্তুত করে থাকে। উদ্ভিদের প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি উৎসেচক, CO₂ এবং কোষের ভিতরকার পানি ব্যবহার করে উদ্ভিদ সরল শর্করা তৈরি করে। এই প্রস্তুতকৃত খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন জৈবনিক কাজে শক্তি জোগায়। ফলে উদ্ভিদ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং পরবর্তীতে ফুল ধারণ করে। পরাগায়ন ও নিষেকের মাধ্যমে ফুল থেকে ফল ও বীজ উৎপন্ন হয়ে প্রজাতির ধারা অব্যাহত থাকে। যেহেতু সব প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল, তাই ক্লোরোপ্লাস্টের অনুপস্থিতিতে প্রাণীকুলে খাদ্য সংকট দেখা দেবে।
আবার ক্লোরোপ্লাস্টে সালোকসংশ্লেষণের সময় উদ্ভিদ পরিবেশ থেকে CO₂ গ্রহণ করে এবং O₂ ত্যাগ করে, ফলে পরিবেশে গ্যাসীয় ভারসাম্য রক্ষা পায়। এই ভারসাম্য রক্ষিত না হলে জীবজগতে জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।
তাই উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, জীবকূলের জীবনধারণের জন্য ক্লোরোপ্লাস্টের ভূমিকা অপরিসীম।
