| ㅤ | A. Nayan12 Oct 2026 (2 weeks ago) |
সৃজনশীলঃ ‘নিচের চিত্র দুটি…’ যশোর বোর্ড ২০২৩ – জীবপ্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ১ম পত্র (এইচএসসি)

নিচের চিত্র দুটি লক্ষ কর-
সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১ম পত্র · অধ্যায় ১১
একটি অণুজীবে প্রধানত: DNA ছাড়াও ছোট আকারের এক বা একাধিক চক্রাকার DNA উপস্থিত থাকতে পারে। এ চক্রকার DNA অণুকে প্লাজমিড বলে।
প্রচলিত ফসল থেকে GM ফসল উন্নত হয়। GM ফসল হচ্ছে জেনেটিক মডিফিকেশনের মাধ্যমে বিভিন্ন ফসলের রোগ-বালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যে ফসল উৎপাদন করা হয়। এটি উন্নত হওয়ার কারণ:
১. কীটনাশক কম প্রয়োজন হয় বিধায় বিষাক্ত হয় না।
২. সারা বছর উৎপাদন করা সম্ভব।
৩. অল্প জায়গায় অধিক উৎপাদন সম্ভব।
৪. ভাইরাস মুক্ত চারা হতে পাওয়া যায়।
৫. বিষমুক্ত মাটি ও পরিবেশে চাষ করা হয়।
উদ্দিপকের "X" হচ্ছে ইনসুলিন।
ইনসুলিন অগ্ন্যাশয়ের আইলেটস অব ল্যাঙ্গার হ্যান্স এর বিটা-কোষ থেকে ক্ষরিত এক প্রকার হরমোন যা দেহকোষে বিশেষ করে যকৃত ও পেশীতে গ্লুকোজ গ্রহণ ত্বরান্বিত করে। ফলে রক্তে গ্লুকোজ এর মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়। তা হলো ইনসুলিন। জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে ইনসুলিন উৎপাদন প্রক্রিয়াটি নিম্নরূপ-
১। E. coli ব্যাকটেরিয়া হতে বিশেষ পদ্ধতিতে প্লাজমিড বের করে নেওয়া হয়।
২। রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় এমন DNA সংশ্লেষন করা হয় যা ইনসুলিনের A ও B পলিনিউক্লিওপটাইড শৃঙ্খলের ন্যায় নিউক্লিওটাইড বহন করে থাকে। A শৃঙ্খল সংশ্লেষে ৬৩টি এবং B শৃঙ্খল সংশ্লেষে ৯০টি নিউক্লিওটাইড দরকার হয়।
৩। প্লাজমিডের DNA সূত্রকে রেস্ট্রিকশন এনজাইম এর মাধ্যমে কেটে সেখানে সংশ্লেষিত A কিংবা B শৃঙ্খলের জীনকে বসিয়ে DNA লাইগেজ এনজাইমের মাধ্যমে দুপ্রান্তকে জুড়ে দেয়া হয়। প্লাজমিডের এমন জীন অংশটি কাঁটা হয় যা E. coli এর B গ্যালাক্টোসাইডেজ এনজাইম তৈরি করে।
৪ । রিকম্বিনেন্ট প্লাজমিক ট্রান্সফরমেশন পদ্ধতিতে ব্যাকটেরিয়ার কোষে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে উপযুক্ত কালচার মাধ্যমে রাখা হয়। এই মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া আত্মপ্রজনন ঘটিয়ে বৃদ্ধি ঘটানো যায় ।
৫। এ প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য শৃঙ্খল দুটিক সোডিয়াম ডাইসালফোনেট ও সোডিয়াম সালফাইড এর উপস্থিতিতে সালফোনেটিং পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। অতঃপর ডাইসালপাইড বন্ড সৃষ্টির মধ্য দিয়ে শৃঙ্খল-দুটি পুনসংযোজিত হয়। এভাবে উৎপাদিত হয় বিশুদ্ধ ও সংশ্লেষিত মানব ইনসুলিন।
কৃষিতে চিত্র "Y" হচ্ছে টিস্যু কালচার, প্রযুক্তিটির ভূমিকা অপরিসীম।
উদ্ভিদের দেহ থেকে পৃথককৃত যে কোন বিভাজনক্ষম অঙ্গ (যেমন শীর্ষমুকুল, কক্ষমুকুল, কচিপাতা ইত্যাদি) বা টিস্যু দেহের বাইরে সম্পূর্ণ কৃত্রিম ও জীবাণুমুক্ত অবস্থায় বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত পুষ্টি মাধ্যমে আবাদ করে পুর্ণাঙ্গ চারা উদ্ভিদ সৃষ্টি করাকে টিস্যু কালচার বলা হয়। এটি ভুমিকা রাখে-
