নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো-
একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলা হয়।
পুষ্পমঞ্জরি হলো ফুলসহ একটি বিশেষ শাখা, যেখানে ফুলগুলো নিয়মিতভাবে সাজানো থাকে। ফুলসহ শাখাটি মঞ্জরিদণ্ড নামে পরিচিত। পুষ্পমঞ্জরি বিভিন্নভাবে হতে পারে, যেমন অনিয়ত এবং নিয়ত পুষ্পমঞ্জরি। অনিয়ত পুষ্পমঞ্জরির শাখা অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পায়, যেখানে পুষ্প উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বৃদ্ধি থেমে যায়। এটি পরাগায়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের P ও Q হলো যথাক্রমে পুংকেশর ও স্ত্রীস্তবক। পুংকেশর ও স্ত্রীস্তবক ব্যবহার করে একটি সম্পূর্ণ ফুলের চিহ্নিত চিত্র নিচে দেওয়া হলো-
উদ্দীপকে P হলো পুংকেশর এবং Q হলো স্ত্রীস্তবক। স্ত্রীস্তবকের গর্ভাশয় এর পরিস্ফুটনে পুংকেশর থেকে সৃষ্ট গ্যামেট অর্থাৎ পুংগ্যামেট মুখ্য ভূমিকা পালন করে। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা
হলো-
-
ফুলের গর্ভাশয়ের ভিতরে আট নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট থলির ন্যায় যে অঙ্গ দেখা যায় তাকেই ভূণথলি বলে। ভূণথলির গর্ভর্যন্ত্রের কাছে অবস্থান করে ডিম্বাণু, মাঝখানে গৌণ নিউক্লিয়াস। পুংকেশরের পরাগধানীতে তৈরি হয় পুংজননকোষ বা শুক্রাণু। পুংজননকোষটি ভ্রূণথলিতে অবস্থিত ডিম্বাণুর সাথে মিলনের ফলে নিষেক ক্রিয়া ঘটায় এবং জাইগোট সৃষ্টি করে। জাইগোট কোষটি স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ। এর প্রথম বিভাজনে দুটি কোষ সৃষ্টি হয়। একই সাথে সস্যের পরিস্ফুটনও ঘটতে শুরু করে। জাইগোটের বিভাজন অনুপ্রস্থে ঘটে। ডিম্বকরন্দ্রের দিকের কোষকে ভিত্তি কোষ এবং ভূণথলির কেন্দ্রের দিকের কোষটিকে এপিক্যাল কোষ বলা হয়। একই সাথে এ কোষ দুটির বিভাজন চলতে থাকে। ধীরে ধীরে এপিক্যাল কোষটি একটি ভূণে পরিণত হয়। একই সাথে ভিত্তি কোয় থেকে ভূণধারক গঠন করে। ক্রমশ বীজপত্র, ভূণমূল ও ভূণকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ক্রমান্বয়ে গৌণ নিউক্লিয়াসটি সস্যটিস্যু উৎপন্ন করে। পরিণত অবস্থায় ডিম্বকটি সস্য ও ভূণসহ বীজে পরিণত হয়। এ বীজ অঙ্কুরিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ স্পোরোফাইটের সৃষ্টি করে।
অতএব উল্লেখিত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, স্ত্রীস্তবকের গর্ভাশয় এর পরিস্ফুটনে পুংকেশর থেকে সৃষ্ট পুংগ্যামেট মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
