| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩ – অণুজীব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর:
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৪
লাইসোজেনিক চক্রে ব্যাকটেরিয়ার DNA-র সঙ্গে সংযুক্ত ভাইরাস DNA-টিকে প্রোফায (prophage) বলে।
বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশে পেঁপে চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। রিংস্পট বা মোজাইক রোগ নামক এই রোগটি একটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট এবং ভারত, চীন, থাইল্যান্ড এবং ফিলিপাইনের মতো জায়গায় এটি সাধারণ। রিংস্পট ভাইরাস পেঁপে গাছে প্রবেশ করে যখন জাব বিটল এবং সাদা মাছি নামক পোকামাকড় কামড়ায়। যদি একটি সংক্রামিত বিটল একটি সুস্থ গাছকে কামড়ায় তবে এটি সেই গাছে ভাইরাস প্রেরণ করতে পারে। পোকামাকড়ের শরীরে ভাইরাস জন্মায় না। পেঁপে গাছের আশেপাশে প্রচুর জাব পোকা থাকলে এবং সেগুলিকে প্রচুর কামড় দিলে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মাত্র 4 মাসের মধ্যে পুরো বাগান সংক্রমিত হতে পারে। গাছ ছাঁটাই বা ছাঁটাই করলেও এ রোগ ছড়াতে পারে।
যদিও পেঁপে গাছগুলি প্রায়শই অসুস্থ হয় না, সেখানে রিংস্পট রোগ পুরো ফসলকে ধ্বংস করতে পারে। তাই পেপের রিংস্পট অত্যন্ত ভয়ানক রোগ।
উদ্দীপকের N হলো একটি ব্যাকটেরিয়া । ব্যাকটেরিয়া মুলত দ্বি-বিভাজন বা বাইনারি ফিশন এর মাধ্যমে বংশ বিস্তার করে। দ্বি- বিভাজন বলতে একটি কোষকে দুটি সমান অংশে বিভক্ত করাকে বোঝায়। মাইটোসিস নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়াটি কোষের ডিএনএকে দুটি সমান অংশে ভাগ করে, যার ফলে দুটি অভিন্ন কোষ তৈরি হয়। এই ধরনের অযৌন প্রজনন দ্রুত গুণনের অনুমতি দেয় কারণ একটি কোষ একই আকারের দুটি কোষে পরিণত হয়। প্রক্রিয়াটি একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করে।
উদ্দীপকের M চক্রটি হলো ম্যালেরিয়া জীবাণুর এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি, যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর ।ম্যালেরিয়া জীবাণুর জীবনচক্রে লোহিত রক্ত কণিকাকে আক্রমণ করার মাধ্যমে এ চক্রের সূচনা করে। এ চক্রে মাইক্রো-মেটাক্রিপ্টোমেরোজয়েটগুলো যকৃত কোষ থেকে লোহিত রক্ত কণিকায় প্রবেশ করে এবং বাদ্য করে স্ফীত ও গোলাকার হয়। এই দশাকে এফোজয়েট দশা বলে। জীবাণুর দেহে ক্ষুদ্র একটি কোষ গহ্বর ও ছোট একটি নিউক্লিয়াস দেখা যায়। কোষ গহবরটি ধীরে ধীরে বড় হয় ও নিউক্লিয়াসটি একপাশে সরে যায়, ফলে জীবাণুটি, একটি আংটি আকৃতি লাভ করে। এই অবস্থাতে সিগনেট রিং বলা হয়। যা ৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষণপদবিশিষ্ট এমিবার আকৃতি প্রাপ্ত হয়, তাই এ দশাকে অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট বলে। এ সময় লোহিত রক্ত কণিকাটি আকারে স্ফীত হয় এবং এর সাইটোপ্লাজমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানা দেখা যায়। এ গুলোকে সাফনার্স দানা (কণা) বলে। রক্ত কণিকায় সাফনার্স দানার উপস্থিতি দেখে ম্যালেরিয়া রোগ শনাক্ত করা হয়।
অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট দশার কোষস্থ নিউক্লিয়াস বারবার বিভাজনের মাধ্যমে ১২-২৪টি অপত্য নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে। এ অবস্থাকে সাইজন্ট বলা সাইজন্ট দশার প্রতিটি নিউক্লিয়াস প্রায় 45 ঘন্টা পর সাইটোপ্লাজম ও প্লাজমামেমব্রেনসহ বিভক্ত হয়ে ১২-১৮টি মেরোজয়েট-এ পরিণত হয়। মেরোজয়েটগুলো গোলাপের পাপড়ির ন্যায় দুই স্তরে সজ্জিত হয়। এ দশাকে রোজেট বলে। পরবর্তী অবস্থায় লোহিত রক্ত কণিকা ভেঙ্গে যায় এবং মেরোজয়েটগুলো প্লাজমায় বের হয়ে আসে। মেরোজয়েট রক্তস্রোতে ঢুকে গেলে রক্তের শ্বেত রক্ত কণিকাগুলো তাকে প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করে। এসময় রক্তে প্রচুর পরিমাণে পাইরোজেন নামক রাসায়নিক পদার্থ জমা হয় এবং এর প্রভাবেই দেহে জ্বর আসে। স্ত্রী ও পুং গ্যামিটোসাইটগুলো পোষক দেহের প্রান্তীয় রক্তনালীতে অবস্থান করে। মানুষের রক্তে গ্যামিটোসাইটগুলোর আর কোনো পরিবর্তন সংঘটিত হয় না।
মানবদেহে ম্যালেরিয়ার জীবাণু প্রবেশের পর বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে একসময় গ্যামিটোসাইট গঠন করে। Plasmodium vivax হতে সৃষ্ট গ্যামিটোসাইটগুলো মানুষের রক্তে ৭ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এ সময়ের মধ্যে রোগীর দেহ হতে এরা মশকীর দেহে প্রবেশের সুযোগ পেলে পরবর্তী চক্র সম্পন্ন করতে শুরু করে। গ্যামিটোসাইটগুলো গ্যামিটোগনি ও স্পোরোগনি ধাপের মাধ্যমে অবশেষে স্পোরোজয়েট উৎপন্ন করে মশকীর লালাগ্রন্থিতে অবস্থান করে। এ মশকী কোনো মানুষকে দংশন করলে মানুষ এ জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়।
সুতরাং বলা যায় যে, ম্যালেরিয়া জীবাণুর এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর।