| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫ – উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ৯
সূর্যালোকের উদ্দীপনায় ক্লোরোপ্লাস্টের থাইলাকয়েডের অভ্যন্তরে পানি ভেঙ্গে অক্সিজেন, প্রোটন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়াকে বলা হয় ফটোলাইসিস।
উদ্ভিদের পাতার বান্ডলসিথের চারদিকে ঘিরে ক্ষুদ্র ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত মেসোফিল কোষের পৃথক এক বা একাধিক স্তর মালার মতো অবস্থান করে। এ ধরনের অন্তর্গঠনকে ফ্র্যাঞ্জ অ্যানাটমি (Kranz anatomy) বলে। "Kranz" জার্মান শব্দ, এর অর্থ হচ্ছে মালা। এরা উদ্ভিদকে অল্প পরিমাণ এর উপস্থিতিতে সালোকসংশ্লেষণে সহায়তা করে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-১ দ্বারা সক্রিয় পরিশোষণ বা আয়ন শোষণ মতবাদ এর সাইটোক্রোম পাম্প মতবাদ বা লুনডেগর-এর মতবাদকে বুঝানো হয়েছে। এই মতবাদ অনুযাযী বলা হয়েছে ঋণাত্মক আয়ন পরিবহনের জন্য বিভিন্ন ধরনের আয়ন বাহকের প্রয়োজন হয়। নিচে খনিজ লবণ পরিশোষণের পদ্ধতিটি বর্ণনা করা হলো-
কোষঝিল্লির ভেতরের তলে ডিহাইড্রোজিনেজ বিক্রিয়ার ফলে প্রোটন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন ইলেকট্রনটি সাইটোক্রোম পাম্পের মাধ্যমে কোষঝিল্লির বাইরের দিকে যায় ও মুক্ত হয়। কোষঝিল্লির বাইরের তলে এই মুক্ত ইলেকট্রন ডিহাইড্রোজিনেজ বিক্রিয়ায় উৎপন্ন প্রোটন ও অক্সিজেনের সঙ্গে মিলে পানি উৎপন্ন করে। কোষঝিল্লির ভিতরের তলে সাইটোক্রোমের জারিত লৌহ ডিহাইড্রোজিনেজ বিক্রিয়ায় উৎপন্ন ইলেকট্রন গ্রহণ করে বিজারিত হয়। অতঃপর জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইলেকট্রনটি সাইটোক্রোম পাম্পের সহায়তায় কোষঝিল্লির বাইরের দিকে পৌঁছায়। বাইরের তলে সাইটোক্রোমের বিজারিত লৌহ ইলেকট্রনটি মুক্ত করে জারিত হয় এবং একটি অ্যানায়ন গ্রহণ করে বিজারিত হয়। প্রক্রিয়াটিকে নিম্নরূপে দেখানো যায়-
একইভাবে, জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়ার দ্বারা অ্যানায়নটি সাইটোক্রোম পাম্পের মাধ্যমে কোষঝিল্লির ভেতরের দিকে যায়। বিজারিত সাইটোক্রোম কোষঝিল্লির ভেতরের দিকে গৃহীত অ্যানায়নটি মুক্ত করে। এভাবে একটি ইলেকট্রনের বিনিময়ে ভেতরের দিকে একটি অ্যানায়ন জমা হয়। ভেতরের দিকে অ্যানায়ন জমা হওয়ার ফলে আয়ন প্রকৃতির তথা বৈদ্যুতিক চার্জের যে পার্থক্য হয় তার ফলে ডোন্যান ইকুইলিব্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং চার্জের সমতা আনয়নের জন্য ক্যাটায়ন নিষ্ক্রিয়ভাবে শোষিত হয়।
উদ্দীপকের চিত্র-২ এর অঙ্গটি হলো পত্ররন্ধ্র। পত্ররন্ধ্র উদ্ভিদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণ করে নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
প্রস্বেদন: পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে উদ্ভিদের অধিকাংশ প্রস্বেদনই ঘটে - থাকে। প্রস্বেদনের ফলে মাটি থেকে উদ্ভিদদেহে পানি ও খনিজ লবণ পৌছায়। পানির অনুপস্থিতিতে উদ্ভিদদেহে কোনো ধরনের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন হয় না। শারীরবৃত্তীয় কাজ সঠিকভাবে না চললে উদ্ভিদ সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারবে না, ফলে কোনো এক সময় উদ্ভিদের মৃত্যু ঘটবে।
সালোকসংশ্লেষণ: পত্ররন্ধ্র উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণে বিশেষ অবদান রেখে থাকে। কারণ, সালোকসংশ্লেষণে যে এর প্রয়োজন হয় তা পত্ররন্দ্রের মাধ্যমেই কোষে পৌছায়। সুতরাং পত্ররন্দ্রের অনুপস্থিতিতে উদ্ভিদের গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সালোকসংশ্লেষণ অসম্ভব।
শ্বসন: উদ্ভিদদেহে প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন প্রক্রিয়া শ্বসনেও পত্ররন্দ্র সরাসরি অংশগ্রহণ করে থাকে। শসন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ পত্ররন্দ্রের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে গ্রহণ এবং বায়ুমণ্ডলে ত্যাগ করার মাধ্যমে শক্তি উৎপাদন করে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে সহজেই অনুধাবন করা যায় যে, উদ্দীপকের অঙ্গটি অর্থাৎ পত্ররন্ধ্র উদ্ভিদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।