| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ কুমিল্লা বোর্ড ২০২৫ – কোষ ও এর গঠন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১
জিন হলো ক্রোমোসোমের লোকাসে অবস্থিত DNA অণুর সুনির্দিষ্ট সিকুয়েন্স যা জীবের একটি নির্দিষ্ট কার্যকর সংকেত আবদ্ধ করে এবং প্রোটিন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটায়।
লাইসোসোমের ভেতর বিভিন্ন ধরনের এনজাইম থাকে। অনেক সময় তীব্র খাদ্যাভাবে এর প্রাচীর ফেটে যায় এবং আবদ্ধকৃত এনজাইম ভেতর থেকে বের হয়ে কোষের অন্যান্য অঙ্গাণুগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে। এ কাজকে অটোফ্যাগী বা স্বগ্রাস বলে। এভাবে সমস্ত কোষটিও পরিপাক হয়ে যেতে পারে। এরা জীবদেহের অকেজো কোষসমূহকে অটোলাইসিস প্রক্রিয়ায় ধ্বংস করে বলে এদের আত্মঘাতী থলিকা বা সুইসাইডাল স্কোয়াড বলা হয়।
এ উদ্দীপকের 'A' নির্দেশিত জৈব অণুটি হলো DNA। DNA হলো জীবের বংশগতির তথ্য বহনকারী অণু, যা জীবের গঠন ও কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। নিচে DNA অণুর ভৌত গঠন বর্ণনা করা হলো-
১. DNA অণু দ্বিসূত্রক, লোহার সিঁড়ির মতো ডান থেকে বাম দিকে প্যাঁচানো, যাকে বলা হয় ডাবল হেলিক্স।
২. সূত্র দুটি সমদূরত্বে পরস্পর বিপরীতমুখী (একটি ৫' → ৩' মুখী, অপরটি ৩' → ৫' মুখী) হয়ে অবস্থান করে।
৩. সিঁড়ির দু'দিকের হাতল তৈরি হয় ডিঅক্সিরাইবোজ স্যুগার (s) ও ফসফেটের (P) পর্যায়ক্রমিক সংযুক্তির মাধ্যমে।
৪. সূত্র দুটির মাঝখানের প্রতিটি ধাপ তৈরি হয় একজোড়া নাইট্রোজেন বেস (A = T বা G=C) দিয়ে।
৫. ফসফেট যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ স্যুগারের ৩য় ও ৫ম (3' ও 5' কার্বনের) কার্বনের সাথে এবং ক্ষারকগুলো যুক্ত থাকে ডিঅক্সিরাইবোজ স্যুগারের ১ম কার্বনের (1' কার্বনের) সাথে। কাজেই সূত্রকের বাইরের দিকে ফসফেট এবং ভিতরের দিকে 'নাইট্রোজেন ক্ষারক থাকে।
৬. DNA অণুতে চার ধরনের নাইট্রোজেন ক্ষারক (এডিনিন (A), গুয়ানিন (G), থাইমিন (A) এবং সাইটোসিন (C)) থাকে। একটি সূত্রের এডিনিন (A) অপর সূত্রের থাইমিনের সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা (A = T/T = A) এবং একটি সূত্রের গুয়ানিন (G) অপর সূত্রের সাইটোসিনের (C) সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধনী দ্বারা (C= G/G = C) যুক্ত থাকে।
৭. ডাবল হেলিক্সের প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচ বা ঘূর্ণনের দূরত্ব 34°A (= 3.4 nm)। প্রতিটি সম্পূর্ণ প্যাঁচে ১০ জোড়া মনোনিউক্লিওটাইড থাকে। প্রতিটি প্যাঁচে ২৫টি হাইড্রোজেন বন্ড থাকে।
৮. সিঁড়ির এক ধাপ থেকে অপর ধাপ অর্থাৎ বেস জোড়গুলো পরস্পর থেকে 3.4Å দূরত্বে অবস্থিত।
৯. হেলিক্সের ব্যাস 20Å (= 2 nm)। তবে প্রজাতিভেদে অণুর দৈর্ঘ্য বিভিন্ন হয়।
১০. DNA-এর আনবিক ওজন ডাল্টন এর মধ্যে।
উদ্দীপকের যৌগ 'B' যে ধরনের জৈব অণুর প্রতিনিধিত্ব করে তা হলো RNA এবং 'X' প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সলেশন। ট্রান্সলেশন হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে mRNA-এর নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স অনুযায়ী অ্যামাইনো অ্যাসিড একটির পর একটি যুক্ত হয়ে একটি পলিপেপটাইড শৃঙ্খল তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াটি ঘটে রাইবোসোমে, যেখানে mRNA, tRNA ও রাইবোসোম যৌথভাবে কাজ করে। ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় mRNA ও. tRNA এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো-
১. ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়াটি রাইবোসোমে সংঘটিত হয়। রাইবোসোমের ছোট উপ-এককের সাথে mRNA সর্বপ্রথম যুক্ত হয়। রাইবোসোমে tRNA-র জন্য ২টি স্থান থাকে যথা- A সাইট এবং P সাইট। A সাইটে প্রথম সূচনা কোডসহ mRNA এবং tRNA যুক্ত হয়।
২. রাইবোসোমের মধ্যে mRNA-র 5' প্রান্ত প্রথম অনুপ্রবেশ করে সেখানে প্রারম্ভিক কোডন AUG এর সাথে tRNA এর UAC অ্যান্টিকোডনের সংযুক্তি ঘটে।
৩. mRNA ক্রমান্বয়ে 5' → 3' রাইবোসোমের A সাইট হতে P সাইটে অতিক্রম করতে থাকে।
8. A সাইট ও P সাইট পাশাপাশি দুটি অ্যামিনো অ্যাসিড পলিপেপটাইড বন্ধনী দিয়ে সংযুক্ত হয়। অ্যামাইনো অ্যাসিডসহ tRNA, A সাইট হতে P সাইটে বন্ধনী গঠন করে পুনরায় tRNA মুক্ত হয়ে যায়।
৫. mRNA-র শেষে টারমিনেশন বা সমাপ্তি কোডন- UAA, UAG, UGA রাইবোসোমের A সাইটে পৌঁছালে নতুন tRNA হাজির না হয়ে একটি প্রোটিন রিলিজ ফ্যাক্টর যুক্ত হয়। যার ফলে পলিপেপটাইড চেইন P সাইট থেকে মুক্ত হয়।
৬. পলিপেপটাইড অণু ও mRNA রাইবোসোম ত্যাগ করে এবং রাইবোসোমের দুটি উপ-একক পৃথক হয়ে পড়ে।
এভাবে কয়েকটি ধারাবাহিক ধাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড, এনজাইমের সহায়তায় পলিপেপটাইড চেইন তথা প্রোটিন তৈরির ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় tRNA ও mRNA গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।