নিচের চিত্র দুটি লক্ষ করো-
যেসব স্পিন্ডল তন্তুর সাথে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার সংযুক্ত থাকে সেগুলোই হলো আকর্ষণ তন্তু।
জেনেটিক পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যাঙের একটি প্রজাতি Xenopus tropicalis-এর সম্পূর্ণ ক্রোমোজোম সেট দ্বিগুণ হয়ে টেট্রাপ্লয়েড ব্যাঙ Xenopus laevis প্রজাতির উৎপত্তি ঘটেছে। এই প্রক্রিয়াকে পলিপ্লয়েডি বলা হয়, যা জিন বা ক্রোমোজোমের সংখ্যা বৃদ্ধি করে নতুন প্রজাতি তৈরি করতে পারে।
উদ্দীপকে 'X' ধাপটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজনের শেষ ধাপ টেলোফেজ পর্যায়। নিচে টেলোফেজ ধাপের বৈশিষ্ট্যগুলো চিহ্নিত চিত্রসহ ব্যাখ্যা করা হলো-
টেলোফেজ। নিচে টেলোফেজ ধাপটি বর্ণনা করা হলো-
- টেলোফেজ ধাপটি মাইটোসিসের শেষ পর্যায়। এখানে প্রোফেজের ঘটনাগুলো পর্যায়ক্রমে বিপরীতভাবে ঘটে। ক্রোমোজোমগুলো আবার সরু ও লম্বা আকার ধারণ করতে থাকে। অবশেষে এরা জড়িয়ে গিয়ে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম গঠন করে। নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব ঘটে। নিউক্লিয়ার রেটিকুলামকে ঘিরে পুনরায় নিউক্লিয়ার মেমব্রেনের সৃষ্টি হয়, ফলে দুই মেরুতে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয়। স্পিন্ডলযন্ত্রের কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং তন্তুগুলো ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায়।
এ পর্যায়ের শেষে বিষুবীয় তলে এন্ডোপ্লাজমিক জালিকার ক্ষুদ্র অংশগুলো জমা হয় এবং পরে এরা মিলিত হয়ে কোষপ্লেট গঠন করে। সাইটোপ্লাজমিক অঙ্গাণুসমূহের সমবণ্টন ঘটে। ফলে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্র-Y হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন এবং চিত্র-Z হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। জীবের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চিত্র-Z মাইটোসিস কোষ বিভাজন অধিক ভূমিকা পালন করে।
নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদ বা প্রাণীর ডিপ্লয়েড (2n) জনন মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) জনন কোষ সৃষ্টি করে। জননকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা জনন মাতৃকোষের অর্ধেক হয়।
আবার যখন দুটি হ্যাপ্লয়েড জনন কোষের মিলন ঘটে, তখন জাইগোট (2n) সৃষ্টি হয় অর্থাৎ ডিপ্লয়েড। এভাবে মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রত্যক্ষভাবে জীবদেহের ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রেখে জীব প্রজাতির স্বাতন্ত্রতা বজায় রাখে। অন্যদিকে, মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজনের কারণে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার আয়তন ও পরিমাণগত ভারসাম্য রক্ষিত হয়। এর ফলে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। সব বহুকোষী জীবই জাইগোট নামক একটি কোষ থেকে জীবন শুরু করে। এই একটি কোষই বার বার মাইটোসিস বিভাজনের ফলে অসংখ্য কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে পূর্ণ জীবে পরিণত হয়। মাইটোসিসে সৃষ্ট অপত্য কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ও গুণাগুণ একই রকম থাকায় জীবের দৈহিক বৃদ্ধি সুশৃঙ্খলভাবে হয়। এককোষী জীব মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি করে, মাইটোসিসের ফলে অঙ্গজ প্রজনন সাধিত হয় এবং জননকোষের সংখ্যাবৃদ্ধিতে মাইটোসিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্ষতস্থানে নতুন কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে জীবদেহের ক্ষতস্থান পূরণ করতে মাইটোসিস অপরিহার্য। মাইটোসিসের ফলে একই ধরনের কোষের উৎপত্তি হওয়ায় জীবজগতের গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, জীবের গুণগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মিয়োসিস অপেক্ষা মাইটোসিস অধিক ভূমিকা রাখে।