১। চারা উৎপাদনে: যেসব উদ্ভিদ স্বাভাবিকভাবে বীজ উৎপন্ন করে না (যেমন থুজা, সাগর কলা) বা কোন কারণবশত কমসংখ্যক বীজ উৎপন্ন করে বা স্বাভাবিকভাবে বেশি বীজ উৎপন্ন করলেও কোন প্রাকৃতির কারণে কম সংখ্য চারা পাওয়া যায় (যথাঃ নিম, কদম, জারুল, সেগুন) যেসব উদ্ভিদের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করে বহু চারা উৎপাদন করা যায়। উন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক দেশেই আজকাল ফুল, ফল বা শস্য উৎপাদনকারী যেকোন উন্নত জাতের উদ্ভিদ থেকে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে অধিক সংখ্যক চারা তৈরি করে বিপণন করা হচ্ছে। যেহেতু এসব চারা সরাসরিভাবে দৈহিক টিস্যু থেকে উৎপন্ন হয়, তাই এগুলো হুবুহু এদের মাতৃ উদ্ভিদের গুণসম্পন্ন হয়ে থাকে।
২। সংকর উদ্ভিদ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রোটোপ্লাস্ট মিলন: এ পদ্ধতি প্রয়োগ করে দুটি ভিন্ন প্রজাতির প্রোটোপ্লাস্ট সংযুক্তি ও তা থেকে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সংকর উদ্ভিদ উৎপন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সাধারণ সংকারায়নের ক্ষেত্রে পুং এবং স্ত্রী গ্যামিটের মিলনের সময় পুং-গ্যামিটে সাইটোপ্লাজম খুবই কম থাকে এবং তা স্ত্রী গ্যামিটের বাইরে রয়ে যায়। অর্থাৎ প্রোটোপ্লাস্ট মিলনের মাধ্যমেই সাইটোপ্লাজমের বিশেষ গুণাবলী স্থানান্তরের সুযোগ সৃষ্টি হয়ে থাকে। এরূপ টিস্যু কালচার প্রযুক্তিতে সাধারণ ক্লোরোপ্লাস্ট, মাইটোকন্ড্রিয়া ও রাইবোসোমীয় বৈশিষ্ট্যসমূহের সমন্বয় ঘটিয়ে নতুন জাতের উদ্ভিদ উৎপাদন করা হচ্ছে।
৩। ভ্রুণ কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভিদের কৃত্রিম প্রজনন: সংকর উদ্ভিদ জাত উদ্ভাবনের জন্য ভ্রুণ কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে ভ্রুণ উদ্ধার করে তা পরবর্তীতে গবেষণাগারে আবাদ করা হয়ে থাকে। এভাবেই ভ্রুণ কালচার প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভিদ প্রজননবিদ্যার অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে।
৪। হ্যাপ্লয়েড লাইন: পরাগরেণু ও পরাগধানী কালচার করে উদ্ভিদের হ্যাপ্লয়েড লাইন প্রতিষ্ঠা অনেক টিস্যু কালচার বা উদ্ভিদ প্রজনন গবেষণাগারে নিয়মিত কাজের মাধ্যে রাখা হয়েছে।
৫। উদ্ভিদ সংরক্ষণ: উদ্ভিদ সংরক্ষণকল্পে, বিশেষ করে লুপ্তপ্রায় ও বিরল উদ্ভিদ প্রজাতিকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য আজকাল টিস্যু কালচার প্রযুক্তি সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
৬। মেরিস্টেম কালচার: মেরিস্টেম টিস্যুকে কালচার করে রোগমুক্ত (বিশেষ করে ভাইরাসমুক্ত) উদ্ভিদ পাওয়া সম্ভব হয়েছে। উদাহরণ: টমাটো, শিম ইত্যাদি।
৭। কোষ আবাদ ও ক্যালাস টিস্যু আবাদ্র: কোষ আবাদ ও ক্যালাস টিস্যু আবাদ কৌশলের মাধ্যমে একদিকে দৈহিক ভ্রুণ ও অন্যদিকে অনুচারা ও সোমাক্লোনাল ভ্যারিয়েশনকে কাজে লাগিয়ে উন্নত জাত যেমন গ উদ্ভাবন করা হয়েছে।
৮। অল্প সময়ে অধিক চারা উৎপাদন: টিস্যু কালচার পদ্ধতি প্রয়োগ করে একটিমাত্র উদ্ভিদ থেকে অল্প সময়ে অসংখ্য চারা উৎপাদন করা যায়।
টিস্যু কালচার প্রযুক্তির নানাবিধ কৌশলকে কাজে লাগিয়ে আজকাল উদ্ভিদ প্রজননে এবং উন্নত জাত উদ্ভাবনে ব্যাপক সাফল্য ও সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।