নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো-
যৌন প্রজননে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলিত হওয়ার ঘটনাই নিষেক।
আমরা জানি, প্রকৃতফল গর্ভাশয় থেকে তৈরি হয় কিন্তু গর্ভাশয়সহ ফুলের অন্যান্য অংশ (যেমন- বৃতি, পুষ্পাক্ষ) পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। চালতার ফুলের গর্ভাশয়সহ অন্যান্য অংশ (যেমন- বৃতি) পৃষ্ট হয়ে ফলে পরিণত হয়। তাই চালতাকে অপ্রকৃত ফল বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত চিত্র-'X' হলো স্ব-পরাগায়ন এবং চিত্র-'' হলে পর-পরাগায়ন। স্ব-পরাগায়ন এবং পর-পরাগায়নের মধ্যে পার্থক্য নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
উদ্দীপকে নির্দেশিত চিত্র-'Y' দ্বারা পর-পরাগায়নকে বুঝানো হয়েছে। পর-পরাগায়ন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে বিভিন্ন ধরনের ফুলের জন্য বিভিন্ন বাইকের প্রয়োজন হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
পরপরাগায়ন হলো একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগ সংযোগ। বিভিন্ন মাধ্যম বা বাহকের মাধ্যমে এটি হতে পারে। যেমন- পতঙ্গের মাধ্যমে জবা, সরিষা ইত্যাদি ফুলের পরাগায়ন ঘটে। পতঙ্গপরাগী ফুল বড়, রঙিন ও মধুগ্রন্থিযুক্ত এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঁঠালো সুগন্ধযুক্ত হয়। বায়ুর মাধ্যমে যেসব ফুলের পরাগায়ন ঘটে সেসব ফুল হালকা ও মধুগ্রন্থিহীন। এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। এদের গর্ভমুণ্ড আঁঠালো ও শাখান্বিত, কখনও পালকের মতো, যেমন- ধান। আবার পানিতে জন্মানো ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। স্ত্রীপুষ্পের বৃন্ত লম্বা কিন্তু পুংপুষ্পের বৃন্ত ছোট। এদের পরাগায়ন ঘটে পানির মাধ্যমে। যেমন-পাতাশেওলা। আবার, কদম, শিমুল, কচু ইত্যাদি ফুল মোটামুটি বড়ো ধরনের হয়। এদের রং আকর্ষণীয় তবে গন্ধ থাকতেও পারে আবার নাও পারে। এসব ফুলের পরাগায়ন সংঘটিত হয় প্রাণীর মাধ্যমে।
অতএব দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন ফুলের বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্যের কারণেই পর-পরাগায়নে ভিন্নতা দেখা যায়।
