| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ ঢাকা কলেজ ২০২৫ – কোষ বিভাজন, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ২
যে মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় ডিপ্লয়েড জীবে শুক্রাণু মাতৃকোষ বা ডিম্বাণু মাতৃকোষ থেকে যথাক্রমে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তৈরি হয় তাকে টার্মিনাল মিয়োসিস বলে।
কোষ বিভাজনের ক্ষেত্রে প্রস্তুতিমূলক পর্যায় ও বিভাজন পর্যায়কে একত্রে কোষচক্র বলে। প্রস্তুতিমূলক পর্যায় ইন্টারফেজ নামে পরিচিত। বিভাজন পর্যায়ে প্রোফেজ, প্রো-মেটাফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ ও টেলোফেজ ধাপগুলো ঘটে থাকে। কোষচক্রের মোট সময়ের মাত্র ৫-১০ ভাগ ব্যয় হয় বিভাজন পর্যায়ে এবং ৯০-৯৫ ভাগ ব্যয় হয় ইন্টারফেজ বা বিরাম দশায়। কোষচক্র একটি জেনেটিক প্রোগ্রাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। হাওয়ার্ড এবং পেল্ক ১৯৫৩ সালে এই কোষ চক্র আবিষ্কার করেন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত দু'ধরনের কোষ বিভাজন হলো মাইটোসিস ও মিয়োসিস। মাইটোসিস ও মিয়োসিসের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। নিচে এ সম্পর্কে আমার মতামত দেওয়া হলো-
মাইটোসিস কোষ বিভাজন
১. জীবের দেহ কোষে সংঘটিত হয়। ফলে দেহের বৃদ্ধি ঘটে ।
২. মাতৃকোষটি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে।
৩. উৎপন্ন অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার সমান।
৪. বাইভেলেন্ট তৈরি হয় নাহ।
৫. ক্রসিং ওভার ঘটে না। ফলে জিনের সজ্জাবিন্যাসের কোনো পরিবর্তন ঘটে না।
৬. বিবর্তন ও জনুক্রমের সাথে মাইটোসিসের কোনো সম্পর্ক নেই।
মিয়োসিস কোষ বিভাজন
১. জীবের জনন মাতৃকোষে সংঘটিত হয়। ফলে গ্যামেট তৈরি হয়।
২. মাতৃকোষটি বিভাজিত হয়ে চারটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে।
৩. অপত্য কোষের ক্রোমোসোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোসোম সংখ্যার অর্ধেক ।
৪. বাইভেলেন্ট তৈরি হয়।
৫. ক্রসিং ওভার ঘটে। ফলে জিনের সজ্জাবিন্যাস পরিবর্তন ঘটে।
৬. ক্রসিং ওভার এর ফলে জীবের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্যের সূচনা হয় যা বিবর্তন ও জনুক্রমের পথকে সুগম করে।
জীবনের ধারাবাহিকতা রক্ষায় উদ্দীপক 'ক' ও 'খ' এর মধ্যে 'খ' অর্থাৎ মিয়োসিস বেশি অবদান রাখে। নিচে তা আলোচনা করা হলো-
উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় ধরনের কোষ বিভাজনটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া যা জীবনের ধারাবাহিকতা ও বৈচিত্র্যতা আনতে সক্ষম। মিয়োসিস কোষ বিভাজন জীবের প্রজনন, বিবর্তন এবং নতুন প্রকরণ সৃষ্টিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। জীবের যৌন প্রজননের জন্য প্রথমেই। পুং ও স্ত্রী গ্যামেট সৃষ্টির প্রয়োজন হয়। পুং ও স্ত্রী জনন মাতৃকোষ মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় বিভাজিত হয়ে যথাক্রমে হ্যাপ্লয়েড পুংগ্যামেট এবং স্ত্রী গ্যামেট বা ডিম্বাণু তৈরি করে রে। পুং ও স্ত্রী গ্যামেটের যৌন মিলন এর মাধ্যমে জীব তার যৌন জনন সম্পন্ন করে। পুং ও স্ত্রী গ্যামেট তৈরি না হলে জীব তার যৌন জনন সম্পন্ন করতে পারত না। আবার এ দু'ধরনের জনন কোষ মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমেই তৈরি হয়ে থাকে। মিয়োসিস কোষ বিভাজনে দুটি নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে অংশের বিনিময়ের মাধ্যমে বংশগতীয় বৈশিষ্ট্যের পুনর্বিন্যাস ঘটে। ফলে নতন বংশধরে আসে বৈচিত্র্য এবং সৃষ্টি হয় নতন প্রকরণ। যেহেতু মিয়োসিসের ক্রসিং ওভার জীবে বৈচিত্র্য আনে সেহেতু এই জীববৈচিত্র্য ধারাবাহিকভাবে জীবের বিবর্তন ঘটায়। সুতরাং জীবের জীবনের ধারাবাহিকতা ও বৈচিত্র্যতা বজায় রাখতে মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।