A. Nayan
A. Nayan
18 Jun 2026 (1 day ago)
Dhaka, Narayanganj

সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৫ – জীবনীশক্তি, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)


Listen to this article
📘 ক্লাস: 9-10🎓 গ্রুপ: বিজ্ঞান📚 বই: জীববিজ্ঞান📘 ৩য় অধ্যায়🔢 সৃজনশীল নম্বর: ২২🏫 বোর্ড: বরিশাল শিক্ষা বোর্ড📅 সাল: ২০২৫⭐ গুরুত্ব: ⭐⭐⭐⭐⭐

💡 সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-

উত্তর:

যে প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হয় তাই ফটোলাইসিস।

উত্তর:

মুথা ঘাসকে C4 উদ্ভিদ বলা হয়। কারণ এই উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্রের পাশাপাশি হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্রও পরিচালিত হয়। বিজ্ঞানী হ্যাচ ও স্ল্যাক ১৯৬৬ সালে C4 বিজারণের এই গতিপথ আবিষ্কার করেন, যেখানে এই গতিপথের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হিসেবে ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো অ্যাসিটিক এসিড পাওয়া যায়। মুথা ঘাসে এই চক্র সম্পন্ন হয় বিধায় মুথা ঘাসকে CO2 উদ্ভিদ বলা হয়।

উত্তর:

উদ্দীপকের চিত্র 'Y' দ্বারা সবাত শ্বসন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে। সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া সাধারণত চারটি ধাপে সম্পন্ন হলেও কোষের। মাইটোকন্ড্রিয়াতে সবাত শ্বসনের নিম্নলিখিত তিনটি ধাপ সংঘটিত হয়। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো-
অ্যাসিটাইল Co-A সৃষ্টি: গ্লাইকোলাইসিস পর্যায়ে সৃষ্ট প্রতি অণু পাইরুভিক এসিড পর্যায়ক্রমে বিক্রিয়া শেষে ২ কার্বনবিশিষ্ট ১ অণু অ্যাসিটাইল কো এনজাইম-এ, এক অণু CO2 এবং এক অণু NADH +H+উৎপন্ন করে। দুই অণু পাইরুভিক এসিড হতে দুই অণু অ্যাসিটাইল কো এনজাইম-এ, দুই অণু CO2 এবং দুই অণু NADH + H+উৎপন্ন হয়।

এই ধাপটি সাইটোপ্লাজমে ঘটে বলে এক সময় মনে করা হতো, তবে সর্বশেষ তথ্য উপাত্ত অনুসারে জানা গেছে বিক্রিয়াটি ঘটে মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে।

ক্রেবস চক্র: এ পর্যায়ে অ্যাসিটাইল Co-A মাইটোকন্ড্রিয়াতে প্রবেশ করে এবং ক্রেবস চক্রে অংশগ্রহণ করে। এ চক্রের সকল বিক্রিয়াই মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত হয়। এই চক্রে এক অণু অ্যাসিটাইল Co-A থেকে দুই অণু কার্বন ডাইঅক্সাইড, তিন অণু NADH +H+, এক অণু FADH2 এবং এক অপু GTP উৎপন্ন হয়। (অর্থাৎ দুই অণু অ্যাসিটাইল Co-A থেকে চার অণু CO2,6 অণু NADH +H+, দুই অণু FADH2 এবং দুই অণু GTP উৎপন্ন হয়।)
ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র : গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি এবং ক্রেবস চক্রে NADH+H+ (বিজারিত NAD), FADH2 (বিজারিত FAD) উৎপন্ন হয়, এই ধাপে সেগুলো জারিত হয়ে ATP, পানি, উচ্চশক্তির ইলেকট্রন এবং প্রোটন উৎপন্ন হয়। উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রনগুলো ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যে শক্তি প্রদান করে সেই শক্তি ATP তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র মাইটোকন্ড্রিয়ায় সংঘটিত হয়।

উত্তর:

উদ্দীপকের চিত্রের 'X' প্রক্রিয়াটি দ্বারা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে জীবজগতের বিলুপ্তি ঘটবে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
সালোকসংশ্লেষণ বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া। এ বিক্রিয়ার মাধ্যমেই সূর্যালোক এবং জীবনের মধ্যে সেতুবন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃতিতে একমাত্র সবুজ উদ্ভিদই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করে খাদ্যের মধ্যে আবদ্ধ করতে পারে। কোনো প্রাণীই তার নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না। কাজেই খাদ্যের জন্য সমগ্র প্রাণিকূল সবুজ উদ্ভিদের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল, আর সবুজ উদ্ভিদ এ খাদ্য প্রস্তুত করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায়। কাজেই বলা যায়, পৃথিবীর সকল উদ্ভিদ এবং প্রাণীর খাদ্য প্রস্তুত হয় সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে। আমরা জানি, সব জীবেই (উদ্ভিদ ও প্রাণী) সব সময়ের জন্য শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। শ্বসন প্রক্রিয়ায় জীব O2 গ্রহণ করে এবং CO2 ত্যাগ করে। কেবল শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বায়ুমণ্ডলে O2 গ্যাসের স্বল্পতা এবং CO2 গ্যাসের আধিক্য দেখা দিত। কিন্তু সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে CO2 গ্রহণ করে এবং O2 ত্যাগ করে বলে এখনও বাযুমণ্ডলে O2CO2 গ্যাসের সঠিক অনুপাত রক্ষিত হচ্ছে। তাই আমাদেরকে অবশ্যই অধিক হারে গাছ লাগাতে হবে। মানবসভ্যতার অগ্রগতি অনেকাংশে সালোকসংশ্লেষণের উপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। অন্ন, বস্ত্র, শিল্পসামগ্রী, ঔষধ, জ্বালানি কয়লা, পেট্রোল, গ্যাস প্রভৃতি উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়। তাই সালোকসংশ্লেষণ না ঘটলে মানবসভ্যতা ধ্বংস হবে, বিলুপ্ত হবে জীবজগৎ।

2 Views
No Comments
Share
0
No comments to “সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ বরিশাল বোর্ড ২০২৫ – জীবনীশক্তি, জীববিজ্ঞান (এসএসসি)”